সৈয়দপুরের গরু ও মহিষের শিং এর তৈরি বোতাম যাচ্ছে বিদেশে

জয়নাল আবেদীন হিরো, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে গরু ও মহিষের শিং দিয়ে তৈরি করা বোতাম যাচ্ছে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে। জামার্ন, অস্ট্রোলিয়া, হংকং, চায়না ও স্পেনসহ একাধিক দেশে। এই বোতাম গুলোর দাম বেশি হলেও আকর্ষনীয় বাহারী ডিজাইনের ও টেকসই হওয়ায় এরই মধ্যে শুনাম কুড়িয়েছে দেশ বিদেশে। এ খাত থেকে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার মত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হয় বলে জানান, এগ্রো রিসোর্স কোম্পানী লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম।

এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, ১৯৮০ সালে সৈয়দপুর শহরের কুন্দল নামক এলাকায় প্রায় ৬০ শতক জমির উপর ছোট একটি প্রতিষ্টান গড়ে তোলেন তিনি। সেখানে মাত্র ১০/১২ জন শ্রমিক কর্মচারী নিয়ে গরু মহিষের ফেলে দেওয়া হাড় সংগ্রহ করে শুকানোর পর সেগুলি গুড়া করার কাজ শুরু করেন। এসব গুড়া ফসলি জমিতে দিলে ভালো ফসল হয় পরামর্শে কৃষকরা তাদের জমিতে প্রযোগের ফলে সুফল পায়। পরবর্তীতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি শহরের বাইপাস সড়কে স্থানান্তর করা হয়। এর পরপরই শুরু হয় বাহাড়ী ডিজাইনের বোতাম তৈরির কাজ।

পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, বোতাম তৈরির পর তিনি দেখেন এক একটি বোতামে খরচ পরছে প্রায় ৩ টাকা থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত। দেশের বাজারে এসবের মূল্য তেমন একটা মিলে না বলে বিদেশে বাজার জাত করা যায় কি না এ নিয়ে তিনি চিন্তায় মসগুল হয়ে সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া ও ঢাকার মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার মালেক ম্যানশনে অফিস নিয়ে বসেন। এভাবে তিনি ১৯৮০ সালের পর থেকে হাড়ের গুড়া ও তৈরি কৃত আকর্ষনীয় বোতাম সহ বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানী করে আসছেন। ১৯৮০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি লাভের মুখ দেখলেও ভারত থেকে গরু মহিষ বাংলাদেশে রপ্তানীতে নিষেধাজ্ঞা জারির পর তার লভ্যাংশ প্রায় শুন্যের কোটায়। এ ব্যবসায় প্রায় ৩২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে তিনি জানান।

১৯৯০ ও ১৯৯১ সালে তিনি পর পর দুই বার সিআইপি (রপ্তানী) হিসাবে সম্মানীতও হয়েছেন। তিনি বলেন, এক শ্রেণির অসাধু পর্যটক যারা বাংলাদেশে আসছেন তারা এদেশের অসাধু ব্যবসায়ীদের সহযোগীতায় উন্নত মানের শিং ও হাড় নিয়ে পারি দিচ্ছেন ভারতে এবং দেশের উন্নত পন্যের নকল করে বাজারজাত করছেন দেশসহ বিদেশের বিভিন্ন মার্কেটে। তারা এ দেশের শিং ও হাড় পাচার করছেন বুড়িমারী সীমান্ত পথসহ বিভিন্ন স্থল বন্দর থেকে। এর ফলে আর্কষণীয় পন্য উৎপাদন করেও কাচা মালের অভাবে সুনাম ধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়ে চলেছে। সেই সাথে বেকার হয়ে যাচ্ছে দেশের হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী। ওই সব অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে করে অবৈধভাবে ও অসত্য কাগজপত্র আন্ডার ইন ভয়েজের মাধ্যমে যেতে না পারে এবং কোন স্থলবন্দর ব্যবহারের সুযোগ না পায় সেটির দাবী জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাণিজ্য মন্ত্রী সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণী মন্ত্রণালয় সচিব, রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ফেডারেশন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাট্রিজ সভাপতি, বুড়িমারী ও বেনাপোল স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান তিনি। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.