শিলিগুড়ি থেকে পার্বতীপুরে জ্বালানি তেল আনতে পাইপলাইন নির্মাণের উদ্বোধন


ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এবং পাইপলাইন দিয়ে সরবরাহ চালু হয়ে গেলে জ্বালানির দাম অনেক কমে যাবে।
এবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জ্বালানি তেল পরিবহনে পাইপলাইন নির্মাণ হতে যাচ্ছে। জ্বালানি তেল আমদানির জন্য শিলিগুড়ি থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

এই পাইপলাইনের ১২৫ কিলোমিটার পড়েছে বাংলাদেশে, আর ভারতের অংশে পড়েছে বাকি ৫ কিলোমিটার। ২২ ইঞ্চি ব্যাসের এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল সরবরাহ করা যাবে।

তবে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রথম তিন বছর ২ দশমিক ৫ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এ সরবরাহের পরিমাণ বেড়ে শেষ পাঁচ বছর ৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হবে। বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রয়োজনে জ্বালানি তেলের আমদানি এই পাইপলাইনের মাধ্যমে আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

ভিডিও কনফারেন্সে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় ঋণের টাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক একটি পরিবারের মতো।

তিনি বলেন, মাত্র এক সপ্তাহ ব্যবধানের মাথায় বাংলাদেশের সঙ্গে এটি দ্বিতীয় ভিডিও কনফারেন্স। ভৌগোলিকভাবে আমরা প্রতিবেশি দেশ। কিন্তু চিন্তা-ভাবনার দিক থেকে আমরা পরিবার। সুখে-দুঃখে একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়ানো। বিকাশে একজন আরেকজনের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়া। সীমান্ত বিরোধ এবং উন্নয়নের জন্য নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপসহ সব বিষয়ে আমরা এগিয়ে গেছি। এসব কিছুর ক্রেডিট আমি আপনার (শেখ হাসিনা) সঠিক নেতৃত্বকে দিতে চাই।

মোদি বলেন, আজ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের কাজ শুরু হলো। উন্নয়ন ও বিকাশের নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আমাদের সম্পর্ককেও আরও উন্নত করবে এই পাইপলাইন। কাজ শেষ হলে এটি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে দিয়ে দেয়া হবে। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.