ডিমলায় নারী নির্যাতন নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার সংস্থা হিডস

মোঃ আসাদুজ্জামান পাভেল, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধ: নারী নির্যাতনের ইতিহাস সারা পৃথিবীতেই আছে। শুধু যে পুরুষ দ্বারাই নারীরা নির্যাতনের শিকার হয় এমনটা নয় ! খোদ নারীদের দ্বারাও নারীরা নীপিড়িত হবার ঘটনাও কম নয়। যার বেশির ভাগেই থাকে অন্তরালে। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন আমাদের সমাজে প্রতিটি বাড়িতে শাশুড়ি-বৌয়ের অথবা ননদ-ভাবির কিংবা জায়ে-জায়ের প্রত্যক্ষ বা দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। আর এই দ্বন্দ্বের খেসারত দিতে হচ্ছে কত নারীকে তার হিসেব টানা খুবেই দু:সাধ্য। আমরা প্রাসই দেখি গৃহবধূ নির্যাতন, হত্যার যত খবর পত্র-পত্রিকা অথবা অনলাইনে প্রকাশিত হয় তার প্রায় প্রত্যেকটিতে অন্য নারীর সম্পৃক্ততা পায় কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার সংস্থা হিডস’র কাছে অভিযোগের সুত্রে পাওয়া এমনই একটি ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া ৩ নং ওয়ার্ডের নূরল হক ভেদুর একমাত্র পুত্র শরিফুল ইসলামের স্ত্রী গৃহবধূ মোছা. আর্জিনা বেগম (১৯)’র বেলায়। ঘটনার বিবরণ ধরে একই উপজেলার সদর ইউনিয়নের নটাবাড়ী গ্রামের আব্দুল গনীর কন্যা শরিফুলের স্ত্রী গৃহবধূ আর্জিনা জানায়, আমি আমার বাবা-মায়ের ৫ ছেলে আর ৪ মেয়ে সন্তানের মধ্যে ছিলাম সবার ছোট আদরের কন্যা। আমার বড় ভাই-বোনের সবার বিয়ে দিয়ে দিয়েছে বাবা-মা। বাবা বয়সের ভারে বৃদ্ধ হওয়ায় আমার নামে ২ বিঘা করে জমি লিখে দিয়েছে, আমি সবে মাত্র এস.এস.সি পাশ করে এইচ.এস.সির প্রথম বর্ষে পরালেখা করছি, এরই মধ্যে পাশ্ববর্তি এলাকার এক মূরুব্বি আব্দুল মজিদ আমার বিয়ের কথা বলে। একদিন কলেজ যাওয়ার পথে আমাকে বোঝাতে থাকে যে, যার সাথে তোমার বিয়ে দিব সে হচ্ছে এক বাবার এক সন্তান তার তিন বোন। অনেক ভাল পরিবার, অনেক জমি যায়গার মালিক তারা, তার বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে বাড়ীতে কোন ঝামেলা নাই, তুমি খুব সুখেই থাখবে ! তারই এক পর্যায়ে গত ১০-নভেম্বর-১৬ তারিখ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নটাবাড়ী গ্রামের মৃত: সোবাহান উদ্দিনের পুত্র রশিদুল ইসলাম, দক্ষিণ গয়াবাড়ী ইউনিয়নের জহর উদ্দিনের পুত্র খয়বর হোসেন সাক্ষীসহ অনেকের উপস্থিতে (১৬,০০১০১) ১৬ লক্ষ, ১ শত ১ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে আনুষ্ঠানিকতার সহিত বেশ ধুমধাম ভাবে নিকাহ রেজিষ্টার কাজী মোজাফ্ফর আলী বিবাহ রেজিষ্ট্রী করেন, কন্যা পক্ষের উকিল আব্দুল মজিদ’র নিজ বাড়ীতে। বিয়ের এক সপ্তাহ পর আর্জিনার বাবার বাড়ি থেকে কন্যা বিদায়ের আনুষ্ঠিনকতা শেষে শরিফুলের হাতে নববধূ হিসেবে তুলে দেন আর্জিনার মা-বাবাসহ আত্বীয় স্বজন। এর পর চলতে থাকে তাদের সূখের সোনার সংসার। কিন্তু (ঘটক) বর্তমান উকিল শ্বশুর ব্যাঙ আব্দুল মজিদ বিয়ের পূর্বে বলেছিল ছেলের তিন বোন, তা ছিল মিথ্যে কথা ! ছেলের মোট বোন ৮ বোন। তবে সবার বিয়েস্বাধী হলেও একের পর এক ননদ-নন্দীয়াদের চলছে আশা যাওয়া। আর কারনে অকারনে শ্বাশরীর পরামর্শে ননদদের শুরু হয় আর্জিনার উপর মিথ্যে অপবাদ। চলতে থাকে দিনের পর দিন শ্বাশরী-ননদ দ্বারা শাররী-মানষিক নির্যাতন। এ গৃহ-নির্যাতনের ঘটনায় গণ্যমান্য ব্যাক্তিসহ ইউপি চেয়ারম্যান দ্বারা গ্রাম্য শালিসও হয় দুই থেকে তিনবার। গৃহবধূ আর্জিনা আরো জানায় প্রথম পর্যায়ে স্বামী শরিফল ভালই ছিল, কিন্তু প্রতি মাসেই আশে ননদ-ননদীয়ারা তাদের সাথে শ্বাশরীর কু-পরামর্শে সেও শুরু করে দেয় আমার সাথে শাররীক-মানষিক নির্যাতন আর যৌতুক হিসেবে আমার নামে থাকা দুই বিঘা জমি লিখে চায়। বিয়ের ৬ মাস পর সব ধরনের নির্যাতনের মধ্যদিয়ে আমি হয়ে পরি অন্তসত্বা। চারমাস অন্তসত্বা অবস্থায় নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করি। সারো পাঁচ মাস পর সন্তান প্রসোবের ব্যাথা উঠলে বাবার পরিবার থেকে নিয়ে যায় পাশ্ববর্তি উপজেলার ডোমার মাসুম ক্লিনিকে। সেখানে সিজার করে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। পুত্র সন্তানের সূ-খবরটি স্বামীর বাড়িতে দিলেও কেউ আসেনা দেখতে, ৩-৪ দিন পর স্বামী শরিফুল এসে পুত্র সন্তানের খবর বিশ্বাস না করে জিজ্ঞাসা করে ছেলে না মেয়ে হয়েছে ? ক্লিনিক থেকে পুত্র সন্তানকে নিযে আবার ফিরে যাই বাবার বাড়িতে। প্রায় দুই মাস পর সন্তান সহ শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পর আবার শুরু করে নানা ধরনের গালমন্ধ আর শাররীক-নির্যাতন। গত ২৮ এপ্রিল স্বামী শরিফুল, শ্বাশরী শরিফা বেগম, ননদ রোহিমা, গোলাপী, রোকেয়া মিলে ভিষণ শাররীক নির্যানত করলে শরীরের বিভিন্ন যায়গাসহ বামহাতে কব্জির নিচে ফেটে যায়। নির্যাতনের খবর পেয়ে আর্জিনার বাবা ছুটে আসলে এলাকাবাসীসহ আর্জিনাকে উদ্ধার করে ডিমলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন মানবাধিকার সংস্থা হিডস’র রংপুর বিভাগীয় চিপ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর বরাবরে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিয়োগের সত্যতা যাচাইয়ে উক্ত মানবাধিকার সংস্থার নীলফামারী জেলা সভাপতি জাহানারা বেগমসহ একটি টিম ভুক্তভোগীর সাথে পরে তার শ্বশুর বাড়ীতে গিয়ে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতার মিলে। এ বিষয়ে বর্ণনা করেন আর্জিনা ও তার মা আহেমা বেগম, সেই বর্ণনার প্রতিটির সত্যতা মিলে বলে জানান মানবাধিকার সংস্থা হিডস’র টিম। এ ব্যাপারে নির্যাতনের ও নির্যাতনকারীদের উপযুক্ত ন্যায় বিচার দাবী করেন আর্জিনার মা। এ ঘটনায় হিডস’র রংপুর বিভাগীয় চিপ সিরাজ জানান, আমরা ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার পুরোটাই সত্যতা পাই। এ ঘটনায় মেয়েটি যেন ন্যায় বিচার পায় এ জন্য সব রকম সহযোগীতা করবে আমাদের মানবাধিকার সংস্থা হিডস। উক্ত সংস্থার জেলা সভাপতি ও নারী নেত্রী জাহানারা বেগম একই কথা বলে জানান, বিষয়টি খুবই দু:খজনক। এ নারীরা এভাবেই সমাজে লাঞ্চিত বঞ্চিত হয়ে চলেছে। এর সঠিক বিচার কামনা করি। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.