খরচ কম-লাভ বেশি কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে বাদাম চাষে খুশি কৃষক

মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটসহ সকল উপজেলার নদ-নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে বাদাম চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে স্থানীয় সহস্রাধিক কৃষক। খরচ কম এবং লাভ অধিক হওয়ায় রবি মৌসুমের অন্যান্য আবাদ’র পাশাপাশি ব্যাপক হারে বাদাম চাষ করে লাভবান হচ্ছে এষানকার স্থানীয় কৃষক। আবহাওয়া প্রায় অনুকুলে থাকায় বাদামের ফলন ভালো হওয়ায় বাদাম চাষীদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। বেশি লাভের আশায় বর্তমানে আগাম বাদাম তুলছে কৃষকরা। এবারে সম্প্রতি বন্যায় ব্যাপক পরিমাণে পলি মিশ্রিত বালু পড়ায় বাদামের চাষ হয়েছে অন্যান্য বছেরের চেয়ে অনেক ভালো। বিগত বছরের চেয়ে এবছর আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় কৃষকরা এবার দ্বিগুণ পরিমাণে বাদাম ঘরে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষকরা। জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের আনন্দ বাজার, তৈয়বখাঁর চর, পাড়ামৌলার চর, শিয়াল খাওয়ার চর, গাবুর হেলান, চর খিতাবখাঁ, নাজিমখান ইউনিয়নের রতিদেব চর, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের রামহরি, ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়ার চরসহ চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, দিগন্ত মাঠজুড়ে সবুজ বাদাম গাছের সমারোহ। কালুয়ার চর এলাকার কৃষক আব্দুল মোত্তালেব ও আব্দুস সামাদ জানান, ১২ বিঘা জমিতে প্রায় ৩/৪ মেট্রিক টন বাদাম পাওয়া যাবে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণ বাদাম পাওয়া আশা করছে ওই দুই কৃষক।অন্যান্য চরের বাদাম চাষী কৃষক পিয়ারুল ইসলাম, আব্দুল বাতেন, জাহেরুল ইসলাম, শাহজামাল, মিজানুর রহমান জানান, বন্যায় পলি মিশ্রিত বালু চরে বাদামের ফলন ভালো হওয়ায় আমরা খুশি। আগামীতে আরো বেশি জমিতে বাদাম চাষ করবেন বলে জানান তারা।তৈয়বখাঁ চরের চাষী এনামুল হক বলেন- এ চরে এ বছর প্রায় শতাধিক চাষী বাদাম আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম আবাদে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক বিঘা জমির বাদামে খরচ বাদে ৮/৯ হাজার টাকা লাভ হয়ে থাকে। ফলে ধান ও পাট আবাদের চেয়ে বাদাম চাষ অধিক লাভজনক। তাই কৃষকরা এ আবাদে বেশি ঝুঁকে পড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বাদাম ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে কৃষকরা জানান।

এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা কৃষি অফিসার ষষ্টি চন্দ্র রায় জানান, বাদাম চাষ লাভজনক হওয়ায় রবি মৌসুমে কৃষকরা অন্যান্য আবাদ না করে বাদাম চাষে ঝুঁকে পড়েছে। ওই উপজেলায় গত বছরের ন্যায় এবারও প্রায় ২৮০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শের ফলে বাদামের বাম্পার ফলন আশা করছি আমরা। এতে কৃষকরা খুশি। আগামী মৌসুমে আরো বেশি বাদামের চাষাবাদ হবে বলে আমরা আশা করি।#

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.