রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চলছে তিন ডাক্তার দিয়ে

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার প্রায় পৌনে দুই লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৯৮৪ইং সালে স্থাপিত হয়। দীর্ঘদিন থেকে চিকিৎসক ও ওষুধ সংকটের কারণে রোগীরা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। বর্তমানেও চিকিৎসক সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। মাত্র তিন জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে উপজেলাবাসীর চিকিৎসা সেবা। ডাক্তার সংকটের কারণে হাসপাতালের অভ্যন্তরীন জরুরি রোগীদের সব ধরণের অস্ত্রপাচার বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ৫০ শয্যা হাসপাতালের ১৮ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে ৬ জন চিকিৎসক রয়েছে। এর মধ্যে আবার তিন প্রেষনে রয়েছে। সব মিলে তিন জন চিকিৎসক দিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মানসম্পূর্ণ চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই অবস্থা ২৮ জন নার্সের পদ থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ১০ জন।

রাণীনগর বাসীর স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১০ইং সালে স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর ১৯ শয্যা বিশিষ্ট তিন তলা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে। ২০১২ইং সালের মার্চ মাসে নির্মাণকৃত ভবনটি হস্তান্তর করা হলেও প্রায় ৬ বছর ধরে মোট ৫০ শয্যার হাসপাতালটি প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোর অভাবে আজও পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু করা সম্ভব না হওয়ায় মানসম্পূর্ণ চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি দিনদিন বেড়েই চলেছে। ভর্তিকৃত রোগীরা চাহিদা মত শয্যা না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা সেবা নিতে বাধ্য হয়। দূর্ঘটনা জনিত কারণে জরুরি রোগী এই হাসপাতালে সেবা নিতে এলে বিষেজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার তরিঘরি করে নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। ধরতে গেলে সব মিলে বর্হিবিভাগ ও আভ্যন্তরীন চিকিৎসা সেবা ডাক্তার সংকটের কারণে বেহাল দশায় পরিনিত হয়েছে। নতুন ভবনের অপারেশন থিয়াটার এবং আগের ভবনের অপারেশন থিয়াটারে কোন ধরণের অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব না হওয়ার কারণে তা এখন বিভিন্ন মালপত্রের গুদাম ঘরে পরিনিত হয়েছে। এমনকি সিজারেশন এর মত অপারেশনও এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা পরিষদ স্থাপিত হওয়ার সাথে সাথে ১৯৮৪ইং সালে উপজেলা সদরের পশ্চিম বালুভরা মৌজায় ৬.২৫ একর জমি সরকার ক্রয় করে প্রথমে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা সঠিক ভাবে প্রদান করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো: ইসরাফিল আলম এমপি’র একান্ত প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নত করার লক্ষ্যে ১৯ শয্যা বিশিষ্ট তিন তলা ভবন নির্মাণ কাজ শেষে ২০১২ইং সালে হস্তান্তর হলেও ওই ওয়ার্ডের জনবল, ওষুধ, রোগীদের খাদ্য সহ অন্যান্য উপকরণ সংকটের কারণে ৬ বছর ধরে নির্দিষ্ট বরাদ্দ না পাওয়ায় আত্যাধুনিক ভবনের কার্যক্রম চালু করতে পারছেন না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান। তবে আশার বাণী চলতি বছরেই শেষের দিকে দেশের অন্যান্য উপজেলার মত রাণীনগর হাসপাতালেও রাজস্ব খাত থেকে বরাদ্দ আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রতিদিন প্রায় বর্হি বিভাগে ৪শ’ ১০/১৫জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এর মধ্য থেকে প্রায় ১৭/১৮ জনের মত রোগী সুচিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। মাঝে মধ্যেই প্রকট আকারে ধারণ করে শয্যা ও ওষুধ। অনেক সময় মেঝে ও বারন্দায় ফেলে চিকিৎসা দিতে হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনী জনবল এবং রোগীদের খাদ্য সরবরাহের অনুমোদন না থাকাই এই ভবনের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। ফলে আন্তঃবিভাগ রোগীদের দূর্ভোগ থেকেই যাচ্ছে। ওষুধ সংকটের কারণে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করাতে হয়। এতে গরিব রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধ কেনে খেতে কষ্ট সাদ্য হয়ে দাঁড়ায়। উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপরেশন থিয়েটার থাকলেও অযতœ আর অবহেলায় তা পরিত্যাক্ত হয়ে আছে। একটি মাত্র পুরাতন এক্সরে মেশিন রয়েছে। তাও অনেক সময় বিকল হয়ে যাওয়ায় এবং ফ্লিম, কেমিক্যাল সরবরাহ না থাকাই রোগীদের বাধ্য হয়ে নওগাঁ জেলা সদরে সরকারি হাসপাতাল সহ বিভিন্ন ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হয়। জনগণের চিকিৎসার স্বার্থে স্থাণীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম এমপি ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে এই এক্সরে মেশিন সচল রাখা হয়েছে। হাসপাতালের ভিতরে বড় মাপের মানসম্পূর্ণ স্টোর রুম না থাকাই নতুন ভবনের আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী অপরেশন থিয়েটার সহ যত্রতত্র মালসামানা ফেলে রাখতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ এসএম নজমুল আহসান জানান, চিকিৎসক মনজুরীকৃত পদ ১৮ জন থাকলেও বর্তমানে এই হাসপাতালে ৬ জন চিকিৎসক রয়েছে। এর মধ্যে থেকে আবার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেষনে রয়েছে। তিন জন ডাক্তার দিয়ে রাণীনগরে বিশাল জনগোষ্ঠীর মানসম্পূর্ণ চিকিৎসা দেওয়া সত্যই কষ্টকর। তারপরও দিন রাত ২৪ ঘন্টা স্বল্প জনবল নিয়ে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছি। এখানকার শূন্য পদ পুরুনের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। আশা করছি তারাতারি এর একটা সন্তোষজনক সমাধান হবে। কিছু তৃতীয় শ্রেণী ও ওর্য়াড বয় সহ কিছু অবকাঠামোগত সমস্যা থাকায় ১৯শয্যা নতুন ভবনটি চালু করা যাচ্ছে না। তারপরও রাণীনগর বাসির যথাযথ চিকিৎসা দিতে আমাদের পেশাদ্বারিত্বের কোন ঘার্তি নেই। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.