বাগেরহাটে মোংলা ও শরণখোলা বিশ্ব বাঘ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা সভা

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট অফিস:
বাগেরহাটে বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবন এবং সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদী রক্ষার দাবি জানিয়ে মোংলা ও শরণখোলা উপজেলায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হয়েছে। রবিবার সুন্দরবন বিভাগ, ওয়াইল্ড টিম, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচী পালিত হয়। রবিবার আবাসস্থল সুন্দরবন এবং সুন্দরবনের প্রান পশুর নদী রক্ষার দাবী জানিয়ে বিশ্ব বাঘ দিবসে মোংলার কলেজ রোডে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পশুর রিভার ওয়াটারকিপার বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা’র বাগেরহাটের সমন্বয়কারী মো. নূর আলম শেখ।

দুপুরে মোংলা সরকারি কলেজে’র ফাদার রিগণ লাইব্রেরী মিলনায়তনে ‘সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ শীর্ষক শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫০জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা শেষে কলেজ মিলনায়তনে বেলা ১২টায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট-৩ আসনের এমপি হাবিবুন নাহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হ্ওালাদার, শিক্ষাবিদ সুনিল কুমার বিশ্বাস ও মোংলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. গোলাম সরোয়ার। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি বেগম হাবিবুন নাহার এমপি শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করেন।

এদিকে শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবন সংলগ্ন খুড়িয়াখালী বাজারে দুপুরে র‌্যালি শেষে স্থানীয় খুড়িয়াখালী সরকারি প্রাথামিক বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। খুড়িয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. ফারুকুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ওয়াইল্ড টিমের ফিল্ড অফিসার আলম হাওলাদার, ভিটিআরটি বাঘ বন্ধু আবুল আসলাম তুহিন বয়াতি, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রব আকন প্রমূখ।

কর্মসূচীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন। বাগেরহাটে দুটি আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবন কেবল বাংলাদেশ’র সম্পদ নয় এটা বিশ্ববাসীর সম্পদ। এর ক্ষতি করার কোন অধিকারই আমাদের নেই। আমরা এই বনের গর্বিত অভিভাবক। এই গর্বের সাথে জড়িয়ে আছে বন রক্ষার আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। দেশ ও তার জনগণ-প্রকৃতি-সম্পদ-অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের স্বার্থে আমাদেরকে সুন্দরবন সুরক্ষার জন্য প্রবলভাবে উদ্যোগী হতে হবে।#

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.