কুড়িগ্রামে আইসক্রীম কারখানায় ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা


মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে আইসক্রীম কারখানায় ভ্রাম্যমান আদালতের ৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অপরিচ্ছন্ন নোংরা পরিবেশে ও মান নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এই অভিযান চালিয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রংপুর বিএসটিআই ও কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের সহায়তায় কুড়িগ্রাম সদরের বিভিন্ন আইসক্রীম কারখানায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে পণ্যের গুণগত মান যাচাই ব্যতীত ও বিএসটিআই’র মান সনদ গ্রহণ না করে আইসক্রীম পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রয়-বিতরণ অব্যাহত রাখায় বিজ্ঞ আদালত কুড়িগ্রাম শহরতলির রিভারভিউ স্কুল মোড়স্থ মেসার্স হ্যাপি আইসক্রীম ফ্যাক্টরীকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করেন। উক্ত আদালত পরিচালনা করেন-কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইয়াসির আরাফাত। এতে সহায়তা করেন- রংপুর বিএসটিআই ফিল্ড অফিসার (সিএম) মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানকে তাদের উৎপাদিত আইসক্রীম পণ্যের গুণগত মান যাচাই ও লাইসেন্স ব্যতীত উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বিএসটিআই’র এরূপ অভিযান অব্যাহত থাকবে। #

ধানের জমিতে ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করতে আলোক ফাঁদ

মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকে ঃ সীমান্ত বর্তী উপজেলা কুড়িগ্রামের রাজীবপুর সব ধরনের ফসল কমবেশি উৎপাদন করে এখানকার কৃষকরা, ধানও চাষ হয় উল্লেখ যোগ্য পরিমানে।চলতি আমন মৌসুমে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করতে উপজেলার ৯ টি ব্লকে একযোগে আমন ধানের জমিতে আলোক ফাঁদ স্থাপন করে ক্ষতিকর পোকা নির্ণয় করা হয়েছে। সোমবার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যেগে ওই আলোক ফাঁদ কর্মসূচি পালন করা হয়।সন্ধ্যা রাতে উপজেলার কৃষকের জমিতে আলোক ফাঁদের স্থাপন করে জমিতে বিভিন্ন ধরনের উপকারী ও ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও করণীয় সমন্ধে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি ও ধারণা দেওয়া জন্য ওই আলোক ফাঁদ স্থাপন করে কৃষি বিভাগ।

আলোক ফাঁদ স্থাপনের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন। রাজীবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুমার প্রণয় বিষাণ দাস জানান ,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে চলতি আমন মৌসুমে ধানের ফলন নিশ্চিত করতে কৃষকদের মাঝে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব বালাইনাশক প্রযুক্তি ব্যবহারে করে পোকা দমন করতে এসব আলোক ফাঁদ স্থাপন করে জমিতে ক্ষতিকর পোকা উপস্থিতি নির্ণয় করা হচ্ছে।

রাজীবপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আলোক ফাঁদ’ ফসলের একটি জৈবিক বালাইনাশক প্রযুক্তি এর মাধ্যমে ধানের জমিতে খুঁটি পুঁতে হ্যাজাক, চার্জার লাইট অথবা বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে তা ঝুলানো হয়। আলোর নিচে একটি পাত্রে সাবান মিশ্রন পনি রাখা হয় আলোতে আকর্ষণ হয়ে ফসলের পোকামাকড় চলে আসে এবং পাত্রে রাখা পানিতে পরে মারা যায়। এভাবে জমিতে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি জানা যায় এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে জমির ক্ষতিকর পোকা নিধন করে ফসল রক্ষা করা যায়। ক্ষতিকর পোকার আক্রমন বেশি হলে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়।

রাজীবপুর ইউনিয়নের কাচানীপাড়া ব্লকের আলোক ফাঁদ স্থাপনের সময় কথা হয় কৃষক মঞ্জরুল ইসলামের সাথে (৫০) এর সাথে তিনি বলেন- প্রায় দুই বিঘা জমিত ধান লাগাইছি। আলোক ফাঁদ দিয়া দেখলাম জমিত কোন ক্ষতিকর পোকা নাই। একই গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম বলেন কৃষি অফিস থেকি ট্রেনিং নিছিলাম ধানের জমিত পাখি বসার জন্য বাঁশের কঞ্চি ডাল দেই। বিষ দেওয়ার আগে এখন আলোক ফাঁদ দিয়া দেহি পোকা আছে না নাই তারপর বিষ দেই এত আমাগোরে খরচ বাঁচে প্রয়োজন না থাকলে বিষ দেই না। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.