জঙ্গলে ফেলে দেয়া সেই বৃদ্ধ মাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে হাসপাতালে ভর্তি

এসকে,এমডি ইকবাল হাসান,নড়াইল:
ভরণপোষণ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে গর্ভধারীণী ৮৬ বছর বয়সী মা হুজলা বেগম কে তার সন্তানরা বাড়ির অদূরে রাস্তার পাশে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে দেয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ ওই মাকে উদ্ধার করে শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

শনিবার(২৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে নড়াইলের পুলিশ সুপার লোহাগড়া উপজেলা হাসপাতালে অসুস্থ হুজলা বেগম কে দেখতে জান এবং ব্যাক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতা করেন। মায়ের সাথে অমানবিক আচরণ করায় পুলিশ হুজলা বেগমের ছেলে ডাকু শেখ, রাবু শেখ ও মেয়ে কুলসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছে। নড়াইলের লোহাগড়ার কুচিয়াবাড়ি গ্রামে বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশ স্বাধীনের পর হুজলা বেগমের স্বামী ছামাদ শেখ মারা যান। অনেক কষ্টের মধ্যেই তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে বড় করেছেন তিনি। ছেলে মেয়েরা বিয়ে করে সকলে আলাদা বসবাস করেন। বৃদ্ধ মায়ের দায়িত্ব নিতে চাননি সন্তানরা। আর তাই গত বুধবার রাতের আধারে বাড়ির অদূরে বাঁশ বাগানের নিচে মাকে ফেলে দেয় ছেলেরা। গত বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা পুলিশের সহযোগিতায় ওই মাকে উদ্ধার করে বড় ছেলে ডাকু শেখের বাড়িতে রাখেন। ছেলের কাঁচা ঘরের বারান্দায় প্রায় অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন ওই মা। নানাবিধ রোগে অক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে থাকায় সন্তানদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল গর্ভধারীণী মা। শনিবার হাসপাতালে হুজলা বেগমের মেয়ে চায়না মায়ের শর্যাপাশে বসে ছিলেন।তিনি বলেন, আমি বিধবা।দূরে থাকি। মায়ের সাথে এমটি করা ঠিক হয়নি।

লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ প্রবীর কুমার বিশ্বাস জানান, হুজলা বেগমের দুই ছেলে ডাকু শেখ, রাবু শেখ ও মেয়ে কুলসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। লোহাগড়া হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার জিসান জানান, অযতেœ,অবহেলায় হুজলা বেগমের শারীরিক দূর্বলতা বেড়ে গেছে। কোমরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। সাধ্যমতো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পি,পি,এম হুজলা বেগমকে দেখতে হাসপাতালে এসে আর্থিক সহযোগিতা দেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনে নির্দেশ পেয়ে আমি হুজলা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেছি। মাননীয় মন্ত্রী সার্বিক খোঁজখবর নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে হুজলা বেগমকে ঢাকায় চিকিৎসা ও থাকার ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি, আরো বলেন, এঘটনায় এমন শিক্ষা দেয়া হবে যাতে করে কোন সন্তান তার পিতা-মাতার সাথে এমন অমানবিক আচরণ করবার সাহস না পায়। নড়াইল থেকেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.