একই জমিতে তিন ধরনের ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

ফারুক হোসেন নয়ন বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ
একই জমিতে তিন ধরনের ধান বোরো আউস ও আমন চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে বদরগঞ্জের কৃষকদের। একই জমিতে প্রথমে বোরো ধান পরে আউস ও আমন চাষ করা হচ্ছে। তাতে ফলনও বেশ আশানুরুপ হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলশ্রুতিতে একটি জমির যেমন প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে দেশ হচ্ছে খাদ্যে সয়ংসম্পুর্ন।

সরেজমিনে বুধবার(৯মে)উপজেলা ঘুরে দেখা যায়,উপজেলার বিভিন্ন ইউপির প্রান্তিক চাষিরা বোরো ধান কেটে ঘরে নেবার পর ওই জমিতেই আউস ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কথা হয় কালুপাড়া ইউপির কুমারপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান,বোরো ধান কাটার পর ওই জমিতে আউস ধান চারা রোপন করছি। আউস ধান কেটে আবার ওই জমিতেই আমানের চারা রোপন করবো।

তিনি আরও জানান,সরকার আউস ধান চাষে বিনা মুল্যে বীজ ও সার দিয়ে কৃষকদেরকে উৎসাহিত করছেন।

কথা হয় দামোদরপুর ইউপির জেলে পাড়া গ্রামের কৃষক নুরুন্নবী মিয়ার সাথে,তিনি জানান,প্রায় তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান কেটে আউস ধানের চারা রোপন করছি। আশা করছি,ওই জমি হতে বছরে তিন বার ধান পাবো।

তিনি আরও জানান,আউস ধানের ফলনও বেশ ভালো। একর প্রতি ৫৫হতে ৬০মন(৪০কেজি)ধান পাওয়া যায়।

এ দিকে,উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়,গোটা উপজেলায় প্রায় ১১৫ হেক্টর জমিতে আউস ধানের চারা রোপনের লক্ষ্রমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫০হেক্টর জমিতে আউস ধানের চারা রোপনের কাজ শেষ হয়েছে। বাকিটা খুব দ্রুতই শেষ হবে।

আউস ধানের জাতগুলো হল,ব্রি ধান-৪৮,ব্রি ধান-৪৩,বিআর-২৬,হাইব্রিড,বিআর-৩,নেরিকা মিউটেন্ট প্রভৃতি।

কৃষি অফিস সুত্রে আরও জানা যায়,২০ দিন বয়সি চারা জমিতে রোপন করা হয় এবং এই ধান ১শত হতে ১১০ দিনের মধ্যে কাটা সম্ভব। এ কারনে একই জমিতে আমন ধান রোপন করতে কোন সমস্যা হয় না।

বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,একই জমিতে বছরে তিন বার ধান ফলাতে কৃষকদেরকে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। এ কারনে সরকার কৃষকদের মাঝে বিনা মুল্যে সার ও বীজ সরবরাহ করছে। এতে করে কৃষকদের মাঝে আউস ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

তিনি আরও জানান,এই সময়ে রোপনকৃত ধানটি অগাষ্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাটা যাবে। এতে করে আমন ধান রোপনে কোন সমস্যা হবে না।

বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবর রহমান জানান, এ বারে বোরোর সময়টাতে ব্রি ধান-২৮ এ জেলার অনেক জায়গায় নেক ব্লাষ্ট রোগ দেখা দিলেও এ উপজেলায় কৃষি অফিসের সঠিক তদারকির কারনে কৃষকের ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান,একই জমিতে তিন বার ফসল পেতে সরকারিভাবে কৃষকদেরকে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ধানের বিভিন্ন রোগ দমনে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.