নওগাঁ- ৬ আসনে বিজয় ধরে রাখতে চায় আ’লীগ পুনরুদ্ধারে তৎপর বিএনপি

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ তফশিল ঘোষিত না হলেও নওগাঁ -৬ রাণীনগর-আত্রাই সংসদীয় আসনে নির্বাচনের মাঠ বেশ সরগরম হচ্ছে। ক্ষমতাশালী দল থেকে কে মনোনয়ন পাবেন ? বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে কিনা ? এখন সব আলোচনা-সমালোচনা উপজেলার সর্বত্র। ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৬ সংসদীয় আসনটি। এখানে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৭৭ জন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৫১, নওগাঁ-৬ আসনে মনোনয়নের আসায় আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী ও বিএনপি’র প্রার্থীরা উভয়ে মড়িয়া হয়ে মাঠে দৌড়ঝাঁপ করছেন। এলাকার মানুষের মাঝে আলোচনার বিষয় নির্বাচন ও প্রার্থীরা। এ আসনটিতে বড় দু’টি রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি।
বিএনপি’র ঘাঁটি বলে পরিচিত এ আসন ২০০৮ সালে ভোট যুদ্ধে, দখলে নেয় আওয়ামীলীগ। জেএমবি’র অপতৎপরতা দমনের পাশাপাশি ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আওয়ামীলীগ। আর এ আসনটি ফিরে পেতে নতুন আমেজে ভোটারদের কাছে যাচ্ছে বিএনপি। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এ আসনটি দখলে রাখে বিএনপি।
এক সময়ের আলোচিত সর্বহারা ও বাংলা ভাইয়ের দূর্গ রক্তাক্ত জনপদ বলে পরিচিত রাণীনগর ও আত্রাই দুই উপজেলা। এ আসন ২০০৮ সালে ভোট যুদ্ধে, দখলে নেয় আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগ সরকার আমলে উন্নয়ন দাবি করে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় আওয়ামীলীগ।
নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস বাঁকি থাকলেও থেমে নেই বড় দুটি রাজনৈতিক দলের মাঠ পর্যায়ে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও দৌড়ঝাঁপ। প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পোস্টার,ব্যানার লাগিয়ে ও বিভিন্ন কর্মীসভার আয়োজনের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের সাথে কুশল মত বিনিময় করছেন। নির্বাচনী মাঠ দখল ও মনোনয়ন নিশ্চিত করতে এলাকায় মনোনয়ন প্রত্যাশী দৌড়ঝাঁপ করছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ছাড়াও সিপিবি ও জামায়াত অংশ গ্রহণ করতে পারে। এবার এ আসন থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির অংশ গ্রহণ করবেন এমনটিই জানা গেছে। তবে তিনি কোন দলীয় প্রার্থী হিসাবে করবেন নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবেন তা সঠিকভাবে জানা যায়নি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নওগঁ-৬ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আওয়ামীলীগ থেকে নওগাঁ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বর্তমান সংসদ সদস্য মো: ইসরাফিল আলম, রাণীনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো: আনোয়ার হোসেন হেলাল, রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: নওশের আলী , নওগাঁ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. ওমর ফারুক সুমন, নওগাঁ জেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী সদস্য,রাণীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র উপদেষ্টা , রাণীনগর উপজেলার ৫নং বড়গাছা ইউনিয়র পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুর রহমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ,বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক শেখ মো: রফিকুল ইসলাম ।
বিএনপি থেকে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আনোয়ার হোসেন বুলু, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: এচাহক আলী। এছাড়াও জাতীয় পার্টি থেকে রাণীনগর উপজেলা জাতীয় পার্টিও সভাপতি কাজী গোলাম কবির ও আত্রাই উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো: মোফাজ্জল হোসেন এর নাম শোনা যাচ্ছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এলাকার সাধারণ তরুণ ও নতুন ভোটারদেও সাথে কথা বলে জানা গেছে , তথ্যও প্রযুক্তি নির্ভর সেবা পেতে তারা বিশ্বাসী। যারা দুর্নীতি ,অনিয়ম , মাদক ও সকল বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে আগামী দিনের নেতৃত্ব দিবেন, এলাকার উন্নয়ন করবেন ও যাকে তারা যোগ্য প্রার্থী হিসাবে মনে করবেন তাদেরকেই তারা ভোট দিবেন।
উল্লেখ্য, নওগাঁ-৬ আসনটি ১৯৯০ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি’র দখলে ছিলো। ৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে মরহুম চৌধুরী মোতাহার হোসেন এমপি নির্বাচিত হন। ৮৬ সালে মুক্তিযোদ্ধা ওহিদুল রহমান (স্বতন্ত্র) এমপি নির্বাটিত হন। ৮৮ সালে জাতীয় পার্টির রেজাউল ইসলাম ওরফে রেজা মোল্লা এমপি নির্বাটিত হন। ৯১-২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি’র সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির এমপি নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ঢাকা মহানগর শ্রমীক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ইসরাফিল আলম এমপি নির্বার্চিত হন। প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির বিএনপি থেকে এলডিপিতে যোগ দেয়ায় বিএনপি’র প্রার্থী হিসাবে তার ছোট ভাই আনোয়ার হোনের বুলু নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে মো: ইসরাফিল আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন।#

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.