কুড়িগ্রামে ভয়াবহ বন্যা ৮৮’কে হার, জনদুর্ভোগ চরমে, ত্রানের জন্য হাহাকার

মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকে : বন্যা দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় শুকনো খাবার ও গুরের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।মজুত খাদ্য ফুরিয়ে যাওয়ায় ত্রাণের জন্য তাকিয়ে থাকে পানিবন্দি নারী-শিশুরা। কুড়িগ্রামের ধরলা ব্রক্ষপুত্র ও তিস্তাসহ ১৬টি নদ-নদী তিরবর্তির বিস্তির্ন এলাকার ৮লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে। স্বজনরা ফোনালাপে শুধু কাঁদে। তাদের কাছে যাওয়ার কোন উপায় না থাকায়। জেলার ৭৬টি ইউনিয়নের ৫৭টি প্লাবিত। উলিপুর উপজেলার তবকপুর ও ধরনীবাড়ীসহ যেসব ইউনিয়নে এর আগে কখনোই বন্যার দেখা মেলেনি সেইসব এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ে ভিভিন্ন নতুন-নতুন এলাকা পানিবন্দি হওয়ায় ওই মানুষগুলো অবর্ননীয় কষ্টে দিনকাটাচ্ছে। জেলার প্রায় ৯’শতাধিক গ্রামের ২ লক্ষাধিক পরিবারের বসতভিটায় পানি ঢুকে দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার তাদের তলিয়ে যাওয়া বসতবাড়ী ছেড়ে বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিলেও সেখানেও তারা নিরাপদ নয়। সেখানে রয়েছে বিষধর সাপের ভয়। বন্যাকবলিত এলাকায় নলকুপগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ওইসব এলাকায় খাদ্য এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার উলিপুর উপজেলার যেসব এলাকায় ৮৮সালের বন্যায়ও পানি ওঠেনি সে-সব এলকাতেও ব্রক্ষপুত্রের পানি রাস্তা ভেঙ্গে ঠুকে পড়েছে। ফলে বন্যা সংক্রান্ত তাদের কোন পুর্ব প্রস্তুতি না থাকায় ওইসব এলাকার পানিবন্দি মানুষজন বেশী বেকায়দায় পড়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার-২১ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে-২১ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার-৬১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সবগুলো নদ-নদী টইটুম্বুর। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি।

এদিকে কুড়িগ্রামের উত্তরের ৩ উপজেলার পানি কমিয়ে গেলেও দক্ষিনে উলিপুর উপজেলার ৭০ভাগ, চিলমারী, রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলার প্রায় সম্পুর্ন এখোনো পানিতে তলিয়ে থাকায় ওইসব এলাকার অবস্থা খুব খারাপ। ফলে ওই এলাকার মানুষের মাঝে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি মানুষজনের মাঝে বিশুদ্ধ পানি আর খাবার এবং গো-খাদ্যের তীব্র সংকট চলছে। দেখাদিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ।

অপরদিকে সরকারী ও বেসরকারীভাবে কিছু-কিছু এলাকায় ত্রাণ দেয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব মো: আজাদ হোসেন সরকার গতকাল শনিবার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ও বুড়াবুড়িতে ব্যাক্তিগতভাবে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। এছাড়াও জেলা জামায়াতের পক্ষথেকে জেলার নাগেশ্বরীসহ বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলার পানিবন্দি মানুষজনের মাঝে বিষধর সাপের চরম আতংক ও খাদ্য সংকট চলছে বলে জানিয়েছে পানিবন্দি মানুষজন।

অন্যদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে মাছে ফরমালিন বিরোধী অভিযান ও মৎস্য বিষয়ক আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদী বন্যা হওয়ায় নষ্ট হয়েছে চলতি আমন বীজতলা শাকসবজি ও তরীতরকারীর ক্ষেত।ভেসে গেছে প্রায় ২০ হাজার পুকুরের মাছ।এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছচাষীগণ।

ভিন্নদিকে জেলা ত্রাণ ও দুরযোগ ব্যাবস্তাপনা শাখা সুত্রে জানা যায়, জেলায় প্রস্তুতকৃত আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা ৪০৯টির মধ্যে ব্যাবহুত আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা ১৮৬টি।আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত পরিবারের সংখ্যা ১০ হাজার পরিবার। বন্যায় আক্রান্ত ফসলি জমির পরিমান ১৯ হাজার ৬৩৮ হেক্টর। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলায় পানিতে পড়ে মৃতের সংখ্যা শিশু-১১ বৃদ্ধ-৩। মোট-১৪। #