চর্ম ও সোরিয়াসিস রোগে আক্রান্ত আলেয়ার, চিকিৎসায় সহায়তা প্রয়োজন


রহিম রেজা ঝালকাঠি থেকে:
ঝালকাঠির রাজাপুরের পশ্চিম চর ইন্দ্রপাশা গুচ্ছগ্রামের হতদরিদ্র অসহায় জয়নাল হাওলাদারের স্ত্রী আলেয়া বেগমের (৫০) দু’পাসহ শরীরে চর্ম রোগ ও সোরিয়াসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসহ্য যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন। দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে চিকিৎসা করালেও কোন উপকারে আসেনি বরং অর্থ-সম্পদ হারিয়ে আজ পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বর্তমানে আলেয়ার পরিবারের দিন কাটছে অর্ধাহানে অনাহারে। সর্বশেষ আলেয়ার চিকিৎসার জন্য ঢাকা সিএমএইচ বাংলাদেশ আর্মি মেডিকেল কোরের মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট ডাক্তার আব্দুল হাকিমের কাছে গেলে তিনি জরুরি ভিত্তিতে তাকে ভারতে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। কিন্তু আলোয়ার পরিবারের পক্ষে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করানো কোনভাবেই সম্ভব নয়, তাই দেশের বিত্তবানদের কাছে সহায়তা কামনা করেছেন আলেয়ার পরিবার। আলেয়ার স্বামী দরিদ্র জয়নাল হাওলাদার জানান, তার তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ ৮ সদস্যের পরিবার। নিজের জমি বা অন্য কোন আয়ের উৎস নেই। মাথা গোজার ঠাই হিসাবে উপজেলার পশ্চিম চর ইন্দ্রপাশা গ্রামের বাশতলা এলাকার গুচ্ছগ্রামে একটি ঘর পেয়েছেন। সেখানে থেকে তার দিনমজুরের কাজ করে সংসারের খরচ চালোতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তারপরেও খেয়ে পড়ে ভালোই ছিলেন তার পরিবারটি। কিন্তু ৪ বছর আগে স্ত্রী আলেয়ার শরীরে এলার্জি ও দুই পায়ে দীর্ঘমেয়াদি একজিমা সোরিয়াসিসসহ নানা জটিল রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসা শুরু হয় আলেয়ার। দীর্ঘ চার বছর ধরে বরিশাল, ঢাকা, খুলনায় অনেক নামকরা চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ আরো অনেক ডাক্তার দেখিয়েছেন। পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়েছেন। ডাক্তাররা রোগটির নাম বলেছেন দীর্ঘমেয়াদি একজিমা সোরিয়াসিস। ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী অনেক ঔষধ খেয়েছেন। আজ পর্যন্ত কোন উপকার মেলেনি। দিন দিন তার রোগের সমস্যা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘ ৪ বছর চিকিৎসা করাতে গিয়ে স্থানীয় একাধিক লোকের কাছ থেকে ধার ও সুদে টাকা নিয়েছেন এবং একাধিক এনজিও’র কাছ থেকে লোন নিয়ে বর্তমানে জয়নাল পথে বসেছেন। আলেয়ার জন্য নিয়মিত ঔষধ কিনতে পাছেন না তিনি। আলেয়া ঘরে বসে দিনের পর দিন শরীরের অসহ্য যন্ত্রনায় কেঁদে কাটাচ্ছেন। বর্তমানে তার শরীর ফুলে গেছে। খাওয়া-যাওয়াও সঠিকভাবে করতে পারছেন না তিনি। জয়নাল আরো জানান, টাকার অভাবে তার চিকিৎসা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার ভার বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। আলেয়া বেগম জানান, বর্তমানে শরীরে এতো পরিমান জ¦ালা যন্ত্রনা শুরু হয়েছে যা সহ্য করা সম্ভব নয়। শরীর ফুলে উঠেছে, খেতে পারছেন না তিনি। এর চেয়ে মৃত্যু হলেও শান্তি হতো বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আলেয়া বেগম সমাজের ধনী ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সাহায্য ও দোয়া কামনা করেছেন। তাতে তিনি ভারত গিয়ে চিকিৎসার করিয়ে সুস্থ্যভাবে জীবন যাপন করতে পারেন। গত জুন মাসে তার শেষ চিকিৎসা করেন ঢাকা সিএমএইচ বাংলাদেশ আর্মি মেডিকেল কোরের মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট ডাক্তার আব্দুল হাকিম (অবঃ)। তিনি বলেছেন, আলেয়ার রোগের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরীক্ষা নিরীক্ষার কাগজপত্র দেখে মনে হয়েছে যে, তার চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। তার দু’পায়ে মারাত্মক ইনফেকশন শুরু হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভারত গিয়ে এ রোগের চিকিৎসা করাতে প্রায় ২ লাখ টাকা লাগতে পারে বলে ডাক্তার আব্দুল হাকিম ধারনা করছেন। দিন দিন তার শারীরিক সমস্যা আরো জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। এক সময় এ রোগ তার দুই পা থেকে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পরবে। দ্রুত তার চিকিৎসা না হলে এক সময় এ রোগে মারাও যেতে পারেন আলেয়া। এমতাবস্থায় অসহায় আলেয়ার ও নিরুপায় সন্তানরা সুচিকিৎসার জন্য সকল হৃদয়বান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে আন্তরিক সহযোগীতা ও সাহায্য কামনা করেছেন। অসহায় আলেয়ার চিকিৎসার সাহায্য বা যোগাযোগ করুন, জয়নাল হাওলাদার-০১৮৬০০৫৬৯০৯ (বিকাশ ব্যক্তিগত) ও রাজাপুর সোনালী ব্যাংক শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নং-৮৯৭৬। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.