নওগাঁর রাণীনগরে বর্ষালী ধান কাটার ধুম, বিঘা প্রতি লোকশান প্রায় ৪ হাজার টাকা

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগরে বর্ষালী ধান কাটার ধুম পরেছে। একদিকে ধান কাটা-মাড়াই,অন্য দিকে ধান লাগানোর তাড়া-হুরো, সব মিলে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন কৃষকরা। তবে এবারে ধানের ব্যপক ফলন বির্পযয় এবং বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বিঘা প্রতি প্রায় আড়াই থেকে চার হাজার টাকা লোকশান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।এতে করে আগামী বর্ষালী আবাদে আগ্রহ হারাতে পারেন তারা।

জানা গেছে,রাণীনগর উপজেলার পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার ২শত ২০ হেক্টর জমিতে বর্ষালী ধানের আবাদ করা হয়েছে। ধান রোপনের শুরু থেকেই বৈরি আবহাওয়া এবং বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হবার কারনে ধানের গাছ দূর্বল হয়ে পরে। বৃষ্টির কারনে কিছুটা ধানের রোগ সারলেও আশানুরূপ গাছ হয়নি ফলে ধানের ব্যপক ফলন বির্পযয় দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলছেন,গত বর্ষালী আবাদে বিঘা প্রতি ১৪ থেকে ১৮ মন পর্যন্ত ধানের ফলন হলেও এবার সেই ধান ৮ থেকে ১২ মন হারে ফলন হচ্ছে । তারা বলছেন,এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে জমিতে হাল চাষ থেকে কাটা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। গত বছর এ মৌসুমের ধান সাড়ে ৭শত থেকে ৮শত টাকা প্রতি মন ধান বিক্রি হলেও এবার বাজারে ধান কাটার শুরুতেই প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে ৫শত থেকে ৬শত ২০ টাকা দরে। ফলে উৎপাদন খরচ এবং ধানের ফলন বির্পযয়ের কারনে বিঘা প্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা করে লোকশান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। উপজেলার কালীগ্রাম কসবা পাড়ার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান,তিনি এবার প্রায় ১০ বিঘা জমিতে ধান রোপন করেছেন। ধানের ফলন গড় প্রায় ১১ থেকে ১২ মন হারে হচ্ছে । শিলমাদার গ্রামের গোলাম রাব্বানী জানান,তিনি এবার প্রায় সাড়ে ১৪ বিঘা জমিতে বর্ষালী ধান রোপন করেছেন। ইতি মধ্যে প্রায় ৫/৬ বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে । তার জমিতে গড়ে প্রায় ৮/৯ মন হারে ধানের ফলন হচ্ছে । তিনি জানান,বাজারে ৫ থেকে ৬শত ২০ টাকা দরে ধান বিক্রি করে বিঘা প্রতি প্রায় আড়াই থেকে চার হাজার টাকা করে লোকশান হবে।

এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ শহিদুল ইসলাম জানান,বর্ষালী ধানের এমনিতেই ফলন একটু কম হয়। তার পর কৃষকরা যেভাবে বলছেন,তাতে এতদুর নয় তবে ফলন কিছুটা কম হচ্ছে ।তাছাড়া প্রতি বছর একই রকম ধান রোপন করলে এরকম হতে পারে। তবে আগামী মৌসুম থেকে ব্রি ধান ৪৮ রোপন করলে গড় প্রায় ১৮মন হারে বিঘা প্রতি ফলন পাওয়া যাবে। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.