চিলমারীতে সরিষা চাষ বাড়ছে

সরিষাকুড়িগ্রামের চিলমারীতে বিস্তৃর্ণ সরিষা ক্ষেতে শিশির ভেজা হলুদ ফুলে রোদের ঝিলিক ছড়িয়েছে কৃষকের চোখে মুখে। অনুকুল আবহাওয়ায় অধিক ফলনের আশায় নিয়মিত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা।
একসময় এ অঞ্চলে প্রসিদ্ধ ছিল ঘানিতে ভাঙ্গা সরিষা তেল। প্রতিটি পরিবারে ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার হত সনিষা তেল। তেল উৎপন্ন শেষে ঘানিতে সরিষা অবশিষ্টাংশ খৈল ব্যবহৃত হত গবাদী পশুর খাবার ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে। গ্রামের গৃহবধুরা মাথার চুল পরিস্কারেও খৈল ব্যবহার করত। সে সময় প্রতিটি কৃষক পরিবার নিজেদের প্রয়োজনে সরিষা চাষ করত। সময়ের ব্যবধানে বাজারে এর বিকল্প নানা প্রকারের ভোজ্য তেল আসায় এবং কৃষক ধান চাষে ঝুকে পরায় তা কমে গেলেও তা আবারো দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষকরা এখন ঝুকে পড়ছে সরিষা চাষে। শ্রম ও উৎপাদন খরচ কম এবং বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় নতুন আগাম জাতের ধান কেটে একই জমিতে সরিষাসহ তিনবার ফসল ফলানোর সুবিধায় এ অঞ্চলে বেড়ে গেছে সরিষা চাষ। বেলেরভিটা সরকার পাড়া এলাকার সিদ্দিক, শ্বপন, মিলন, মাটি কাটা এলাকার আঃ করিম, পাত্রখাতা এলাকার আঃ রাজ্জাকসহ কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এক বিঘা জমিতে উৎপন্ন ধান বিক্রি করে যা আয় হয় তার চেয়ে কম শ্রম ও খরচে বেশি লাভবান হওয়া যায়। তাছাড়া একই জমিতে তিনবার ফসল ফলানো যায় বলেই আমরা আগের তুলনায় অধিক জমিতে সরিষা চাষ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে এবারে লক্ষ্য মাত্রা ২হাজার হেক্টর। কৃষি অফিসার সামছুদ্দিন মিঞা বলেন অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষে তুলনামূলক খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে ঝুকে পড়ছে। এবারে টরি,বারি-৯,১৪,১৫, বিআরডিসি জাতের বীজ সর্ষের চাষ করেছে। তবে সরেজমিন ঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে সঠিক পরিচর্যা ও অনুকুল আবহাওয়ায় তা আরো ছাড়িয়ে যাবে। -মোঃ হাবিবুর রহমান, চিলমারী