জ্বালানি তেল এখন পানির চেয়েও সস্তা

photo=1বাংলাদেশের যেসব মানুষ তথ্যটি জানেন না তাদের জন্য এটা নিশ্চয়ই বেশ অবাক হওয়ার মতো তথ্য। আমাদের দেশে বোতলজাত পানির অন্তত তিনগুণ দাম একলিটার জ্বালানির। কিন্তু মজার তথ্য হলো, কাতারে এক বোতল পানি কিনতে আপনাকে খরচ করতে হবে দেড় রিয়াল (প্রায় ৩৪ টাকা)। আর এক লিটার পেট্রোলের দাম মাত্র এক রিয়াল! মাসকয়েক আগে তা আরো কম ছিল। তখন এক লিটার পেট্রোল পাওয়া যেতো ৮০ দেরহামে (রিয়ালের একক, বাংলাদেশের টাকার একক বা পয়সার মতো)। তেল আর পানির দামে যখন এতোই পার্থক্য তখন বাংলাদেশের মতো জ্বালানি সংকটের দেশ জ্বালানি আমদানির জন্য কাতারের দ্বারস্থ হতেই পারে। সম্প্রতি এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হলেও নানান আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেৰিতে তা আপাতত মুখ থুবড়ে রয়েছে। কাতারে নতুন একটি গ্যাসৰেত্র আবিষ্কার হওয়ায় দেশটির জ্বালানি মজুদ আগের তুলনায় অনেক বাড়বে। নর্থ গ্যাসফিল্ডের বাস্তবায়নাধীন একেজি-২ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩ বিলিয়ন কিউবিক ফুট গ্যাস উৎপাদন হবে। জ্বালানি পণ্যের ইতিহাসে এ এক নতুন সংযোজন। এদিকে কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে চলতি বছরের শুর্বর দিকে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী কাতার থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানি করে প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তরের কথা। প্রতি হাজার ঘনফুটের দাম প্রায় ১৪ ডলার পড়বে। সেই হিসেবে প্রতিদিন এলএনজি আমদানিতে খরচ হবে ৭০ লাখ ডলার, যা বছরে দাঁড়াবে ২৫০ কোটি ডলার। ২০১৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে এলএনজি আসার কথা ছিল। তবে এজন্য পৱ্যান্টসহ সার্বিক অবকাঠামো নির্মাণে জটিলতা শুর্ব হয়। সেই সঙ্গে দাম বেশি পড়ার আশঙ্কায়ও তা বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ২০১৮ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ খাতে সৌরবিদ্যুতের অবদান ১৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কাতার। সম্প্রতি কাতারের রাজধানী দোহায় শেষ হওয়া বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের সভাপতি ও কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ফাহাদ বিন মোহাম্মদ আল আত্তিয়া এ কথা জানান। তিনি বলেন, আমরা ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুর্ব করেছি। এর মাধ্যমে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১৬ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ খাত থেকে আসবে। এছাড়াও শুল্ক ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হবে, যাতে জনগণ সহজেই এটি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়। প্রসঙ্গত, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুনঃনবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। ফলে ওপেক সদস্যভুক্ত অন্য দেশগুলোর মতো কাতারও তেল এবং গ্যাসের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশটি মাথাপিছু সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করে থাকে। কিন্তু জাতিসংঘের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমাতে সক্ষম হয়নি তারা। কিন্তু এ বিষয়ে কাতারের মত হলো, তারা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করে অন্য দেশগুলোর কয়লা ব্যবহার কমাতে সাহায্য করেছে। ফলে অন্য দেশের দূষণের মাত্রা কমাতে তারা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি তাদের। গত বছর জাতিসংঘে দেয়া এক প্রতিবেদনে কাতার সরকার জানায়, কাতার টেকসই উন্নয়নে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশ্বের ধনবান শিল্পপতিদের অনেকের বাস এই দেশে। দেশের রাজধানী দোহায় আকাশচুম্বি বাড়িগুলো তো সবার চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। ২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার পর কাতার এখন ২০২০ অলিম্পিকের আয়োজক হওয়ার দৌড়েও আছে। এতেও বোঝা যায় অর্থনৈতিক ভিত কতোটা শক্ত। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কাতারের দক্ষিণে সৌদি আরব এবং এর পশ্চিমে দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন। দেশটিতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুদ রয়েছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ । – somewhereinblog.net