সুর্যাপুরী আমের কেজি ১০ টাকা

মো:জুনাইদ কবির, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে জেলার ঐতিহ্যবাহী সূর্যাপুরী পাকা আম। তবে কাঁচা আমাদের দাম ১৫-২০ টাকা। পাশাপাশি তেমন দাম নেই অন্যান্য জাতের আমগুলোর। হিমসাগর, বারি-৪, ল্যাংরা, হাড়িভাঙ্গা, গোপালভোগসহ আরও ১৫-২০ প্রজাতির পাকা আম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪৫ টাকা কেজি দরে এবং কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৫৫ টাকা কেজি দরে।

খোজা নিয়ে জানা গেছে, বিগত মৌসুম গুলোতে ধান, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলে এলাকার কৃষক ন্যার্য মূল্য না পাওয়ার কারণে এ বছর প্রচুর পরিমাণ আম চাষ করেছে। কিন্তু আমের ফলন ভাল হলেও দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন আম চাষীরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন মাহমুদ জানান, চলতি মৌসুমে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রায় ১২শ চাষী ৪৩১ হেক্টর জমিতে বাগান করে ব্যবসায়ীক ভাবে আমচাষ করেছেন। যারমধ্যে ১৩০ হেক্টর জমিতেই সূর্যাপুরী আম রয়েছে। উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি আমচাষ হয়েছে বলে জানান তিনি।

আম ক্রেতা আজাদ আল শামস বলেন, আমের দাম কম শুনে বাজারে এসেছিলাম। কিন্তু এত দাম কম ভাবিনি। জেলার ঐতিহ্য সুর্যাপুরী আম। সেই আমের কেজি ১০ টাকা। গত বছরে যার প্রতি কেজির মূল্য ছিল ৫০-৮০টাকা।

বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কাশুয়া গ্রামের আমচাষী জামাল উদ্দীন বলেন, বিদেশ থেকে এসে এ বছর ১শ বিঘা জমিতে সুর্যাপুরী, বারি-৪, হিমসাগর ৩টি জাতের আমচাষ করেছি। প্রতিমণ আম উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১২শ টাকা। কিন্তু বর্তমানে আমের বাজারমূল্য ৬-৭শ টাকা।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শাফীয়ার রহমান বলেন, ফল হিসেবে আমের গুনাগুন অনেক। আম মানুষের দেহের জটিল রোগ নিয়ন্ত্রণসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। চলতি বছর এলাকার প্রচুর আম চাষ হয়েছে এবং দিন দিন এ এলাকার মানুষ আম চাষের দিকে ঝুঁকছে। আম সুষ্ঠুভাবে বাজারজাত করণের অভাবে আমের মূল্য এ বছর বলে আমি ধারণা করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আঃ মান্নান বলেন, আমচাষ, জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে বালিয়াডাঙ্গীর ঐতিহ্য সূযাপূরী আম নিয়ে ব্র্যান্ডিং করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা এ জন্য একটি সুন্দর পরিকল্পনা তৈরি করছি। পরিকল্পনা প্রস্তুত করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে পাঠানো হবে।

জেলা প্রশাসক আখতারুজ্জামান কিছুদিন পূর্বে সূর্যাপুরী আম আনুষ্ঠানিক ভাবে সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বলেন, সরকারের নির্দেশে প্রতিটি জেলায় একটি করে পণ্যের উপর ব্র্যান্ডিং করবে জেলা প্রশাসন। এ ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে ওই পন্যের নামে পরিচিতি অর্জন করবে সেই জেলা। ঠাকুরগাঁও জেলায় সুর্যাপুরী আম বিখ্যাত। তাই জেলা প্রশাসন সূর্যাপুরী আমের জেলা হিসেবে এই জেলাকে পরিচিত করার জন্য কাজ শুরু করেছে। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.