ঢাকা বদলে যাবে

ডেস্কনিউজঃ বদলে যাবে ঢাকাডেস্কনিউজঃ সব কিছুই বদলাচ্ছে। ১০ বছর আগের গ্রাম এখন আর সে রকম নেই। আগের সেই শহর এখন অন্যরকম। অন্যরকম মানুষের মন ও মেজাজ। ভালোবাসার চেহারাও এখন বদলে গেছে। চটকদার প্যাকেটে বিপণিবিতানের শোকেসে এখন পাওয়া যাচ্ছে ভালোবাসা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছুই বদলাবে-এটাই স্বাভাবিক।

গণতন্ত্র পাওয়ার প্রত্যাশায় একসময় আমরা বিদ্রোহ করেছি, করেছি যুদ্ধ। অর্জন করেছি স্বাধীনতা, অর্জিত হয়েছে গণতন্ত্র। সময়ের তালে তালে আবার সেই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও চরিত্রের পরিবর্তন ঘটেছে। পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে পরিবর্তন যে হয়েছে তা নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই।

আমাদের প্রাণপ্রিয় শহর ঢাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একসময় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো। এখন আর সে গৌরব নেই। একসময়ের অন্যতম পরিচ্ছন্ন নগরী সেই ঢাকা এখন বিশ্বের অন্যতম অপরিচ্ছন্ন নগরীর একটিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক তার অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছে, ঢাকায় বসবাস খুবই কঠিন হবে। উচ্চ-মধ্যম আয়ের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে ঢাকাকে আধুনিক শহরের মর্যাদা অর্জন করতে হবে। এ মুহূর্তে যার পর্যাপ্ত ঘাটতি রয়েছে। যানজটের কারণে ঢাকায় দিনে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টার অপচয় হয়।

গত ১০ বছরে যান চলাচলের গড় গতি ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার থেকে ৭ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। যেখানে হেঁটে চলার গড় গতি হচ্ছে ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার। এর থেকে পরিত্রাণের পথও বাতলে দিয়েছে তারা। বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার জন্য ঢাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বাংশের বেশির ভাগ এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পূর্ব ঢাকাকে আধুনিক ও উন্নত নগর হিসেবে এখনো গড়ে তোলা সম্ভব। এটি করা গেলে সেখানে অতিরিক্ত ৫০ লাখ লোকের বসবাস ও ১৮ লাখ লোকের নতুন কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে নিশ্চিত করা যাবে।

তারা জানিয়েছে, ঢাকা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। নতুন করে জাতীয়ভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। গুলশান-বারিধারার দিকে তাকালে দেখা যায়, ঢাকা বসবাসের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে এ ব্যয় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের ওপরও তার প্রভাব পড়তে বাধ্য।

আমরা মনে করি, এ মুহূর্তে একমাত্র যানজট সমস্যাকে ঢাকা থেকে বিদায় করতে পারলে অনেক সমস্যার নিয়ন্ত্রণ সহজতর হবে। দিনে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা পেলে সম্ভবত বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা রাতারাতি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। আমরা আমাদের বিশ্বাসের ইতিবাচক প্রতিফলন দেখতে চাই, দেখতে চাই সুখী-সমৃদ্ধ এক বাংলাদেশ। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.