কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের সরিষা চাষীদের মৌ-চাষের প্রশিক্ষন না থাকায় কোটি টাকার বাড়তি উপার্জন থেকে বঞ্চিত

মোস্তাফিজুর রহমান:
কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলার ১৬টি নদ- নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে এবার প্রচুর পরিমান সরিষার আবাদ হলেও শুরু হয়নি সর্বত্র মৌ-চাষ। সরিষা ক্ষেতে মৌ-চাষের প্রশিক্ষন না থাকায় কয়েক কোটি টাকার বাড়তি উপার্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এখানকার সরিষা চাষীরা। ফলশ্রুতিতে সম্ভব হচ্ছে না সরিষার বাড়তি ফলন নিশ্চিত করাও।

গেল বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার কুড়িগ্রামের কৃষকরা বিপুল পরিমানে সরিষার চাষ করেছে। চরাঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে এখন সরিষা ফুলের সমারোহ। সরষে ফুলের মধু আহরনে আসছে ঝাকে ঝাকে মৌ-মাছি তবে সব এলাকায় এখন পর্যন্ত আসেনি মৌ -চাষের ধারণা।

শুধুমাত্র জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে রৌমারী উপজেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৌ-চাষীরা এসে মৌ-চাষ করছেন। অন্যান্য এলাকাগুলোতে প্রশিক্ষণ না থাকায় শুরু হয়নি মৌ-চাষ।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ি এবার জেলায় ১২ হাজার ৮৯৪ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। প্রতিহেক্টর সরিষা ক্ষেতের পাশে ১শ’ টি মৌ-বক্সে মধু চাষ করা সম্ভব। সরিষা মৌসুমে তিন সপ্তাহে প্রতি বক্স থেকে ৯ থেকে ১০ লিটার মধু সংগ্রহ করা যায়। সেই হিসেবে জেলার চাষকৃত সরিষা ক্ষেতের পাশে কমপক্ষে ১২ লাখ মৌবক্স বসিয়ে মাধু চাষ করা সম্ভব। এতে যে মধু সংগ্রহ করা যাবে তা থেকে কমপক্ষে সাড়ে ৭ কোটি থেকে ৮ কোটি টাকা বাড়তি উপার্জন সম্ভব। পাশাপাশি মৌ-মাছির পরাগায়নের মাধ্যমে সরষের ফলনও বৃদ্ধি পায় অনেক।

রৌমারী উপজেলার বাইটকামারীর চরের কৃষক মোত্তালেব মিয়া জানান, আমার ও আমার আশপাশের কৃষকরা এবার প্রচুর পরিমানে সরিষার আবাদ করেছি। তবে মৌ চাষের কোন প্রশিক্ষণ নেই আমাদের। আমাদের সরিষা ক্ষেতের পাশে ময়মনসিংহ জেলা থেকে একদল মৌচাষী এসে মৌচাষ করছে তারা প্রচুর পরিমানে মধু আহরণ করছে।

কুড়িগ্রাম জেলা সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চর মাধবরাম এর কৃষক মোস্তাফিজার রহমান, জোনাব আলী, বাচ্চু মিযা জানান, এবারের বন্যায় তাদের সকল জমির ফসল সম্পূন্ন রুপে নষ্ট হয়ে গেছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বন্যার পানি নেমে যাবার পর চরাঞ্চলের এই বেলে দোঁআশ মাটিতে বারি-১৪ ও বারি-৯ জাতের সরিষার আবাদ করেছেন। এসব জমিতে এখন সরিষা ফুলের সমারোহ। মধু আহরনে আসছে ঝাকে ঝাকে মৌ-মাছি। তবে মৌ-চাষের প্রশিক্ষণ না থাকায় মৌ-চাষ করতে পারছেন না। তার পরেও এবারে সরিষার বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছেন।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিলন চৌধুরী জানান, এবার চরাঞ্চল গুলোতে প্রচুর পরিমান সরিষা উৎপাদনের সম্ভবনা রয়েছে। তবে কৃষক পর্যায়ে মৌ চাষের প্রশিক্ষণ থাকলে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি পরাগায়নের মাধ্যমে আরো বেশি ফলন পাওয়া যেত। প্রতিকুল আবহাওয়ার প্রভাব না পড়লে ও পোকা মাকড়ের আক্রমন না হলে এ বছর জেলায় অন্যান্য বারের চেয়ে বিপুল পরিমাণ সরিষার উৎপাদন সম্ভব হবে। তবে মৌ-চাষ এর প্রশিক্ষণ না থাকায় বিপুর পরিমান আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।#

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.