মানসিক চিকিৎসার নামে অমানষিক নির্যাতন

মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকেঃ
মানসিক চিকিৎসার নামে চলছে অমানুষিক নির্যাতন। নির্যাতনে অসুস্থ্য হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে একাদ্বশ শ্রেণীর ছাত্র রাকিবুল হাসান রাফি। তিনি কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে মৃত্যুর ক্ষণ গুনছেন। প্রশাসনের নজরদারি এবং তদারকির অভাবে প্রতিনিয়ত ঘটছে এমন অমানবিক ঘটনা।

মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগের চিকিৎসার নামে রংপুরে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল।

কিন্তু অনেক হাসপাতালেই চিকিৎসার নামে রোগীদের উপর চলে নির্যাতন। ভেতরের পরিবেশও বসবাসের অনুপযোগী। আবার অনেক হাসপাতালের নেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন। এরকমই একটি প্রতিষ্ঠান রংপুর মাদকাসক্তি ও মানসিক রোগ নিরাময় কেন্দ্র। যেখানে চিকিৎসার নামে চলে অমানুসিক নির্যাতন। এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারের নজরদারির অভাবে যথেচ্ছা তাই করছে কর্তৃপক্ষ।

রংপুরের আর,কে রোড পর্যটন টেক্সটাইল মিলের সামনে, এই হাসপাতালটি চলছে ৮ বছর ধরে। চিকিৎসা দেয়া হয় মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগীদের। কিন্তু নামে মাদক নিরাময় কেন্দ্র হলেও বাস্তবতায় যেন টর্চার সেল।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর মাদকাসক্তি ও মানসিক রোগ নিরাময় কেন্দ্র গত ৪ এপ্রিল-১৮ইং এই মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি হন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পাঁচপীর ডিগ্রী কলেজের একাদ্বশ শ্রেণির ছাত্র রাকিবুল হাসান রাফি (১৮)। ভর্তির ১৯দিন পর সন্তানকে দেখার জন্য তার পিতা-মাতা তাকে দেখতে গেলে কর্তৃপক্ষ এই রোগীর সাক্ষাত করিয়ে দেয়ার বিষয়টি অপারগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু ওই ছাত্রের মা অনেক আকুতি-মিনতির পর তার ছেলেকে সাক্ষাতের জন্য নিয়ে আসলে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন রাফি। পরে তার উপর শারীরিক অমানুষিক নির্যাতনের চিহ্ন ও বর্ণনা শোনেন বাবা-মা। ছেলের শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে তার বাবা-মা চিকিৎসা নিবে না মর্মে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে রিলিজ নিয়ে ছেলেকে বাসায় নিয়ে আসেন। ২দিন পরেই রাকিবুল হাসান রাফি’র শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কুড়িগ্রামস্থ ডাঃ কে.কে পালকে দেখালে তিনি হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। বর্তমানে সে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ব্যাপক নির্যাতন করায় সে হাঁটতে পারছে না এবং দু’হাতে ব্যাপক পরিমাণ মারপিট করায় হাত নড়াতেও পারছে না। পায়ে লেগেই আছে অমানষিক নির্যাতনের ক্ষত।

রাকিবুল হাসান রাফি’র সাথে কথা হলে সে জানায়, আমি পাগল কিংবা মানসিক রোগী নই। আমাকে প্রতিদিন হাত-পা বেঁধে পিটানো হতো এবং জোরপূর্বক আমাকে সিগারেট খাওতো। আমি না খেলে আমার উপর আরো নির্যাতন চালাতো।

রাকিবুল হাসান রাফির পিতা আব্দুর রহিম জানান-ঘটনার কিছুদিন আগ থেকে আমার সন্তানের আচরণ অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। একদিন এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা না দিয়ে সে গান গাচ্ছিল। পরে আমি তড়িঘড়ি করে রংপুরস্থ মানসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি রংপুর মাদকাসক্তি ও মানসিক রোগ নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করাতে বলেন।

নিয়ম অনুযায়ী এখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু কোন নার্স বা ডাক্তার নেই। ওয়ার্ড বয় যেন এখান সর্বসর্বা। প্রশাসনের পরিদর্শনের খবর পেলেই কেবল ছুটে আসেন ভাড়াটে দুই ডাক্তার রফিকুল ইসলাম এবং আলতাফ হোসেন।

চিকিৎসা নিতে আসা লোকদের অভিযোগ, খাবার দাবারের মান খারাপ। আছে ছারপোকার উৎপাত। আর এসবের প্রতিবাদ করলে চলে শারীরিক নির্যাতন। তবে এরকম অব্যবস্থাপনার মধ্যেও কী করে এত বছর এই হাসপাতালটি চলছে-প্রশ্ন সচেতন মহলের। কি কারণে নীরব স্বাস্থ্য বিভাগ?

এ ব্যাপারে রংপুর মাদকাসক্তি ও মানসিক রোগ নিরাময় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ধনী কুন্ডুকে প্রশ্ন করলে তিনি রাফিকে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। যোগাযোগের জন্য প্রতিষ্ঠান মালিকের মোবাইল নাম্বারটি চাইলে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.