যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা

ইয়ানূর রহমান (যশোর) : যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীরা মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। যাদের কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা। সেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা না দেয়ার কারণে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালের সার্জারি, মেডিসিন, অর্থোসার্জারি, কার্ডিয়াক, লেবার, শিশু, গাইনি, ডেন্টাল সহ বিভিন্ন বিভাগে একাধিক বিশেষজ্ঞ (কনসালটেন্ট) চিকিৎসক রয়েছেন। এ সব কিনিক্যাল বিভাগে যশোর মেডিকেল কলেজের রয়েছেন একাধিক অধ্যাপক ও প্রভাষক। সব মিলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় ৮০ জন। এসব চিকিৎসকগণ হাসপাতালে রুম দখল করে শুধু নেমপ্লেট ঝুলিয়ে রেখেছেন। অথচ, রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের কর্মকান্ড একেবারেই শূণ্যের কোঠায় নেমে গেছে। সার্বক্ষণিক প্রাইভেট হসপিটাল ও কিনিক নিয়ে তারা ব্যস্ত থাকেন। ডিগ্রি নিয়ে প্রাইভেট চেম্বারে ফি-র পরিমাণ বৃদ্ধি করছেন। ৫শ’ টাকা থেকে এখন তারা ৭শ’ টাকা পর্যন্ত ফি বাড়িয়েছেন কিনিকে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা দেয়ার জন্য তারা আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন না।

গত ১ মে ও শব-ই-বরাতের ছুটিতে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হাসপাতালে যাননি। সোলায়মান কবীর ও শিশু বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ হাসপাতালের ওয়ার্ডে রাতে রাউন্ড দিয়েছেন। তাদের ওয়ার্ডে রোগী দেখেছেন। এ ছাড়া আর কোন ওয়ার্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ ভুলেও যাননি। শুধুমাত্র ওই ছুটির সময় নয়। প্রত্যেকদিন রাতে একবার করে হলেও বিশেষজ্ঞ এ সব চিকিৎসকদের হাসপাতালের ওয়ার্ড রাউন্ড দেয়া ও রোগীর চিকিৎসা দেয়ার সরকারি নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ ওই চিকিৎসকগণ আদৌ হাসপাতালে রাউন্ড দিচ্ছেন না।

চিকিৎসাসেবায় ফাঁকি দিতে তারা নানান কৌশল অবলম্বন করছেন। ক্ষমতাসীন দলের চিকিৎসকদের সংগঠন ‘স্বাচিপের ক্ষমতাকেও তারা ব্যবহার করে থাকেন। এ সংগঠনের ছত্রছায়ায় থাকলে বদলি বা অন্য কোন প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তাদের বিরুদ্ধে কেউ নিতে পারেন না। এ দৃষ্টিকোণ থেকে তারা হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ক্লিনিক বাণিজ্যে মেতে রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে অর্থো-সার্জারি বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক ও গাইনি বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক এগিয়ে রয়েছেন। একজন প্রভাষকও রয়েছেন তাদের দলে। তারা রোগীর চিকিৎসা সেবায় মনোযোগ না দিয়ে চিকিৎসকদের ভেতর গ্রুপিং-লবিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি হাসপাতালে কাজে ফাঁকি দেয়া ওই সকল চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তপূর্বক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য রোগী ও তাদের স্বজনরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা হাসপাতালটাকে একটা সিস্টেমের ভেতর আনার চেষ্টা করছি। সবেমাত্র দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। চিকিৎসকদের সাথে আলাপ করে সমস্যার সমাধান করা হবে।#

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.