ফেনীর চেয়ারম্যান একরাম হত্যা মামলায় ৩৯ জন আসামীর মৃত্যুদন্ড, বিএনপি নেতা মিনারসহ ১৬জন খালাস

 
শেখ আশিকুন্নবী সজীবঃ
ফেনীর আলোচিত ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যা মামলায় আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আদেলসহ ৩৯ জনের মৃত্যুদন্ড প্রদান করেছে আদালত। এছাড়া এ মামলার প্রধান আসামী বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনার, যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিস্টারসহ ১৬ জন আসামীকে খালাস দেয়া হয়েছে।
৬৩ কার্যদিবস শেষে মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টায় ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আমিনুল হক এ রায় প্রদান করেন। এর আগে বেলা ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে মামলার ৩৬ আসামীকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে উপস্থিত করা হয়। ফেনীর রাজনীতির ইতিহাসে আলোচিত অন্যতম এ হত্যা মামলার রায়কে ঘিরে আদালত জুড়ে নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।
হত্যাকান্ডের ১০০ দিনের মাথায় ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। একই বছর ১২ নভেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত।
মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৬ জন আসামির মধ্যে ১৪ জন কারাগারে ও ২৪ জন জামিনে ছিলেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারী জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক এ মামলার জামিনে থাকা সব আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার শুরু থেকে ১০ জন আসামী পলাতক রয়েছেন এবং জামিনে গিয়ে আরও ৯ জন পলাতক হয়েছেন। এ ছাড়া জামিনে থাকা মো. সোহেল ওরফে রুটি সোহেল নামের একজন আসামি ইতিমধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন।

উল্লেখ যে,গত ২০১৪ ইং সালের ২০ মে সকালে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় একরামুল হক একরামকে ফুলগাজী যাওয়ার পথে কুপিয়ে, গুলি করে এবং পরে গাড়ীসহ পুড়িয়ে হত্যা করেন আসামীরা। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ায় একরামের লাশ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ দেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে একরামের লাশ শনাক্ত করা হয়। রাতেই লাশ ফেনীতে একরামের মাস্টারপাড়ার বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরের দিন তিনদফা জানাজা শেষে আনন্দপুর গ্রামের বাড়ির সামনে লাশ দাফন করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় ৫৯ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫০ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৬ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন বিচারিক হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।#

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.