নবাবগঞ্জে গনহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক আলোচনা সভা


পারভেজ রানা, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ৫নং পুটিমারা ইউনিয়নে চড়ারহাট গনহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভা ও শহিদদের স্বরনে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও দিনাজপুর সেক্টরস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১ এর সহায়তায় প্রাণকৃষ্ণপুর আন্দোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সেক্টরস ফোরামের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক পারুল বেগম, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম রুহুল আমিন প্রধান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হাসান আলী, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারফুদুল হক, সহকারি শিক্ষক রেজাউল করিম, ইউনিয়ন আ.লীগনেতা ব্যবসায়ী মো. আনিছুর রহমান, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া খাতুন তন্নি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। ১০ অক্টোবর দিনাজপুরের চড়ারহাট গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার চড়ারহাট গ্রামে শতাধিক নিরিহ বাঙালিকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছিল পাক হানাদার বাহিনী।দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও এ নির্মম হত্যার কথা মানুষ ভুলতে পারেনি। অক্টোবর মাস এলেই মনে করিয়ে দেয় নির্মম সেই হত্যাকা-ের ঘটনা।দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের চড়ারহাটে (প্রাণকৃঞ্চপুর) স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা বাঙালি নারী-পুরুষকে কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে একত্রিত করে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করতো।স্বাধীনতার এতো বছর পেরিয়ে গেলেও সেই শহীদদের গণকবর সংরক্ষণের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি স্মৃতি মিনার নির্মাণ করা হয়েছে।ভাগ্যক্রমে ওই সময় বেচে যাওয়া এহিয়া ম-ল জানান, ১৯৭১ সালের ৯ অক্টোবর বিরামপুর উপজেলার আলতাদিঘীতে একটি গরুর গাড়িতে করে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা বিরামপুর ক্যাম্পে যাচ্ছিল। এসময় মুক্তিযোদ্ধারা অতর্কিত হামলা করে ৭ সেনাকে হত্যা করে। এসময় তাদের সঙ্গে দুই রাজাকার ছিল। সেই রাজাকাররা বিরামপুর হানাদার বাহিনী ক্যাম্পে খবর দেয়।পরে এ ঘটনায় প্রতিশোধ নিতে ৯ অক্টোবর রাতে পুটিমারা ইউনিয়নের চড়ারহাট (প্রাণকৃঞ্চপুর) ও আন্দোলগ্রাম (সারাইপাড়া) ঘেরাও করে বিরামপুর ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে হানাদান বাহিনী। ১০ অক্টোবর ভোরে গ্রামের মানুষদের কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে চড়ারহাটের একটি স্থানে সারিবদ্ধ করে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে।সে সময় সব শহীদদের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শহীদদের মধ্যে ৯৩ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছিল। যার মধ্যে চড়ারহাট (প্রাণকৃঞ্চপুর) গ্রামের ৬১ জন ও আন্দোলগ্রামের (সারাইপাড়া) ৩২ জন ছিল। ওই সময় এক কবরে একাধিক মরদেহ দাফন করা হয়।স্বাধীনতার ৪০ বছর পর বিগত ২০১১ সালে নিহত শহীদদের জন্য একটি স্মৃতি মিনার তৈরির ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। পরে কাজ শেষে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দিনাজপুর জেলার তৎকালীন প্রশাসক জামাল উদ্দীন আহমেদ। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.