শুরুতেই হোচট রাণীনগরে খাঁচায় মাছ চাষ সাড়া মিলছে না

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগরে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি শুরুতেই হোচট খাওয়ার কারণে প্রান্তিক পর্যায়ের মাছ চাষিদের কাছে তেমন সাড়া মিলছে না। উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্দ্যোগে প্রথম পর্যায়ে নওগাঁর ছোট যুমনা নদীর কৃষ্ণপুর নামক স্থানে খাঁচায় মাছ চাষ করতে গিয়ে চাষিরা তেমন লাভ করতে না পারাই এই প্রযুক্তিতে মাছ চাষে আগ্রহ নেই বললেই চলে। তারপরও এটাকে সফল করতে মৎস্য কর্মকর্তার উদ্দ্যোগে নতুন করে আবার ওই খাঁচায় মাছ চাষের উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য প্রায় ২০ জন মৎস্য চাষিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি সমিতি তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমেই আর অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দিয়ে আবার প্রকল্পটি চালু করার তোড়জোর চলছে। ইতিমধ্যেই ওই খাঁচাগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কাজ শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার গোনা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর সি.বি.জি মৎস্য সমবায় সমিতির ২০ জন সদস্যকে ২০১৭ইং সালে উপজেলা মৎস্য অফিসের ব্যবস্থাপনায় ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতির উপর মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর মাছ চাষের সকল উপকরণ মৎস্য অফিস থেকে সরবারহ করে ওই সমিতির মাধ্যমে কৃষ্ণপুর নামক স্থানে নওগাঁর ছোট যুমনা নদীতে মাছ চাষ শুরু করা হয়। সমিতির সুবিধাভোগী সদস্যদের নিবির পরিচর্চার অভাবে মাছ গুলো তেমন বড় হতে না পারাই বাজার মূল্যে বিক্রি করে ওই সমিতির কিছু লোকসান হয়। তখন থেকেই তারা এই প্রকল্পের প্রতি অমনোযোগি হয়ে উঠে এক পর্যায়ে এই কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পটি পুন:রায় পুরোদমে চালু করতে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশনায় সি.বি.জি মৎস্য সমিতির কিছু সাংগঠনিক পদ রদবদল করে আবার মাছ চাষের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ওই সমিতির মাধ্যমে মাছ চাষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়। মাছ চাষের নানান উপকরণ, খাদ্য মূল্য অতিরিক্ত, মাছের বিক্রয় মূল্য কম সহ বিভিন্ন কারণে রাণীনগরে খাঁচায় মাছ চাষ প্রকল্প প্রথমেই হোচট খেয়েছে চাষিরা।

সি.বি.জি মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক গৌর চন্দ্র শিল জানান, খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি প্রকল্পটি সত্যই আমাদের বেকার মানুষদের একটি লাভজনক কর্মসংস্থান। কিন্তু গত বছর সমিতির কিছু সদস্যের অবহেলার কারণে আমরা প্রথম পর্যায়ে খাঁচায় মাছ প্রকল্প থেকে লাভ করতে পারিনি। অভ্যান্তরিন কারণে সমিতির লোকজনরা এই প্রকল্পের প্রতি অনিহা দেখানোর কারণে মৎস্য অফিসের নির্দেশনায় সমিতি পুন:গঠন করা হয়েছে। নতুন আঙ্গিকে কয়েকদিনের মধ্যে খাঁচায় মাছ চাষ আবার শুরু করা হবে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাকছুদুর রহমান জানান, খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি অনেক লাভজনক। কৃষ্ণপুরের সমিতির মাধ্যমে আমরা ১৭ সালে রাণীনগরে প্রথম প্রকল্পটি চালু করা হয়। সমিতির লোকজনের কিছুটা অবহেলার কারণে ওখানে মাছ চাষ প্রকল্পটি ভাল ফল বয়ে আনতে পারেনি। নতুন আঙ্গিকে মৎস্য অফিসের ব্যবস্থাপনায় ওই সমিতির মাধ্যমে আবারও মাছ চাষ শুরু হবে। আশা করছি এই বার এখানে ভাল ফল পাওয়া যাবে। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.