নদ-নদী বিধৌত কুড়িগ্রাম জেলার চরাঞ্চলে বিভিন্ন রকমের বাম্পার ফসল


মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রামঃ
কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে করাল গ্রাসি ১৬ টি নদ-নদী ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমর সহ বিভিন্ন নদ- নদীর বুকে জেগে ওঠা ২২ হাজার হেক্টর জমির চরগুলোতে পলি জমায় ফসল হয়েছে বাম্পার। ফসলের মাঠ দেখে আনন্দিত চরাঞ্চলের কৃষক।

চলতি মৌসুমে উজানে কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানা সহ ভুরুঙ্গামারী , নাগেশ্বরী, উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা থেকে ভাটিতে রৌমারি ও রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এসব চরে একই জমিতে এবার চাষ হয়েছে আখ খেতের ভিতর বেগুন ও অন্যান্য ফসলসহ কালাই, কাচা মরিচ, ধনিয়া, গুয়েমুড়ি, ভূট্টা, চিনা বাদামসহ ৬টি অর্থকরি ফসল।

পলি পরা চরের জমিতে ভুট্টা, বাদাম, তিল, চিনা, কাউনধনিয়া, বোরো ধান, আখ, গুয়েমুড়ি, পেয়াজ, গমসহ নানা ধরনের রবি ফসল ফলনের জন্য খুবই উপযোগী। গত বর্ষা মৌসুমে এই চর গুলোতে অথৈ পানিতে ডুবেছিল। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদ-নদীর চরে এখন দেখা যাচ্ছে চোখ ধাধানো বর্ণিল সবুজ ফসল। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মৌসুমের শুরুতে কমর বেধে চরের জমিতে নিরলস ভাবে শ্রম দিচ্ছেন। এখানকার উৎপাদিত ফসল ভাঙ্গন কবলিত মানুষের শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে। তারা ক্ষুধা ও দরিদ্র থেকে মুক্তি এবং সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে জেগে ওঠো চরে কমর বেধে নেমেছে।

খেরুয়ার চরের কৃষক এমদাদুল বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ আমার সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। বন্যায় এক চর ভাঙ্গলেও আমাগো অন্য চরে জেগেছে। নতুন চরে ফসল ভালো হয়েছে। আশা করছি এবারের ফসল দিয়ে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতো পারবো।

কোদালকাটি চরের আলম বলেন, আমি ১০ বিঘা জমিতে সবজি, চিনা বাদাম ধান, গম, ডাল, , রসুন, গুয়েমুড়ি, পেঁয়াজ, তিল, ধনিয়া চাষ করেছি। পলি পড়া জমিতে সব আবাদেই ভালো। হইছে।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুর রশিদ বলেন- চরের আবাদযোগ্য জমিতে কলাই, ভুট্টা, মসলা ধান, সবজিসহ নানা রবি ফসল চাষাবাদ করেছে কৃষকরা। চরের এই জমি গুলোতে কৃষকের বেশি অর্থ খরচ করতে হয় না। স্বল্প খরচে ফসল ফলিয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে কৃষক। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.