পার্বতীপুরে মেধাবী ছাত্রী মোর্শেদার স্বপ্ন পুরণে বড় বাধা দারিদ্রতা, একমাত্র গরু বেচে কোচিংয়ে ভর্তি

সোহেল সানী,
মানুষ আশা করে। স্বপ্ন দেখে। আশা আর স্বপ্নের সম্মিলন ঘটাতে নিরন্তর পরিশ্রম করে যায়। এভাইে সে সাফল্যের শেষ ধাপে পা ফেলে। কিন্তু সব আশা মানুষের পুরণ হয় না। স্বপ্নও থেকে যায় অধরা। সাফল্যের শেষ ধাপেও পা ফেলা হয়ে ওঠে না সবার। প্রয়োজন হয় অর্থের। সেই অর্থাভাবে শেষ পর্যন্ত উচ্চ শিক্ষার দারপ্রান্ত থেকেই হয়তো ফিরে আসতে হবে পার্বতীপুরের মেধাবী ছাত্রী মোর্শেদা খাতুনকে।

আজ রবিবার দুপুরে নিজ কুঁড়ে ঘরে সংবাদকর্মীদের সাথে আলাপকালে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে এ শংকার কথা জানাচ্ছিলেন তার বাবা মোফাজ্জল হোসেন (৬০)। এসময় তার গাল বেয়ে অশ্র“ ঝরতে দেখা যায়। তিনি জানালেন, ৬ শতক বাস্তুভিটে ছাড়া আমার কোন সম্পত্তি নেই।

বাবা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, কষ্টের সংসারে বহুবার তার পড়া-শুনা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু জিপিএ-৫ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর মেয়ের কান্নাকাটির কারনে বাধ্য হয়ে এখনো তার পড়া-শুনা চালু রেখেছি। তার ইচ্ছা পুরণ করতে গিয়ে এবার বাড়ীর একমাত্র পোষা গরু বিক্রি করে ১০ হাজার টাকায় তাকে রংপুরে একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি করে দিয়েছি। প্রতি মাসে তার পেছনে ৩ হাজার টাকা খরচ যোগাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে সে ডাক্তারী কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও তাকে পড়ানোর সামর্থ্য আমার নেই। এনিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় আমার সময় কাটছে।

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম খোঁড়াখাই ঘাটপাড়ার দিনমজুর পিতার একমাত্র মেয়ে মোর্শেদা খাতুন (১৫)। বাবা দিন মজুরের ও মা জাহেদা (৪৫) ঝি’য়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মোর্শেদা খাতুন সবার ছোট। অভাব অনটনের কারনে বড় দুই ভাই মিলন (৩০) ও এজামুল (২২) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরুতে পারেনি। কিন্তু শিশুকাল থেকে অদম্য ইচ্ছা ও আন্তরিক চেষ্টায় মোর্শেদা সাফল্যের সাথে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার ধাপ পেরিয়ে এখন ডাক্তার কিংবা প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তার স্বপ্ন পুরণের পথে বড় বাধা এখন দারিদ্রতা।

জানা গেছে, ছোট বেলা থেকেই মোর্শেদা পড়া-শুনায় খুবই মনোযোগি। পঞ্চম শ্রেণির সমাপনি পরীক্ষায় সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে। এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পার্বতীপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে সে উত্তীর্ণ হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালে স্থানীয় রোস্তমনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সে জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করে।

মোর্শেদা খাতুন (১৫) বলেন, আমি ডাক্তার কিংবা প্রকৌশলী হতে চাই। এজন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করি।

পার্বতীপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ গোলাম রসুল বলেন, মোর্শেদা একজন মেধাবী ছাত্রী। বলা যায় নিজের চেষ্টায় সে এতো দুর এসেছে। আমাদের সবার সহযোগিতা পেলে সে নিশ্চয়ই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.