ঠাকুরগাঁওয়ে ভার্মি কম্পোস্ট

মো: জুনাইদ কবির,ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
গোবর, কলাগাছ ও কচুরিপানা মিশ্রিত কেঁচো চাষে তৈরি হয় ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো কম্পোস্ট সার। চাকুরীর বাইরের সময়টুকু কাজে লাগিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন মাহমুদ ছোট পলাশবাড়ী গ্রামের নিজ বাড়ীতে উৎপাদন করেছেন “ভার্মি কম্পোষ্ট”। উৎপাদিত এ “ভার্মি কম্পোষ্ট” সার ইতিমধ্যে সাড়া ফেলেছে এলাকায়। উৎপাদিত এ সার ব্যবহার করে ইতিমধ্যে উপকৃত হয়েছেন এলাকার অনেক কৃষক। দিন দিন “ভার্মি কম্পোষ্ট” সারের চাহিদা বেড়েই চলেছে এমনটাই জানালেন তিনি। কৃষকদের “ভার্মি কম্পোষ্ট” সারের সুবিধা এবং অবসর সময়ে নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে গত বছরে বাড়ীতে শুরু করেন “ভার্মি কম্পোষ্ট” সার উৎপাদন। ইতিমধ্যে এলাকার দেড়শতাধিক কৃষক ও বাড়ীর সৌখিন ছাদ বাগানে প্রেমি কয়েকজন চাকুরীজীবিরা এ সার ব্যবহারের সুফল পাচ্ছেন।

এই সার প্রস্তুতপ্রণালী সম্পর্কে তপন মাহমুদ জানান, বাড়ীর খামারের গরুর গোবর একত্রিত করে বায়োগ্যাস প্লান্টে দিয়ে সেই গ্যাস রান্নার কাজে ব্যবহার করেন। গ্যাস ব্যবহার শেষে প্লান্টের গোবরের সাথে কলাগাছ ও কচুরিপানা কেটে মিশ্রিত করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে কয়েকদিন রাখার পর “ভার্মি কম্পোষ্ট” তৈরির জন্য নির্ধারিত স্থানে পরিমাণগত কেঁচো ছেড়ে দিতে হয়। তিন সপ্তাহ পর নেটে চালাই করে কেঁচো সার আলাদা করা হয়।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কেঁচো সার প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ টন উৎপাদন করছেন। যার বাজার মূল্য প্রতিটন ১৫ হাজার টাকা আর প্রতি কেজিতে বিক্রি করেন ১৫ টাকা। এছাড়া কেঁচো দ্রুত বংশবৃদ্ধি করায় সেই কেঁচো বিক্রি করেও বাড়তি আয়ও করেন তিনি।

এ সম্পর্কে সবজি চাষী আইয়ুব আলী বলেন, আমরা অনেকেই ভাবতামই না যে, আমাদের এলাকায় সারাবছরই মৌসুমি সবজি চাষাবাদ করা সম্ভব। বর্তমানে আমাদের গ্রামের বেশক কয়েকজন কৃষক সারাবছর সবজি চাষ করছেন।এ সার ব্যবহারে সবজির রং ভালোর পাশাপাশি সবজিতে পোকামাকড় ও রোগবালাই কম হয়। রসায়নিক সারের চেয়ে “ভার্মি কম্পোষ্ট” সার কম ব্যবহারে সবজিতে খরচ কম এবং বাজারে সবজির চাহিদাও থাকেব তুলনামূলক বেশি।

অনলাইনে “ভার্মি কম্পোষ্ট” সার ক্রয় করা ঢাকা শহরের ছাদ বাগানী রাশেদুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, ইতিপুর্বে ভেজাল “ভার্মি কম্পোষ্ট” কিনে সুফল পায়নি। পরে তপন ভাইয়ের নিকট অনলাইনে যোগাযোগ “ভার্মি কম্পোষ্ট” ক্রয় করি। এর আগে টবে প্রতিদিন পানি দিতে হতো। কিন্তু এই সার ব্যবহার করার পরে, পানি ৪-৫ দিন পরপর দিলেই হয়। তাছাড়া, গাছগুলা আরো সতেজ ও দেখতে ভালো দেখাচ্ছে। আর, ফল গাছে ফল আসছে, ফুল গাছে নিয়ম-মত ফুল দিচ্ছে।

এছাড়াও আমি এই সারের কিছু অংশ আমি পানিতে ভিজিয়ে রাখি। প্রতি ১ সপ্তাহ পরপর আমি ঐ পানিটা গাছের গোরায় দেই। আল্লাহর রহমতে আমার গাছগুলা ভালো আছে। উন্নত ও সঠিক ভার্মিকম্পোস্টি দেওয়ার জন্য তপন মাহমুদকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

দুওসুও আমতলা গ্রামের কৃষক মনিরাম বলেন, যেগুলো পেপে গাছের পেপে মিষ্টি হয়না, সেগুলো “ভার্মি কম্পোষ্ট” সার ব্যবহার করলে মিষ্টি পাওয়া যাবে।

এ নিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাফীয়ার রহমান বলেন, আমি যখন বালিয়াডাঙ্গীতে ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদনে প্রথম পদক্ষেপ নেই, তখন তপন মাহামুদ আমার কাছে আগ্রহ প্রকাশ করে যে সে নিজেও উৎপাদন করবে। আমি তাকে সব রকম সহায়তা করি। সে আজ সফল। এই উপজেলার সব যুবকরাই বাড়তি আয়ের জন্য ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদন করতে পারে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার্বিক সহায়তা দিবে।

গত সপ্তাহে ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) মাজেদুল ইসলাম “ভার্মি কম্পোষ্ট” পরিদর্শনে এসে বলেন, তপন মাহমুদের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত “ভার্মি কম্পোষ্ট” সার এলাকার কৃষকসহ ছাদ কৃষি প্রেমিকদের চাহিদা পূরণ করছে। এটি অবশ্যই একটি প্রশংসনীয় কাজ।

এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন মাহমুদ জানান, রসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে দিন দিন মাটি তার নিজ উর্বরাশক্তি হারাচ্ছে। মাটির উর্বর শক্তি ফিরিয়ে আনতে ভার্মি কপোষ্ট সারের গুরুত্ব ব্যাপক। মাটির উর্বর শক্তি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদনে উৎসাহিত করতে কারীগরি সহায়তার পাশাপাশি বিনামূল্যে কেঁচো সরবরাহ করবেন তিনি। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.