সৈয়দপুরে বাঁশের ডালি তৈরি করে কিষনা রানীর ভাগ্য বদল


জয়নাল আবেদীন হিরো, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
একটা পিঁড়ি নিয়ে বসে বাড়ীর উঠানে তীব্র গরমেও বাঁশের ডালি, ছোট বড় টুকরী, বিয়ের চালা ও খাচা বানাচ্ছেন কিষনা রানী (৩৬)। তাকে সাহায্য করেন স্বামী শ্যামল চন্দ্র, শ্বশুর শ্বাশুরী সহ পরিবারের লোকজন। সরেজমিনে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের পোড়াহাট হিন্দু পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রচন্ড গরমে কিষণা রানী বাড়ির উঠানে বসে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পন্য তৈরি করছেন। তাকে সাহায্য করছেন তার পরিবারের লোকজন। এসব তৈরি করে উপজেলার বিভিন্ন বাজারসহ অন্যান্য জেলায় বিক্রি করে। এছাড়া বাড়িতে এসে পাইকারী হিসাবে অনেক ব্যবসায়ী এসব পন্য ক্রয় করেন। এসব বিক্রি করে খরচ বাদে প্রতি মাসে আয় হয় ২০/২৫ হাজার টাকা। তার টাকা দিয়ে চলছে পুরো সংসার। তার ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করছে। এ কাজ করে কিষনা রানীর ভাগ্য বদল হয়েছে। ৬ বছর ধরে কিষনা রানী এ কাজ করছেন। কিষনাকে দেখে অনেক নারী পুরুষ এ কাজে উৎসাহিত হচ্ছে। বর্তমানে কিষণা রানীর সংসারে আর অভাব নেই। রোজগারের সব টাকা স্বামীকে দিয়ে সংসারের কাজে ব্যবহার করছে। তাদের ছেলে মেয়েকে স্কুলে পড়তে কোন সমস্যা হয় না। কিষনা রানী বলেন, বর্তমানে বাঁশের দাম বেশি এবং কাজের লোকের মজুরীও বেশি। আমাদের সেরকম অর্থ নেই। তবে কিষনা রানীর দাবি যদি সরকারি বা বেসরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণ পেতেন তাহলে এ ব্যবসাকে প্রসার ঘটাতেন এবং অনেক নারী পুরুষের কর্মসংস্থান হত। তবুও অনেক মহিলা এ কাজ করে সংসারের হাল ধরেছেন। অনেক বিধবা এ কাজ করে যা পান তা দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের কোন পুঁজি নেই। তাদের দাবি যদি স্বল্প ঋণ সুবিধা বা সরকারী অনুদান পেতেন তাহলে অভাবী অনেক মহিলা স্বাবলম্বী হতে পারবেন। এ ব্যাপারে কথা হয় ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোতালেব হোসেনের সাথে, তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিষনা রানীসহ অনেকে এ কাজ করে আসছে। এসব পন্য উপজেলা ছাড়াও বাইরে বিক্রি হচ্ছে। যদি কোন সরকারী বা বেসরকারি সুযোগ সুবিধা আসে তাহলে তাদেরকে দেওয়া হবে। যাতে তারা নিজেকে সহ তাদের পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে। তবে তিনি জানান কিষনা রানীকে দেখে অনেক নারী ইতিমধ্যেই এই পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.