আওয়ামী লীগ সমস্যায় পড়তে পারে ভেতর থেকেই

ডেস্ক নিউজ : সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রার্থিতা ও প্রচারণা নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এবারই প্রথম দলীয় মনোনয়নে মেয়র নির্বাচন। এই তিন করপোরেশনেরই জোটের দিক থেকে তেমন সমস্যায় নেই আওয়ামী লীগ, তবে নিজেদের ভেতর থেকেই একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় সমস্যায় পড়তে হবে দলটিকে। বিশেষ করে সিলেটে এই পরিস্থিতি প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদকদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা ও প্রস্তুতির হাল অবস্থা তুলে ধরা হলো।

সিলেটে অভ্যন্তরীণ কোন্দলই বড় চ্যালেঞ্জ

এখানে ‘আওয়ামী লীগের সমস্যা মূলত আওয়ামী লীগই’ বলছে অনেকে। বিশেষ করে নির্বাচন সামনে রেখে গ্রুপিং রাজনীতি চাঙ্গা হয়ে ওঠায় দলে অস্বস্তি বাড়ছে। গত নির্বাচনে মেয়র পদে একজন মাত্র প্রার্থিতার দাবিদার থাকলেও মনোনয়নপ্রত্যাশী চারজন। একইভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডেও একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। পছন্দের প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিতে বিভিন্নভাবে লবিং গ্রুপিংয়ের প্রভাব পড়ছে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে।

গত নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান একক দাবিদার হিসেবে দলীয় সমর্থন পান। যদিও বিএনপি প্রার্থীর কাছে হারতে হয় তাঁকে। এবার দলীয় প্রতীক নিয়ে আবারও প্রার্থী হতে চান তিনি। তবে এবার তাঁরই কমিটির দুই নেতা নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে লড়তে চান। তাঁরা হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ এবং শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও টানা তিনবারের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। এ ছাড়া সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিমও দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপর রয়েছেন।

বদরউদ্দিন আহমদ কামরান দাবি করছেন, দল থেকে তাঁকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘সিলেট নগরের মানুষের সুখে-দুঃখে সব সময় ছিলাম, আগামীতেও থাকব।’ প্রার্থী হতে ইচ্ছুক আসাদ উদ্দিন আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নগরবাসীও আমাকে স্বাগত জানাচ্ছে।’ নিজের অবস্থান ভালো দাবি করে তিনি বলেন, ‘এখন কেন্দ্র থেকে মাঠের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া সহজ হয়ে গেছে। সে হিসেবে আমি প্রত্যাশা করি দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।’ আজাদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, আমি মেয়র পদে নির্বাচন করি। নগর উন্নয়নে নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবার বড় পরিসরে লাগাতে চাই।’ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিমও। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। তবে দল যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা-ই মেনে নেব।’

কাউন্সিলর পদেও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী। নগরের ২৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দুই বা ততোধিক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন দলটির। সাতটি ওয়ার্ড সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে ১৬ জন প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন, ২ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজন, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই এসব সম্ভাব্য প্রার্থী সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজ নিজ নির্বাচনী ওয়ার্ডে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।

এদিকে ২৯ মে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে দলের বিভিন্ন গ্রুপ নগরে শোডাউন করছে। ওই দিন রাতেই মোটরসাইকেল শোডাউন করে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল বাছিত রুম্মানের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ। এই গ্রুপ কামরানের আশীর্বাদপুষ্ট। পরের দিন মোটরসাইকেল শোডাউন করে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল সমর্থিত ছাত্রলীগের দর্শনদেউড়ি গ্রুপ। গতকাল রবিবার নগরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম তুষারের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের আরেকটি গ্রুপ। এই গ্রুপ সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনের আশীর্বাদপুষ্ট।

নির্বাচন নিয়ে ২০ দলীয় জোট আনুষ্ঠানিকভাবে সভা করে নির্বাচনকেন্দ্রিক আলোচনা শুরু করলেও আওয়ামী লীগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বসতে পারেনি। আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ইফতার মাহফিল উপলক্ষে দুই-তিন দিন আগে সিলেটে এসে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দলীয় নেতাদের নিয়ে কোনো সভা করতে পারেননি।

রাজশাহীতে বাধা হতে পারে বিতর্কিতরা

১৯৯০ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশন গঠনের পর এ পর্যন্ত চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে তিনবারই মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা। মাঝে ২০০৯ সালের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

নগরের অনেক মনে করেন, বিএনপি থেকে সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু (দুইবার নির্বাচিত) ও বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল (একবার) প্রায় ১৯ বছর দায়িত্বে থেকে রাজশাহী নগরীর জন্য যে উন্নয়নকাজ করেছেন, মাঝে এক মেয়াদে পাঁচ বছর দায়িত্বে থেকে আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটন তার চেয়ে বেশি কাজ করেছেন। ফলে ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনের প্রচারণায় লিটনের এই কাজকে সামনে নিয়ে আসছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে বিগত কয়েক বছরে মহানগর আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড কিছুটা হলেও এবার বিপাকে ফেলবে লিটনকে—এমনটি মনে করছে সাধারণ ভোটাররা।

আবার দলের একটি অংশের নেতাকর্মীরা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এখনো ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। ফলে আগামী নির্বাচনে এখানে আওয়ামী প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হলে এসব বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে বলে মনে করছেন অনেকে। দলীয় সূত্র মতে, খায়রুজ্জামান লিটনকে সভাপতি ও ডাবলু সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গঠনের পর সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে এখনো দলের একটি অংশের নেতাকর্মীরা ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ হয়ে আছে।

নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পর ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে মহানগর আওয়ামী লীগের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। তবে নেতারা মনে করছেন, এসবই ছোট ছোট বিষয়। লিটনকে আবারও মেয়র নির্বাচিত করতে নগরজুড়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যক্তি লিটন রাজশাহীর জন্য যা করেছেন, তা নগরবাসী ভুলতে পারবে না। এটিই বড় কাজে দিচ্ছে নির্বাচনে। কিন্তু দলের মধ্যেই অনেকে আছেন এলাকাভিত্তিক বিতর্কিত। প্রয়োজনে তাঁদের বাদ দিয়েই আমাদের প্রচারণা চালাতে হবে। তা না হলে পচা শামুকেও পা কাটতে পারে।’

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমন বলেন, ‘আমাদের দলের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। লিটনের বিগত সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো এবং তিনি আবার মেয়র নির্বাচিত হলে নগরবাসীর জন্য কি করবেন, সেটি সামনে রেখে আমরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি জনগণ গত নির্বাচনে যে ভুল করেছে, আগামী নির্বাচনে সেই ভুল আর করবে না।’

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শফিকুর রহমান বাদশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার নির্বাচনে লিটনকে জয়ী করতে আমরা সবাই একযোগে কাজ করছি। তার পরও দলের মধ্যে যারা বিতর্কিত তাদের নিয়ে প্রচারণা চালাতে গেলে অনেক হিসাব-নিকাশ করে মাঠে নামতে হবে।’

সম্ভাব্য প্রার্থী লিটন বলেন, ‘দলীয় সভানেত্রীর সবুজ সংকেত পেয়ে আমি গত প্রায় ছয় মাস ধরে নির্বাচনের মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের নেতাকর্মীরাও নির্বাচনের জন্য এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে রেখেছে। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা পাড়া-মহল্লায় এরই মধ্যে সভা-উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে নানা কর্মসূচি পালন করেছি।’

নির্বাচনে এবার ৩০টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্তত ১৫০ জন প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বেশ বিতর্কিত; মাদক কারবার ও যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। মহানগর সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হওয়ার দৌড়ে অনেকেই আছেন। তবে আমরা এবার কাউন্সিলর পদেও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী বাছাই করব। আমরা এবার মেয়র পদপ্রার্থীকে বিজয়ী করার পাশাপাশি অন্তত ২০টি ওয়ার্ডে যেন নিজেদের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারি, সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’

বরিশালে সাদিককে ঘিরেই সব আয়োজন

আওয়ামী লীগ সমর্থিত একসময়ের জনপ্রিয় মেয়র শওকত হোসেন হিরণের ২০১৩ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের অনেক কারণের মধ্যে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য দলীয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সংকট ছিল অন্যতম। কাউন্সিলরাই ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। ওই নির্বাচনে ৪০ কাউন্সিলরের মধ্যে আওয়ামী লীগের মাত্র ১১ জন নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন সংরক্ষিত (নারী)।

হিরণের মৃত্যুতে মহানগর আওয়ামী লীগে শূন্যতার সৃষ্টি হয়। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বড় ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এগিয়ে আসায় দলীয় কর্মকাণ্ড চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এ বছরের শুরুতেই মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৩০টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকরা কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে পারবেন না। জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত সাদিকই নিয়েছেন। তিনিই সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সভাপতি-সম্পাদকদের কাজে লাগাতে চান। তাঁরা নিজেরাই প্রার্থী হলে মেয়র পদে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছেন মহানগরের সভাপতি। তবে এতে প্রার্থী হতে আগ্রহী অনেক ওয়ার্ড সভাপতি ও সম্পাদক বেশ ক্ষুব্ধ, যদিও প্রকাশ্যে তাঁরা এ নিয়ে কিছু বলছেন না। জানা গেছে, মহানগর আওয়ামী লীগের কাছে ১০টি ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদকরা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করে গত এপ্রিল মাসে আবেদন করেন। তাঁরা ওয়ার্ডগুলোতে প্রার্থী সংকটের যুক্তি দেখানোয় তাঁদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়। এখন পর্যন্ত ১৫টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মৌখিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে। যার মধ্যে ৯টিতেই লড়বেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক। বাকি ছয়টিতে লড়বেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

নির্বাচন পরিচালনার জন্য আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির পাশাপাশি কেন্দ্রভিত্তিক ইউনিট কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে ১০৪টি ইউনিট কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটি ৬১ সদস্যবিশিষ্ট। পদাধিকারবলে ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-সম্পাদককে ইউনিট কমিটির সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মেয়র নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা করবেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম জাহিদুর রহমান মনির বলেন, ১৮ জুনের আগেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বর্ধিত সভা হবে। ওয়ার্ড কমিটি সভা থেকে তিনজন সম্ভব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর নাম মহানগরে পাঠাবে। মহানগর সেই তালিকা কেন্দ্রীয় মনোনয়ন কমিটির কাছে পাঠাবে। কেন্দ্র থেকেই দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। তবে কাউন্সিলররা দলীয় প্রতীক পাবেন না। তিনি আরো বলেন, মেয়র নির্বাচনে সভাপতি-সম্পাদকরা মাঠে কাজ করবেন। তাই তাঁদের নির্বাচন না করার জন্য বলা হয়েছিল।

সাদিক আবদুল্লাহই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন বলে দলের নেতাকর্মীরা প্রায় নিশ্চিত। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ তাঁর নাম কেন্দ্রে প্রস্তাব করেছে। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তাঁকে মেয়র পদপ্রার্থী করার সমর্থন জানিয়ে কেন্দ্রে চিঠি দিয়েছেন। তাঁকে বিজয়ী করতে নির্বাচনসংক্রান্ত ১০৪টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে আরো একজন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন। তিনি সাংবদিকদের বলেন, ‘এ আসনটি মূলত বিএনপির ঘাঁটি। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইমেজ কাজে লাগিয়ে শওকত হোসেন হিরণ মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আমি সবচেয়ে কম ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরেছিলাম। সেই বিবেচনায় দল যোগ্য প্রার্থী হিসেবে আমাকে সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন দেবে। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.