বগুড়ার শেরপুরে প্রতিদ্বন্দ্বি দুই মহলিা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে হাতাহাতি ও চুলোচুলি!

অশোক সরকার:বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্রার্থীর মধ্যে হাতাহাতি ও চুলোচুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় প্রার্থী পরস্পরকে বাজে ভাষায় গালাগালও করেন। গত বৃহস্পতিবার (২৮ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে পৌরশহরের ¯ানীয় বাসষ্ট্যান্ড¯ রঙ্গিলা হল মার্কেট এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগকালে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ি করে নির্বাচনের সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও উপজেলা নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোছা. খাদিজা বেগম বলেন, নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর ঘটনার সময় তাঁর কলস মার্কার পক্ষে ভোট চেয়ে পৌরশহরের ¯ানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন তিনি। এসময় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. ফিরোজা বেগম (প্রতীক ফুটবল) একই এলাকায় গণসংযোগকালে আমার বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য দেন। এমনকি অশ্লীল ও অসভ্য ভাষায় আমাকে গালাগাল করতে থাকেন। এতে প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে জনসম্মুখে আমার চুল ধরে টেনে হেঁচড়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া প্রার্থী ফিরোজা বেগম ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অপপ্রচারসহ নানামুখি ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমার ও আমার লোকজনের বিরুদ্ধে একাধিক জায়গায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অপর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ফিরোজা বেগম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকেই প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার জন্য খাদিজা ও তার লোকজন নানা ভয়ভীতি দেখায়। এমনকি তাকে প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়া হয়। এরপরও মাঠে থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে না পেরে খাদিজা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় ভোটারদেও সঙ্গে নির্বাচনী আলাপ-আলোচনাকালে খাদিজা ও তার দুইবোনসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিতভাবে হামলে পড়ে। এমনকি প্রার্থী নিজেই (খাদিজা) আমার চুল ধরে কিল-ঘুষি মারতে মাতে মাটিতে ফেলে দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মোছা. আছিয়া খাতুন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন সে অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যব¯া নেয়া হবে। শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) বুলবুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যব¯া নেয়া হবে বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।