ছাতকে আনসার কমান্ডার ফারুক আহমদ পোল্ট্রি ও ফিড ব্যবসায় সফল


হেলাল আহমদ, ছাতকঃ
ছাতক উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডার ফারুক আহমদ আত্মকর্মসংস্থানে এক সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বর্তমানে নিজ এলাকায় একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। ১৯৯২সালে এসএসসি পাশ করে সংসারের দায়িত্ব হাতে নিয়ে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় তার। সংসারে মা-বাবা ছাড়াও এক ভাই-বোন রয়েছেন। ফারুক আহমদ সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯৩সালে সুনামগঞ্জে অস্ত্র প্রশিক্ষণসহ ২১দিনের সাধারণ আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ সফলতার সাথে গ্রহণ করে আনসার বাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৯৪সালে অস্থায়ী আনসার হিসাবে ঢাকা-ছাতক নাইট কোচে অঙ্গিভূত হন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আনসার ক্যাম্পে অঙ্গিভূত হয়ে নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০০সালে শ্রীমঙ্গলের কালাপুরে ১৪দিনের পিসি, এপিসি মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহন করে সফলতার সাথে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছেন তিনি। এরপর বিভিন্ন আনসার ক্যাম্পে পিসি হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২১দিনের ইউনিয়ন দলনেতার প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে তিনি উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের দলপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি আনসার ভিডিপি’র বিভিন্ন পেশা ভিত্তিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহন করে স্বাবলম্বি হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান ফারুক আহমদ। ২০০৬সালে মাত্র ১০হাজার টাকার পুঁজি ও পুবালী ব্যাংক গোবিন্দগঞ্জ শাখা থেকে তিনি অল্প লোন নিয়ে নিজ বাড়িতে ব্রয়লার মোরগের একটি খামার তৈরি করেন। সে খামার হতে মোটামুটিভাবে তিনি লাভবান হওয়া শুরু করেন। ২০০৮সালের মধ্যে তিনি ৩হাজার ব্রয়লার মোরগের খামারে তার খামারটি বৃদ্ধি করেন। ২০০৯সাল থেকে তিনি ফিড ও চিকস্ কোম্পানির ডিস্ট্রিবিটর হতে সাব ডিলার হিসেবে ফিড ও চিকস্ এর ব্যবসা শুরু করেন। ২০১১সালে আনসার ভিডিপি উন্ন্য়ন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসার পাশাপাশি কাজী ফার্মস কোঃ লিমিটেডের ডিস্ট্রিবিটর হিসেবে তিনি নিয়োগ পান। ২০১২সালে রেনাটা এগ্রো ইন্ডঃ লিমিটেড, ২০১৩সালে শ্রেষ্ট ফিড লিমিটেড, ২০১৫সালে আমান ফিড লিমিটেডের ও ডিস্ট্রিবিটর হন তিনি। পোল্ট্রি ও ফিড ব্যবসায় লাভবান হয়ে বর্তমানে ছাতক পৌরসভায় একটি বাড়ি ও ব্যবসা পরিচালনাসহ ২টি গাড়ির মালিক হয়েছেন ফারুক আহমদ। তিনি বর্তমানে একজন সফল ব্যবসায়ী। আনসার ভিডিপি সংগঠনকে উপলব্ধি করে বাহিনীর অনেক সদস্যকে ব্যবসাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তিনি উৎসাহিত করেছেন। বর্তমানে ৬জন ভিডিপি সদস্য ও ১জন সদস্যা তার ব্রয়লার খামারের সাথে সংযুক্ত হয়ে খামারী ব্যবসা করছেন। ফারুক আহমদের খামার, গাড়ি, দোকান মিলিয়ে বেকার ৬জন ভিডিপি সদস্যের কর্মসংস্থান হয়েছে। ফারুক আহমদ বিভিন্ন জাতের ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ নিয়ে বাড়ির অনাবাদি জায়গায় একটি বৃক্ষ বাগানও তৈরি করেছেন। একজন সফল ব্যবসায়ী হয়েও তিনি আনসার ভিডিপির হাল ছাড়েন নি। ২০১৫সাল থেকে উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে ও সফলতার সহিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে গ্রাম ভিত্তিক ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণে ছাতক উপজেলার সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের প্রথম ধাপে প্রশিক্ষণ শেষে ৬৪জন সদস্য-সদস্যার মধ্যে উন্নত জাতের ৬ফুট উচ্চ মানের একটি করে গাছের চারা তিনি নিজ পক্ষ থেকে বিতরণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ধাপে ছাতক সদর ইউনিয়নের মানসী নগর গ্রাম, জাউয়া বাজার ইউনিয়নের কপলা গ্রাম, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে উপজেলার সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের আলহাজ্ব আয়াজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, ভূইগাঁও ইবতেদায়ী মাদরাসায় প্রশিক্ষণ শেষে মোট ৫টি গ্রামে প্রায় ৩শ’ ৫০টি উন্নত জাতের ৬ফুট উচ্চমানের গাছের চারা বিতরণ করেছেন তিনি। এছাড়া দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রোপনের জন্যও গাছের চারা বিতরণ করেন। চারা বিতরণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানতে চাইলে ফারুক আহমদ জানান, সংগঠনের সদস্য-সদস্যা ও দারিদ্র বিমোচনে আর্ত সামাজিক উন্নয়নে উৎসাহিত হওয়ার জন্য চারা বিতরণ করছেন। আনসার ভিডিপির উন্নয়ন, সদস্য-সদস্যাদের স্বাবলম্বি করাসহ সমাজে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার কাজ আজীবন করে যাবেন তিনি। #

ছাতকের নানসিড়িঁ-হরিষপুর সড়ক অস্থিত্ব হারানোর পথে

ছাতক প্রতিনিধিঃ
ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের নানসিঁড়ি-হরিষপুর সড়কটি এখন প্রায় অস্থিত্ব হাড়াতে বসেছে। ইউনিয়নরে কয়েকটি গ্রামের সহ¯্রাধিক মানুষের চলাচলের অন্যতম এ সড়কটি বর্তমানে পড়ে আছে বেহাল দশায়। কৃষ্ণ চৌধুরী সড়কের সংযোগ নানসিঁড়ি-হরিষপুর সড়কটি প্রায় ৬০বছর আগে নিজস্ব ভুমির উপর দিয়ে নির্মাণ করেছিলেন গ্রামের তৎকালীন জমিদার কৃষ্ণ প্রসাদ চৌধুরী। ২০ফুট প্রশস্ত বিশিষ্ট প্রায় অর্ধ মাইল দীর্ঘ গ্রামীণ এ সড়কটি প্রতিষ্ঠার ৬০বছরেও পাকাকরন বা সংস্কার করা হয়নি। পুরো সড়ক জুড়ে বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে গর্ত ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রায় দূর্ঘটনা ঘটছে এ সড়কে। ভাড়ী যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল না করলেও ইজিবাইক, অটো-টেম্পু, সিএনজি ফোরষ্ট্রোক ও মোটরসাইকেল চলাচল ছিল নিয়মিত। কিন্তু সড়ক কর্দমাক্ত ও বিপদজনক হয়ে উঠায় এখন এসব যানবাহন আর চলাচল করতে পারছে না। ফলে জনদূর্ভোগ ক্রমেই বেড়ে চলছে। এসব গ্রামের মানুষ ও স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা দূর্ভোগ মেনে নিয়েই প্রতিদিন উপজেলা সদরে বা স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়া করছে। জমিদার কৃষ্ণ প্রসাদ চৌধুরী পুত্র ও প্রাক্তন শিক্ষক প্রনব কান্তি চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এলাকার মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে তার পিতা কৃষ্ণ প্রসাদ চৌধুরী নিজের ভুমির উপর সড়কটি নির্মাণ করে ছিলেন। পিতার নির্মিত এ সড়কটি সংস্কার করার মতো স্বামর্থ এখন আর তাদের নেই। বর্তমান সরকার গ্রামীন জনপথ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। তিনি বিশ্বাস করেন এ সড়কটিও সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের আওতায় এনে পাকাকরনসহ সংস্কার কাজ করা হবে। সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকার মানুষের দূর্দাশা লাঘবে সড়কটি পাকাকরনসহ দ্রুত সংস্কার কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.