কীটনাশক ও সারের ব্যবহার অর্ধেকে নেমে যেতে পারে, তামাকের তৈরি কম্পোস্ট সারে


ফারুক হোসেন নয়ন,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ
রংপুরের বদরগঞ্জে আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে তামাকের চাষ। এক দিকে কৃষকদের নগদ অর্থের মোহ অন্যদিকে টোবাকো কোম্পানি গুলোর অর্থের লোভ দেখিয়ে উৎসাহ; মূলতঃ এই দুটো কারণেই কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না তামাকের চাষ। তামাকের চাষ হয় তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনের লক্ষ্যে,যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এই তামাক মূলতঃ চাষিরা টোবাকো কোম্পানির কাছে বিক্রি করে অধিক মুনাফার আশায়।

চাষিরা যদি তামাক গাছ হতে সরাসরি কম্পোস্ট সার তৈরি করে জমিতে ব্যবহার করে তাহলে দ্বিগুন ফসলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন; এতে চাষাবাদে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার অর্থ্যাৎ খরচ কমে অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। কৃষি বিভাগের আন্তরিকতা ও নজরদারিতে তামাকের ব্যবহারটি চাষিদের সূফল আনতে পারে।

কম্পোস্ট সার তৈরি সম্পর্কে তিনি জানান; মাটির গর্তে (মাটির পিট) গোবর, ধঞ্চা,কচুরিপানা, খৈল,ঘাসপাতার সাথে কাঁচা তামাক গাছ ১ ইঞ্চি করে কেটে ভাল করে মিশিয়ে মিশ্রিত দ্রব্য মাটির গর্তে ৭০-৮০ দিন রাখতে হবে। মাঝে এক বার মিশ্রিত দ্রব্যগুলো উল্টে পূনরায় মাটির গর্তে রেখে দিতে হবে। পরবর্তিতে এই পিট হতে সার উত্তোলন করে কম্পোস্ট সার হিসাবে জমিতে ব্যবহার করা যায়।

উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; বদরগঞ্জ উপজেলায় আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে তামাকের আবাদ । তবে তামাকজাত দ্রব্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও কম্পোস্ট সার হিসাবে এটি খুবই উপযোগি। তিনি বলেন; এই গাছ জমিতে ১২০-১৩৫ দিন পর্যন্ত থাকে। ঐ সময়ে তামাক গাছ মাটি হতে যে সার মিশ্রিত খাদ্য গ্রহন করে তা গাছের দেহে যৌগিক পদার্থ হিসাবে জমা থাকে। কাঁচা অবস্থায় ঐ গাছ কেটে সার প্রস্তুতের জন্য ব্যবহার করা হলে যৌগিক পদার্থ কম্পোস্ট সারের সাথে মিশে যায়। এতে তৈরি হয় এক সুষম সার। যা অন্যান্য ফসলের জন্য অত্যন্ত উপযোগি।#

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.