মাশরুম চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন সৈয়দপুরের হাফিজুর


জয়নাল আবেদীন হিরো, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
মাশরুম চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলার হাফিজুর রহমান গামাসহ তার সহধর্মীনি সুকরিয়া বেগম। সরকারের সহযোগিতা ছাড়াই গত ১০ বছর থেকে সামান্য কিছু জমিতে মাশরুম চাষাবাদ করে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাচা সহ শুকনা মাশরুম সরবরাহ করে চলেছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নে লক্ষণপুর গ্রামের বিএসসি বাজার সংলগ্ন হাফিজুর রহমানের বিশাল এক মাশরুম বাগান। এর পাশে রয়েছে ঔষধ তৈরির গবেষণাগারসহ খাদ্য বিক্রির স্টল। গবেষণাগারে তৈরি করা হচ্ছে মাশরুম বড়ি ও মাশরুম পাউড়ার। পাশাপাশি কাচা মাশরুম দিয়ে মাশরুম ফ্রাই, মাশরুম রোল, মাশরুম সুপ ও মাশরুম আচার তৈরি করা হচ্ছে। রুচিশীল ও গুনাগুনে ভরা ওই সব মাশরুম খাদ্য খেতে উপচে পড়া ভীর ও লক্ষ করা গেছে।

হাফিজুর রহমান গামা বলেন, মাশরুম চাষাবাদ, ঔষধ তৈরি সহ খাদ্য পরিবেশনে ব্যাপক সুনাম অর্জন করলেও অর্থনৈতিক সফলতা প্রায় শুণ্যের কোঠায়। তবে সরকার যদি এক কালীন মোটা অংকের ঋণ দিতেন তাহলে তিনি সৈয়দপুরে একটি বিশাল মাশরুম পার্ক তৈরি করতে পারতেন। সেখান থেকে উৎপাদিত মাশরুম দিয়ে রোগ প্রতিরোধক ঔষধ তৈরি করার পাশাপাশি পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাদ্য পরিবেশন করে অর্থনৈতিক সফলতা অর্জন, শিক্ষিত ও অর্ধ শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন। তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে মামা ভাগ্নের সম্পর্ক নেই বলে উন্নয়নের শতভাগ সম্ভাবনার পরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে কোন প্রকার ঋণ প্রদান করছেন না। ২০১০ সালের ১৮ মে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ উপকেন্দ্রের অধিনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক কৃষি মন্ত্রণালয় হটি কালচার সেন্টার দিনাজপুরে ট্রেনিং নিয়ে তিনিসহ তার স্ত্রী ও সন্তান প্রতায়ন পত্র পেয়েছেন। শুধু মাত্র নিজের অর্থসহ চেষ্টায় এতদুর এগিয়েছেন তিনি। সরকারের মোটা অংকের অর্থ পেলে তিনি মাশরুম চাষে মহা বিপ্লব ঘটাতে পারবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

কৃষি কর্মকর্তা হুমায়রা মন্ডল বলেন, হাফিজুরের মাশরুম বাগান তিনি দেখতে গিয়েছেন। নিজের অর্থ ও চেষ্টায় মাশরুম চাষাবাদ করে ব্যাপকতা অর্জন করা যায়, তার দৃষ্টান্ত হলো হাফিজুর রহমান। সরকারের তরফ থেকে মোটা অংকের অর্থ দেওয়া হলে তিনি আসলেই বড় ধরনের মাশরুম পার্ক সৃষ্টি করতে পারবেন বলে জানান তিনি। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.