দিনাজপুরে হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত

Bhola1

দিনাজপুরে হাড় কাঁপানো ও কনকনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের প্রকৌপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুসহ অন্যান্য প্রাণীকুলও কাহিল হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা নামার আগেই লোকজন কাজ-কর্ম সেড়ে ও দোকান-পাট বন্ধ করে বাড়ী ফিরে যাচ্ছেন।
তীব্র শীতে শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্যান্য মানুষ ঠান্ডাজণিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ফলে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে ঠান্ডাজণিত রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
দিনাজপুরে শনিবার (২৩ জানুয়ারী) সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর শুক্রবার ছিল ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দু’দিন দিনাজপুরে সূর্যের দেখা মেলেনি।
ডিসেম্বরের শুরুতে শীতের তীব্র বেড়েছিল। ক’দিন পর কমে গিয়ে নতুন বছরের শুরুতে জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে সামান্য শীত অনূভুত হয়। এবার শীত ঋতুর পৌষ মাসে শীতের তেমন তীব্রতা না থাকলেও মাঘ মাসে এসে আবারো শীতের তীব্রতা বেড়েছে।
দিনাজপুরে গত শুক্রবার ও শনিবার সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। রাস্তা-ঘাট ছিলো ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। দিনের বেলায়ও অনেক যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। শীতের কারণে রাস্তা-ঘাট এবং হাট-বাজারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম ছিল।
এদিকে তীব্র ঠান্ডার কারণে খেটে খাওয়া দিন মুজুর ও শ্রমজীবী মানুষকে সব চেয়ে বেশী দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শীতের কারণে তারা ঘর থেকে হতে পারেনি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের কষ্ট করতে হয়েছে।
এদিকে শীতের প্রকোপ বদ্ধি পাওয়ায় দিনাজপুর বড় ময়দান শহীদ মিনার সংলগ্ন পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানে ছিন্নমূল মানুষসহ সব শ্রেণির পেশার মানুষের ভিড় বেড়েছে। আর এ সুযোগে দোকানীরা গরম কাপড়ের দাম খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে সরকারিভাবে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে এখনো পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি। তবে জেলার ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), ব্যক্তি উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়েছে।

মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর ॥