নবাবগঞ্জ ইউ, এন, ও মোঃ মশিউর রহমান নিজেই পরিষ্কার করলেন বিলের কচুরীপানা


মো: মামুনুর রশিদ,নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার অপরূপ সৌন্দর্যের লীলা ক্ষেত্র জাতীয় উদ্যান ঘেষে বয়ে যাওয়া আশুড়ার বিলে অবৈধ স্থাপনা, মাছ ধরার সরঞ্জাম ধ্বংস করাসহ নিজেই বিলের কচুরীপানা পরিষ্কার করে নজির সৃষ্টি করলেন মোঃ মশিউর রহমান। অভিযানে নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাঃসম্পাদক শাহ্ মোঃ জিয়াউর রহমান, বিট অফিসার নিশিকান্ত মালাকার, প্রথম আলোর প্রতিনিধি এ এস এম আলমগীরসহ স্থানীয় উৎসুক জনতা অংশ গ্রহন করে।দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার জাতীয় উদ্যান ও আশুড়ার বিলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বনের চারপাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ, বন্যপাখিদের আবাসস্থল গড়তে গাছে গাছে হাঁড়ি বাঁধা ও বিলে লাল শাপলা চাষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগগুলো সফল হলে সৌন্দর্য ফিরে আসার পাশাপাশি এ উদ্যান ও বিলের প্রতি পর্যটকদেরও আগ্রহ বাড়বে।
নবাবগঞ্জ বিট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৫১৭ দশমিক ৬১ হেক্টর সংরক্ষিত বনাঞ্চল নিয়ে এ জাতীয় উদ্যান। এটি মূলত শালবন হলেও এখানে সেগুন, গামার, কড়ই, জামসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। শালবনটিকে ২০১০ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে আশুরার বিলকে ঘোষণা করা হয় মাছের অভয়াশ্রম। নবাবগঞ্জ অংশের ২৫১ হেক্টর ও বিরামপুর অংশের ১০৯ হেক্টর নিয়ে মোট ৩৬০ হেক্টরে এ বিলের বিস্তৃতি। তবে জাতীয় উদ্যান ও মৎস্য অভয়ারণ্য ঘোষণার দীর্ঘদিনেও এ দুটি স্থান ছিল অবহেলিত।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মশিউর রহমান জেলা প্রশাসক আবু নঈন মুহম্মদ আব্দুছ ছবুরের পরামর্শে স্থান দুটির সৌন্দর্যবর্ধন ও সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছেন। উদ্যানে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে বনের বিভিন্ন গাছে প্রায় ৫ হাজার মাটির হাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। তারা এসব গাছ দেখাশোনার পাশাপাশি বন্য পাখিদের বিষয়েও খেয়াল রাখছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্য পাখিরা এসব হাঁড়িতে ডিম দিচ্ছে ও বাচ্চা ফুটাচ্ছে। তাছাড়া বনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। বিলে যাতে লাল শাপলা বৃদ্ধি পায়, সে উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
নবাবগঞ্জ বিট কর্মকর্তা নিশিকান্ত মালাকার জানান, নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যানে বিভিন্ন ধরনের পশু ও পাখি রয়েছে। রয়েছে সীতারকোট বিহার, মুনির থান, আশুড়ার বিলের আর এক অংশ তর্পন ঘাট, যেখানে বনবাসী সীতা চান করত, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সেখানে আজও পূর্ণস্নান করে পবিত্রতা লাভ করে।নবাবগঞ্জে আরও রয়েছে অরুনধাপ,জমিদারবাড়ী,টুঙ্গীশহর, মঠ, নীলকুঠী,বসন্ত কুঠীরের ধ্বংসাবশেষসহ অনেকপুরাকীর্তি। যার ইতিহাস কালের সাক্ষী হয়ে উৎসুক পর্যটকের দৃষ্টি জুড়ানোর অপেক্ষায় দিন গুনছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে নবাবগঞ্জের এই জাতীয় উদ্যান অর্থাৎ গহীন এই শাল বনেই সতী নারী সীতাকে বনবাস দেওয়া হয়েছিল। উদ্যানের জীববৈচিত্র্য ও বন্য পাখিদের আবাসস্থল বৃদ্ধিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এ মহৎ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এছাড়া জাতীয় উদ্যানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে, আশুড়ার বিলে লাল শাপলা চাষ করা হয়েছে। অল্প দিনেই ফুটতে শুরু করেছে লাল শাপলা, জাতীয় শাপলা আর এর মধ্য দিয়ে জাতীয় উদ্যান তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেল।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মশিউর রহমান জানান, নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যানে পর্যটন ও বিনোদনের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। তবে এর সৌন্দর্যবর্ধনে যতটা না অর্থের প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি দরকার সদিচ্ছার। আমাদের সদিচ্ছা আছে এ উদ্যানকে সুন্দর করে গড়ে তোলার। এ লক্ষ্যে সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক ও দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের পরামর্শে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উদ্যানে কাঞ্চন, জারুল ও শিমুলের গাছ রোপণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, একসময় এখানে প্রচুর পাখি আসত। অতিথি পাখির আনাগোনাও ছিল। এসব পাখি যাতে আবার ফিরে আসে এবং নিরাপদে অবস্থান করতে পারে সেজন্য ৫ হাজার মাটির হাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সীতারকোট বিহারের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শিগগিরই নবাবগঞ্জের জাতীয় উদ্যান ও আশুড়ার বিল দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.