রাণীনগরে আউশ ধান রোপন শুরু ॥ জমি তৈরিতে ব্যস্ত কৃষকরা

কাজী আনিছুর রহমান,,রাণীনগর (নওগাঁ) :
নওগাঁর রাণীনগরে আউশ (বর্ষালী) ধান রোপন শুরু করেছেন কৃষকরা। ধান রোপন নিয়ে জমিতে হালচাষ থেকে শুরু করে জমি তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন তারা।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে,চলতি আউশ মৌসুমে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এবার ৩ হাজার ২শত হেক্টা জমিতে ধান রোপনের লক্ষ মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এলক্ষে কৃষকরা ইতি মধ্যে কোমড় বেধে মাঠে নেমেছেন । জমিতে হাল চাষ থেকে শুরু করে জমি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন কৃষকরা। এলাকায় ঘন,ঘন বৃষ্টি পাত হওয়ার কারনে কৃষকরা প্রায় সব মাঠেই বৃষ্টির জলাবদ্ধ পানিতেই চাষ করে ধান রোপন করছেন। কৃষকরা বলছেন বৃষ্টির পানিতেই তারা ধান রোপন শেষ করতে চাচ্ছেন। এজন্য তরি-ঘড়ি করে ধান রোপন করছেন তারা। যদিও বোরো মৌসুমে ধান কাটা থেকে শুরু করে মারাই পর্যন্ত কৃষকদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তারা জানান,ওই সময় আবহাওয়া জনিত যে দূর্ভোগ হয়েছে তাতে ধান চাষ করার মত মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। অধিকাংশ কৃষকেরই খলিয়ানে বৃষ্টির পানিতে ধান ভিজে গাছ উঠে যায় । ধান অতিরিক্ত ভিজে থাকার কারনে ধান এবং ধানের ভিতরে চালের কালার নষ্ট হয়ে যায় । ফলে অল্প মূল্যে বাজারে ধান বিক্রি করলেও সময় মতো টাকা পাননি তারা। এহীন প্রাকৃতিক দূর্ভোগে অনেকেই ধান চাষ ছেরে দিবেন বলে “পণ” করলেও “কৃষক” বলে কথা তাই সময় আসলেই আর ঘরে বসে থাকতে পারেননা তারা ।কালীগ্রাম কসবা পাড়ার শিক্ষক খলিলুর রহমান জানান,চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে ধান রোপন করছেন। বোরো মৌসুমে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কথা মনে হলে ধান চাষ করতে আর আগ্রহ হয়না কিন্তু , কৃষক বলে কথা তাই সময় আসলে আর বসে থাকতে পারিনা।উপজেলার কালীগ্রাম,শিলমাদার,ভেটি,করজগ্রাম,বেলঘড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ধান রোপন শুরু হয়েছে । আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ধান রোপন শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম গোলাম সারোওয়ার জানান,চলতি আউশ মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার ২শত হেক্টর জমিতে ধান রোপনের লক্ষ মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে । আশা করছি লক্ষ মাত্রা অর্জিত হবে। ইতি মধ্যে বেশ কিছু এলাকায় ধান রোপন শুরু হয়েছে।#

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.