মধ্যপাড়া খনিতে একদিনে ৫ হাজার ৭শত ১৬ মেট্রিকটন পাথর উৎপাদন

মোঃমামুনুর রশিদ,নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দেশের উত্তর অঞ্চলের দিনাজপুরে দেশের একমাত্র মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে পাথর উৎপাদন বৃদ্ধি। গত শনিবার তিন শিফটে ৫ হাজার ৭ শত ১৬ মেট্রিক টন পাথর উৎপাদন করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে জার্মানীয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) বেসরকারি কোম্পানী। এখানে প্রতীয়মান যে, জিটিসি ধারাবাহিকভাবে নিরলস পরিশ্রম করে প্রতিমাসে পাথর উত্তোলনের রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছেন। ফলে উৎপাদন দিন দিন ব্যাপক বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বর্তমান পাথর উত্তোলন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি’র নির্বাহী পরিচালক জাবেদ সিদ্দকী জানান, মধ্যপাড়া খনির দায়িত্বভার গ্রহনের পর থেকে জিটিসি পাথর খনিটিকে লাভজন করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। খনির নতুন স্টোপ নির্মান করে বিদেশী মেশিনারিজ যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ স্থাপন করে খনির পাথর উত্তোলন বৃদ্ধিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে অর্ধশতাধিক বিদেশী খনি বিশেষজ্ঞ, দেশী প্রকৌশলী এবং ৭ শতাধিক খনি শ্রমিক তিন শিফটে পাথর উত্তোলন কাজে নিয়োজিত আছেন। প্রতিমাসে ১ লক্ষ ২০ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষমাত্রা নিয়ে জিটিসি গত অক্টোবর মাসে প্রায় ১ লক্ষ ২৩ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করেছে। পাথর উৎপাদন লক্ষমাত্রায় পৌছানোর ফলে খনি শ্রমিকদের বিগত মাসগুলোতে বেতন ও ওভার টাইমের সঙ্গে উৎপাদন বোনাসও প্রদান করছে এই কোম্পানীটি।
প্রাপ্ত তথ্যে খনি সুত্রে জানা যায়, গত ২০০৭ সালে মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে দৈনিক তিন শিফটে ৫ হাজার ৫ শত মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করে এর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু খনিটি প্রায় ৭ বছর ধরে তিন শিফটে পাথর উত্তোলন কার্যক্রমই শুরু করতে পারেনি। ফলে লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে খনিটি বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু এই কোম্পানিটি খনির দায়িত্ব ভার নেওয়ার পর পাথর উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি করছেন। যাতে এই খনিটি বাংলাদেশের মধ্যে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়।
বর্তমান জিটিসি এর সাথে মধ্যপাড়া পাথর খনিটির ব্যবস্থাপনা, রক্ষনাবেক্ষন এবং উৎপাদন চুক্তির পর জিটিসি কর্তৃক পাথর খনির তিন শিফটে দৈনিক ৫ হাজার ৫ শত মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সরকারের উন্নয়নের অংশীদারে অবদান রাখতে এবং খনিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে আরো একধাপ এগিয়ে গেল বলে এলাকার সচেতন মানুষ মনে করেন। খনির বর্তমান উৎপাদন অবস্থা অব্যাহত রাখতে এবং উত্তোরোত্তর উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করতে জিটিসি এবং খনির সংশ্লিষ্ট মহলের ইতিবাচক পদক্ষেপ আশা করে বলে এলাকাবাসী জানান। তবে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানিটির এই খনি আবিষ্কার থেকে ক্ষতির দিকে যাচ্ছিল। এখন এই খনিটি লাভজনক হিসাবে পরিনত হয়েছে। সরকার এই খনি থেকে বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় করছেন অপরদিকে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। #

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.