আমেরিকায় এ বছর নাসা জয়ী বাংলাদেশী মাহমুদা মুনমুন

জেলা প্রতিনিধি (পাবনা) : আমেরিকায় এ বছর নাসা জয় করে তরুনী মাহমুদা মুনমুন শুধু ঈশ্বরদীর নাম উজ্বল করেছেন তা নয় সে বাংলাদেশের লাল সবুজ পাতাকাও তুলে ধরেছেন অনন্য উচ্চতায়। বিশ্ববাসীর নিকট বাংলাদেশের মুখ উজ্বল করেছেন এই তরুনী। পৃথিবীর অন্যন্য মেধাবীদের টেক্কা দিয়ে এবার নাসার গভার্ড এফ ওয়াই ১৭ আইআরএডি ইনভেন্টর অব দ্য ইয়ার মনোনিত হয়ে সারা পৃথিবীতে সারা ফেলে দিয়েছেন। ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের গোলাম জাকারিয়ার মেয়ে মাহামুদা সুলতানা মুনমুন নাসার সর্বকনিষ্ঠ নারী কর্মকর্তা। মুনমুনের বাবা গোলাম জাকারিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবসর প্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী এবং জয়নগর গ্রামের প্রায়ত আব্দুল গনি মাষ্টার মুনমুনের দাদা ও সেতু মন্ত্রণলয়ের সচিব আলাউদ্দিন আহম্মেদ তার চাচা। নাসার প্রধান কর্মকর্তা পিটার হিউজেস বলেন বাংলাদেশী মাহমুদা সুলতানা মুনমুনকে নিয়ে বেশ গর্ববোধ করে বলেন তাকে আমরা ইনভেন্টার অব দ্য ইয়ার মনোনিত করতে পেরে গর্বিত কারণ, মুনমুন নাসার যে কয়েকটা কাজে অংশ নিয়েছেন তাতেই তিনি সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তার চমৎকার পারদর্শীতায় আমরা আশা করছি খুব শিঘ্রই সে নাসার একজন ন্যানো টেকনোলজি বিশেষজ্ঞ হবেন। ঈশ্বরদীর কৃতি সন্তান মুনমুন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোনিয়ার সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করেন। এলাকাবাসী জানায় মুনমুন ছোটবেলায় জয়নগর গ্রামের জয়নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করত। ২০১০ সালে তিনি ম্যাচাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারে উপর পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। একই সালে গভার্ডে গ্রাফিন (পারমানবিক স্কেল) নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান। মূলত গ্রাফিন নিয়ে কাজ করার সুবাদে মুনমুনের সৃজনশীলতার প্রতি মুগ্ধ হয় নাসা। এর ফলে এ বছর নাসা কর্তৃপক্ষ মাহমুদা সুলতানা মুনমুনকে ইনভেন্টার অব দ্য ইয়ার মনোনিত করে। নাসা সাময়ীকি কার্টিং এজ এর লেটেস্ট ইস্যুর প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ও করা হয়েছে ঈশ্বরদীর কৃতি সন্তান মাহমুদা সুলতানা মুনমুনকে নিয়ে। মুনমুনের বাড়ী পাবনার ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ছলিমপুর গ্রামের এই তরুনীর অর্জনে উচ্ছসিত ঈশ্বরদীর সর্বস্তরের মানুষ সহ মুনমুনের খেলার সঙ্গীরা। মুনমুনের বাবা গোলাম জাকারিয়া বলেন আমার মেয়ে নাসার আইআরএডি বর্সসেরা উদ্ভাবক নির্বাচিত হওয়ায় খুবই আনান্দিত।
এখন আমি ও আমার পরিবারের লোকেরা এলাকার মানুষের কাছে অন্যরকম সম্মানিত বোধ করছি। ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক উদয়নাথ লাহেরী বলেন, একটি অজ পাড়াগাঁয়ের তরুনী হয়েও যে কেউ পৃথিবীতে সেরা মানুষ হয়ে মাথা উচু করে দাড়াতে পারে, মাহমুদা মুনমুন তার অনন্য দৃষ্টান্ত। মাহমুদার চাচাতো বোন লাবনী ইসলাম জানান, ছোট বেলা থেকেই মুনমুন ছিল অসাধারন মেধাবী। সে সবসময় নতুন কিছু নিয়ে ভাবতে ভালবাসত। মুনমুনের পারিবারিক সুত্রে জানাযায় কিশোরী বয়সেই মুনমুন যুক্তরাষ্টে যান। ছোট বেলা থেকেই তিনি মেধাবী। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোনিয়ার সাউদার্ন বিশ্বাবিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর ২০১০ সালে এমআইটি থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। একই বছর এক জব ফেয়ারে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে নাসায় কাজ করার সুযোগ পান। বর্তমানে মাহমুদা ও তার দল এমআইটি’র অধীনে প্রটোটাইপ ইমেজিং স্পেক্ট্রোমিটার তৈরীতে কাজ করছেন।

কোয়ান্টাম ডট স্পেক্ট্রোমিটার কি ?
কোয়ান্টাম ডট বা বিন্দু মূলত অর্থ পরিবাহি একধরনের ন্যানোক্রিস্টাল যা খালি চোখে দেখা যায় না। এটি আবিস্কার হয় ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে এই বিন্দুর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হল এর আকার ও রাসয়নিক গঠনের উপর নির্ভর করে তা আলোর বিভিন্ন তরঙ্গ দৈঘ্য কতটুকু শোষণ করবে। সাধারনত স্মার্ট ফোনের ক্যামেরা মেডিকেল ডিভাইস এবং পরিবেশ গত পরিক্ষার বিভিন্ন সরঞ্জম তৈরীতে ব্যবহার করা হয় এই ন্যানোক্রিস্টাল।

এই বিষয়ে মুনমুন বলেন আমি বিশ্বাস করি মাহকর্ষে ব্যবহৃত এই ক্ষুদ্রাকৃতির স্পেক্ট্রোমিটার এর আকার আরো ক্ষুদ্র করার পাশাপাশি এর আরো উৎকর্ষ সাধন করা সম্বভ এর ফলে এই প্রযুক্তি কৃত্রিম উপগ্রহে যে সব স্থানে মানুষ যেতে পারে না সেখানে পাঠানো ক্ষুদ্র যানবহন ব্যবহার করা সহজ হবে। স্পেক্ট্রোমিটার শোষন বর্ণালীকে কাজে লাগানো হয়েছে। এই ক্ষেত্রে এই যন্ত্র মহাকাশে ধুলিকনা ও গ্যাসীয় পদার্থ থেকে বিকিরিত আলো কতটুকু শোষন হল তা পরিমাপ করা হয়েছে। যা থেকে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া সম্ভব।#