কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি : জনদুর্ভোগ চরমে

মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকে : জেলায় বৃষ্টি না হলেও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পানিতে কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৬’লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার উলিপুর উপজেলার তবকপুরসহ ভিভিন্ন ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকায় পানি ওঠে প্রায় ৫’শতাধিক গ্রামের ২ লক্ষাধিক পরিবারের বসতভিটায় পানি ঢুকে পড়ায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার তাদের তলিয়ে যাওয়া বসতবাড়ী ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিলেও সেখানেও তারা নিরাপদ নয়। বন্যাকবলিত এলাকায় নলকুপগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ওইসব এলাকায় খাদ্য এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখাদিয়েছে। পাশাপাশি জেলার ৯ উপজেলার ৪’শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এছাড়াও প্রায় পাঁচ হাজারেরমত পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার-১০৭ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে-১০০ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার-১২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কে পানি উঠায় ভারীযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ওই এলাকার মানুষের মাঝে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি মানুষজনের মাঝে বিশুদ্ধ পানি আর খাবার সংকট চলছে। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট চলছে।

অন্যদিকে জেলার পানিবন্দি মানুষজনের মাঝে চরম আতংক ও খাদ্য সংকট চলছে বলে জানিয়েছে বানভাসি মানুষ। জেলার এক তৃতীয়াংশ পানির নীচে। সকল প্রকার তরীতরকারীর ক্ষেত ও আমন বীজতলা পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েগেছে।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয় কালেক্টরেট জামে মসজিদের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয় এবং পরে স্থানীয় টাউন হলে মৎস্য সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা সভা করা হয়।