শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত উত্তরের জেলাগুলো


অনলাইন রিপোর্ট: ক্রমেই সারা দেশে বাড়ছে শীত। ঘন কুয়াশা আর চারিদিকে বইছে হিমেল হাওয়া। ফলে উত্তরের জেলাগুলো জেঁকে বসেছে শীত। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রয়োজনের বাইরে কেউ ঘরের বাইরে যাচ্ছে না। শীতে ভোগান্তিতে পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা।

সরেজমিনে জানা গেছে, গত দুই-তিনদিনে শীতের মাত্রা বেড়েছে। সন্ধ্যা থেকে পরদিন আধাবেলা পর্যন্ত থাকছে প্রচণ্ড শীতের দাপট। কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড় কিনতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা ভিড় করছে গরম কাপড়ের দোকানে।

এদিকে, আবহাওয়া কার্যালয় বলছে শীতের তীব্রতা আরো বাড়বে যা আগামী তিন থেকে চারদিন অব্যাহত থাকবে। ব্রেকিংনিউজের প্রতিনিধিরা জানান,

লালমনিরহাটের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ নদ-নদী অববাহিকার চার শতাধিক চরের মানুষ শীতের তীব্রতায় দুর্ভোগে পড়েছে। গত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া পরিবারগুলো গরম কাপড়ের অভাবে সবথেকে পড়েছে বিপাকে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকেই। শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় শিশুদের নানা রোগব্যাধি নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন হতো দরিদ্র পরিবারের লোকজন।

দিনাজপুর: গতকালের চেয়ে আরো কিছুটা তাপমাত্রা কমেছে। কুয়াশার দাপট নেই, সকাল ৯ টায় সূর্যের দেখা মিললেও শৈত্য প্রবাহে হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দিনাজপুরে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে তাপমাত্রা নেমে এসেছে।

রাজশাহী: বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার আগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটিই এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে রাজশাহী আবহাওয়া অফিস।

ঠাকুরগাঁ: হিমালয়ের হিমেল ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে এ জেলায়। গত দুই দিন সূর্য দেখা গেলেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে অনেক। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ কাজে যেতে না পেরে অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে।

পঞ্চগড়: হিমালয় কন্যা খ্যাত এ জেলায় দিনরাত ঠান্ডা বাতাস বইছে। হিমেল হাওয়ায় কনকনে শীত জেঁকে বসেছে। সন্ধ্যার পর থেকে বাড়তে থাকে শীতের তীব্রতা। সন্ধ্যা হলেই জনশূন্য হয়ে পড়ছে শহর। দৈনন্দিন আয় কমে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।#

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.