ভোটের হাওয়া দিনাজপুর-৬’এ


মোঃ পারভেজ রানা, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর ৬ আসনে হেবিওয়েট প্রার্থিরা প্রচার প্রচারনায় নেমেছে মাঠে। আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য মো. শিবলী সাদিক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আজিজুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট সাবেক ড্যাবের চেয়ারম্যান ডা. এ.জেড.এম জাহিদ হোসেন, জাতিয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও স্বপ্নপুরীর সত্তাধিকারী আলহাজ্ব মো. দেলোয়ার হোসেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিরামপুর রেলস্টেশন চত্বরে পথসভায় নির্বাচনী প্রচারনার অংশ নিয়ে নেতাকর্মীদের একতাবদ্ধ হয়ে উন্নয়নের নৌকাকে চুড়ান্তভাবে বিজয়ী করার জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আহবান জানিয়েছেন। সাধারন সম্পাদকের আগমন আর নির্বাচনী প্রচারনার ৬ আসন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের উপজেলা থেকে তৃনমুল নেতাকর্মীদের মাঝে আগ্রহ উদ্দীপনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য গ্রাম-পাড়া-মহল্লা সহ উপজেলায় গেলে তৃনমুলের নেতাকর্মীরা বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিককে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান। নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর বাজারের ব্যবসায়ী নেতা মো. হাফিজুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে এ আসন থেকে শিবলী সাদিকের বিকল্প নেই। উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহ আলমগীর জানান, যে নেত্রী পৃথিবীর ইতিহাসে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল খেতাব অর্জন করেছেন সেই নেত্রীর নেতৃত্বেই ৬ আসন নৌকা প্রতীক বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিককে দিলে সরকারের উন্নয়নের চিত্র পাল্টে যাবে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো. আমির হোসেন জানান, উন্নয়নের মার্কাই নৌকা।

উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোছা. পারুল বেগম জানান, দিনাজপুর ৬ আসনের রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, কলেজ ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিদ্যালয় সরকারি করণ ও গ্রামের পর গ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন ধরে রাখতে আগামী নির্বাচনে শিবলী সাদিকের একান্ত প্রয়োজন। এদিকে দলটির নবাবগঞ্জ উপজেলা সাধারন সম্পাদক মো. আতাউর রহমান, বিরামপুরের আলতাফুজ্জামান মিতা, মিজানুর রহমান চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মনোনয়ন পাওয়ার প্রচেষ্টা। সাধারন সম্পাদক মো. আতাউর রহমান জানান, তিনি শিক্ষা জীবন থেকেই দলের সাথে নিবিড় ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রার্থীদের মধ্যে থেকে তাকে মনোনয়ন দিলে জয় সুনিশ্চিত তার। এদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আজিজুল হক চৌধুরী তিনিও দাবি করেছেন, তার আমলে কোন অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েননি তিনি। তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নৌকা প্রতিকের বিজয় ছিনিয়ে আনবেন। উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মো. রজব আলী জানান, আজিজুল হক চৌধুরী বসে নেই। চার উপজেলার নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারনায় মাঠে নেমেছেন তিনি। এছাড়াও পারভেজ কবির ও লাবু চৌধুরী চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারনা। এদিকে ৫নং পুটিমারা ইউনিয়নের মতিহারা গ্রামের জন্মগ্রহন করেন বর্তমান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জাহিদ হোসেন। তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বিজয়ী হওয়ার আশা করছেন তিনি। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির বড় মাপের একজন নেতা নির্বাচিত হলে বিজয় সহ উন্নয়ন হতে পারে ব্যাপক। এছাড়াও দলটির জেলা সাবেক সভাপতি ও নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব লুৎফর রহমান মিন্টু, সাবেক ছাত্র নেতা ও নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এ.জেড.এম শাহাবুদ্দিন সুজন মনোনয়নের জন্য মাঠে রয়েছেন। নবীন প্রার্থী মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ সুজন জানান, উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে তরুনেরা তার প্রচারনায় অংশ নিচ্ছে প্রচুর। মনোনয়ন পেলে নির্বাচিত হতে পারবেন বলে ধারানা তার। বর্তমান সংসদ সদস্যের বড় আব্বা স্বপ্নপুরীর সত্তাধিকারী দির্ঘদিনের একটানা কুশদহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দেলোয়ার হোসেন জাতিয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট তার বাড়িও আফতাবগঞ্জে। ইতোমধ্যেই তিনিও জাতিয় পার্টিকে চাংগা করতে জরুরি সভা সহ দির্ঘদিনের ওয়ার্ড ইউনিয়ন সহ উপজেলা কমিটি হালনাগাদ করার চেষ্টা করছেন। তার দল যদি মনোনয়ন দেয় সেও নির্বাচিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এদিকে নাশকতা সহ রাষ্ট্রদ্রোহী একাধিক মামলা মাথায় নিয়ে জেলা জামাত আমির মো. আনোয়ারুল ইসলাম কখনো প্রকাশ্যে আবার কখনো আন্ডারগ্রাউন্ডে দলের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। জামায়াত নেতা রেজাউল করিম জানান, এ আসন থেকে নির্বাচন করে জামায়াত দুইবার নির্বাচিত হয়েছিল। জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেলে তাদের বিজয় কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। এদিকে বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলন তাদের প্রার্থী চুড়ান্ত করেছেন। নবাবগঞ্জ উপজেলার সভাপতি ডা. নুরে আলম তিনিও প্রচারণা চালাচ্ছেন। সকল দলের প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় কমিটির মনোনয়নের অপেক্ষায় তাকিয়ে রয়েছেন। এলাকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাধারন ভোটারেরা জানান মনোনয়ন পাওয়ার পর তফশীল ঘোষনা করা হলে যে প্রার্থী এলাকার উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারবেন তাকেই তারা নির্বাচন করবেন। #

Comments are closed.