ছাতকে বোরো আবাদে মাঠে নেমেছে কৃষক

হেলাল আহমদ, ছাতকঃ
ছাতকে আমন ধান তোলা শেষ হয়েছে। আমনের ধান তোলা শেষ হতে না হতে আবারো বোরো আবাদে মাঠে নেমেছেন চাষিরা। বিগত বোরো ও আমন মৌসমে ধানের বাম্পার ফলন ঘরে তোলায় এবার বেশ ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে বোরো আবাদে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কৃষকরা। তবে বেশ কয়েকটি হাওরে সেচ ও পানি সংকটের কারনে বোরো আবাধ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তার মাঝে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায়, ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৪ হাজার ৭শ’৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বোরো বীজতলা করা হয়েছে ৭শ’৫৬ হেক্টর জমিতে।
সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওর-বিল ঘুরে দেখা যায়, কনকনে শীত উপেক্ষা করে কাকডাকা ভোরে কৃষি সরঞ্জাম হাতে বেরিয়ে পড়ছেন কৃষক। ছুটে চলছেন নিজ নিজ জমিতে। এরপর কাদায় মাখানো ছিপ ছিপ পানি ভেজানো মাটি থেকে আলতোভাবে টেনে জমি থেকে চারা তোলা, পাওয়ার টিলার ও বলদের সাহায্যে হালচাষ, দলবেঁধে ধানের চারা রোপন, রাসায়নিক সার প্রয়োগসহ জমিতে সোনালী ফসল ফলাতে কৃষকরা নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকরা জানিয়েছেন, এবার বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় অধিকাংশ হাওর ও বিলে পানি ধরে রাখা যায়নি। ফলে চাষাবাদের জন্য রয়েছে ব্যাপক পানি সংকট। পানি সমস্যা সমাধানে অধিকাংশ এলাকায় এখন পর্যন্ত সেচের ব্যবস্থাও হয়ে উঠেনি বলে জানান চাষিরা।
সিংচাপইড় ইউনিয়নের কৃষক সোলেমান আহমদ জানান, বিগত বোরো ও আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় এবার তিনি ১৫ থেকে ১৬ কেয়ার (বিঘা) জমিতে ধান আবাদ করছেন। তারই লক্ষে তিনি আমন মৌসুমে তোলা ধান বিক্রি ও ধারকর্জ করে পয়সা জমিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, বিগত কয়েক মৌসুমে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে এখানকার কৃষকরা বোরো আবাদে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলেন। তবে গত বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলন হওয়ায় এখানকার কৃষকরা আবারও বোরো আবাদে মাঠে কোমরবেঁধে নেমেছেন। সোনারতাল হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে পানি ও সেচ সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করেছে। অন্যান্য সময়ের মতো এবারও এখানকার পানি সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসলে এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি দাবী করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম বদরুল হক জানান, এখানকার কৃষকরা গত বছর ফসলের ভাল ফলন ও দাম পেয়েছেন। তাই চলতি মৌসুমে অনেকটা আগেভাগেই বোরো চাষে পুরো প্রস্ততি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে ধানের চারা লাগানো শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। #

Comments are closed.

সর্বশেষঃ