ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে দর্জি শ্রমিকরা

জয়নাল আবেদীন হিরো, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের দর্জি শ্রমিকরা। সৈয়দপুরে ঈদের কেনাকাটা এখনও জমে উঠেনি। কিন্তু দর্জির দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভীর লক্ষ করা গেছে। ঈদকে সামনে রেখে নিজের পছন্দমত গজ কাপড় কিনে তরুন তরুনী, নারী, পুরুষ এমনকি শিশুরাও দর্জির দোকানে ছুটছে। রমজানের শুরু থেকে দর্জি দোকানগুলোতে ভীর দেখা গেছে। শহরের অন্য দোকানে ভীর দেখা না গেলেও দর্জি দোকানগুলো জমে উঠেছে। গ্রাহকদের ভীরে দর্জির দোকানগুলো মুখরিত হয়ে পড়েছে। গ্রাহকদের অর্ডারের চাপে দর্জি শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। শ্রমিকদের দম ফুরোনোর সময় নেই। দিন যতই যাচ্ছে ততই গ্রাহকদের ভীর বাড়ছে এবং শ্রমিকদের ব্যস্ততাও বাড়ছে। সরেজমিনে উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, পাড়া মহল্লা ও শহরের দর্জি দোকানগুলো এবং টেইলারিং দোকানগুলোতে শ্রমিকদের ব্যবস্তা দেখা গেছে। দোকানগুলোতে দিন রাত ধরে কাজ করছে শ্রমিকরা। সারাদিন চলছে সেলাই মেশিনের চাকা। কেউ কাপড় কাটছে, কেউ সেলাই করছে, কেউ বোতাম লাগাচ্ছে আবার কেউ কাপড় ইস্ত্রি করছে। গ্রাহকদের চাহিদামত কাপড় দিতে তারা সারাক্ষণ কাজ করেই চলেছে। তবে টেইলারিং দোকান মালিকদের দাবি বিগত বছরের চেয়ে এবার অর্ডার কম। শহরের শহীদ ডাঃ জিকরুল হক সড়কের লিটন টেইলাসের মালিক প্রোঃ আলামিন জানান, পহেলা রমজান থেকে কাপড় আসা শুরু করেছে। তবে গত বারের চেয়ে এবার অর্ডার কম। এছাড়া শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। ২০/২২ রমজানের পর আর নতুন কাপড়ের অর্ডার নেওয়া হবে না। যত টুকু অর্ডার এসেছে এবং আসছে এগুলো ডেলিভারী দিতে হিমশিম খেতে হবে। আল আমিনের দোকনে কথা হয় কয়েকজন গ্রাহকদের সাথে। তারা জানান, আগেই পছন্দ মত গজ কাপড় কিনে এখানে দিয়েছে। কারণ পরে কাপড় কিনে দিলে ডেলিভারী দিতে পারে না এবং সেলাই ভাল হয় না। তাই আগে ভাগেই সেলাই করতে দিয়েছে। শহরের অন্য টেইলারিং দোকানগুলোতে একই রকম অবস্থা বিরাজ করছে। দর্জির দোকানে বেশি ভাগ কাপড় আসছে শার্ট, প্যান্ট, তরুনীদের থ্রী পিছ ও তরুনীদের ফিটিংস পোষাকের অর্ডার। তবে গ্রাহকদের দাবী ঈদকে সামনে রেখে দর্জি ও টেইলারিং দোকানে মজুরি বেশি ধরছে। মজুরি বেশি করেও বাধ্য হয়ে সেলাই করতে হচ্ছে। তবে সচ্ছল ও মধ্যবৃত্ত পরিবারগুলোই কাপড় তৈরির অর্ডার দিচ্ছে বেশি। তবে মজুরি বেশির কথা অস্বীকার করে দর্জি মালিকরা বলছে শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে গেছে। তাই একটু মজুরি বাড়ানো হয়েছে। তারপরও গ্রাহকদের অর্ডারের কমতি নেই। দর্জি দোকানগুলোতে যতই দিন যাচ্ছে গ্রাহকরা দলে দলে ছুটছে দর্জি পাড়ায়। কারণ একটাই ঈদে নতুন জামা কাপড় পরতে হবে। #

সৌদি আরবে চাকুরী প্রত্যাশী ১০ যুবক প্রতারণা শিকার, সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ৩ প্রতারক আটক

জয়নাল আবেদীন হিরো, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি ঃ চাকরী দেওয়ার প্রভোলন দেখিয়ে সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে প্রতারিত ১০ জন যুবককে উদ্ধারসহ প্রতারক চক্রের তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৈয়দপুর থানা পুলিশ তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

জানা যায়, সৌদি আরবের মক্কাস্থ কনভেনশন হোটেলে চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ১০ যুবকের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় রংপুরের এম এস প্রাইমেক্স ইমিগ্রেশন এন্ড এডুকেশন সার্ভিস নামে প্রতিষ্ঠানের এমডি শরিফুল ইসলাম শরিফ ও তার সহযোগি রফিকুল ইসলাম বকশী।

সকাল বেলায় এই ১০ যুবককে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রংপুরস্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের সন্নিকটে তাদের অফিসে জড়ো করে। যুবকদের সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে নভোএয়ার কোম্পানীর একটি উড়োজাহাজে করে শাহজালাল বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বিকেল সোয়া ৫টায় নিয়ে আসে। কিন্তু তাদের বিমানবন্দরে পৌছানোর আগেই বিমানটি ঢাকা উদ্দেশ্যে ছেড়ে চলে যায়।

এ সময় প্রতারক চক্রের প্রতারণার ঘটনাটি যুবকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশকে বিষয়টি অবগত হয়।

প্রতারক শরিফুল ইসলামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ ফতেপুর তার পিতার নাম একরামুল হক ও রফিকুল ইসলামের বাড়ি গঙ্গাচড়ার বড়বিল এলাকার তছলিম উদ্দিনের ছেলে। এছাড়া প্রতারক চক্রকে সহযোগীতার অভিযোগে নভোএয়ারের টিকিট বিক্রেতা সৈয়দপুর বাঙ্গালীপুর নিজ পাড়া মহল্লার আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুর রহীমকে আটক করে পুলিশ। প্রতারণার শিকার ওই যুবকদের বাড়ি গঙ্গাচড়া, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক শরিফুল ইসলাম যুবকদের সাথে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.