দালাল চক্রের কাছে জিম্মি ঈশ্বরদীর পলী বিদ্যুৎ অফিস অনিয়মই যেখানে নিয়ম


ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ॥
বছরের পর বছর দালাল চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে থাকা ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় অবস্থিত ‘পাবনা পলী বিদ্যুৎ সমিতি-১’ এর জোনাল অফিসটিতে এখন আর নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা করা হয় না। সরকারী সকল নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সেখানকার কর্তা ব্যক্তিরা নানা অনিয়ম-দূর্নীতি করে চলছেন তাদের নিয়মেই। এক কথায় বলা যায় অনিয়মই সেখানে নিয়ম! অভিযোগ রয়েছে, উৎকোচ বা দালাল চক্র ছাড়া ওই অফিসে কোন কাজই করেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এসব বিষয়ে ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ করলেই তাদের নানা ভাবে নাজেহাল করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি নতুন সংযোগ নিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হয় কয়েকগুন টাকা। এক কথায় স্বাভাবিক নিয়মে সেখানে কোন কাজ করেন না কর্ত ব্যক্তিরা। সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, পলী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ নেয়ার জন্য ঘুষ ছাড়া তাদের নতুন সংযোগ দেয়া হচ্ছে না। নতুন সংযোগ দেয়ার জন্য পলী বিদ্যুৎ নির্ধারিত টাকা থেকে নানা অজুহাতে আদায় করা হচ্ছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। এই কাজে মধ্যস্থকারীর ভূমিকা পালন করছে পলী বিদ্যুতের ওয়ারিং মিস্ত্রি ও চিহিৃত একটি দালাল চক্র। কোন সমস্যা নিয়ে দাশুড়িয়া পলী বিদ্যুৎ অফিসে গেলেও দালাল চক্র ছাড়া কোন কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করা যায় না। এমনকি দালাল ছাড়া কোন গ্রাহক সরাসরি নতুন সংযোগের জন্য গেলে বা আবেদন করলে তাদের সেই আবেদনের হদিস আর পরে পাওয়া যায় না। দালাল চক্র বাদে একাধিকবার কাগজপত্র জমা দিলেও সংযোগ আর পাওয়া যায় না। এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গ্রাহক জানান, তারা নতুন সংযোগের জন্য কিছুদিন আগে দাশুড়িয়া পলী বিদ্যুৎ সমিতি কার্যালয়ে নির্ধারিত টাকা জমা দেন। কিন্তু কর্মকর্তারা তার সংযোগ দিতে গড়িমসি করেন। সমিতির এক ওয়ারিং মিস্ত্রি সঙ্গে আলাপ হলে তিনি তাকে নতুন সংযোগের জন্য সর্বমোট ৮ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ওয়ারিং মিস্ত্রির হাতে ওই টাকা জমা দিয়ে নতুন সংযোগ পান। এক গ্রাহক জানান, অফিসে কোন সমস্যা নিয়ে গেলে কর্মকর্তারা কথা বলতে চান না, র্দূব্যবহার করেন। কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে কর্মকর্তারা সে কাজ করে দেন অর্থের বিনিময়ে। অভিযোগ রয়েছে, দাশুড়িয়া পলী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোঃ মেজবাহুল হক এই চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত। তিনি ওই অফিসে যোগদানের পর থেকেই এসব অপকর্মের সাথে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে তার ইশারায় এসব অপকর্ম সংঘটিত হয়। একটি সুত্র জানায়, এই অফিসের বকেয়া বিলের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা। সেই বকেয়া বিল আদায় করার জন্য জোর তাগিদ থাকলেও অদৃশ্য কারণে সেই প্রক্রিয়া আগায় না। তিনি সেখানেও গোপনে বাণিজ্য করেন। এছাড়া নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়েও শুধুমাত্র ঘুষের মাধ্যমে নতুন সংযোগ দেয়া হচ্ছে ডিজিএম মেজবাহুল হকের ইশারায়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী ১৩০ ফুটের দুরত্ব সীমানার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও টাকার বিনিময়ে ৪/৫’শ ফুটের বাইরে গিয়েও সংযোগ দেওয়া হয়। অপর দিকে পুরাতন লাইন ও মিটার স্থানান্তরের ব্যাপারে সরকারি কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেন না, নষ্ট মিটার টাকা ছাড়া বদল হয়না । কিন্তু প্রতি মাসে মিটার ভাড়া নিয়া হয় । দালাল চক্র ও কর্মকর্তাদের যোগসাজসে নানা ভাবে অনিয়ম করা হয়। সুত্র জানায়, এই কাজের সাথে প্রতিষ্ঠানের এজিএম (কম) আঃ খালেক, পিউসি রফিকুল ইসলাম, পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম, আহম্মদ আলী, জুনিয়র প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, রেজাউল করিম জড়িত। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে ওই দালাল চক্রের মাধ্যমে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম দিয়ে কাজ করায় যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন এর কথা কাগজ-কলমে দেখানো হলেও তার কতটুকু বাস্তবায়ন করা হয়েছে তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে।

যোগাযোগ করা হলে পাবনা পলী বিদ্যুৎ সমিতি-১ দাশুড়িয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মেজবাহুল হক দালাল চক্রের দৌরাত্বের কথা স্বীকার করে বলেন, নতুন সংযোগের জন্য অতিরিক্ত টাকা গ্রহনের বিষয়টি তার জানা নেই। আর উপরোক্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবী করেন তিনি। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.