কুড়িগ্রামে কমছে পানি, ভাংছে নদী ॥ বাড়ছে দুর্ভোগ ॥ রোগের প্রাদুর্ভাব ॥ রেল যোগাযোগ বন্ধ

মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকে : কুড়িগ্রামের ওপরদিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রক্ষপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমর, ফুলকুমর, সংকোশ, গঙ্গাধর, সোনাভরী, হলহলিয়া, ঝিন্জিরাম ও নীলকমলসহ ১৬ টি নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। বাড়ছে নদী ভাঙ্গন। বন্যার পানিতে ডুবে নিম্নঞ্চলসহ জেলার প্রায় ৮৫ভাগ প্লাবিত হয়ে মানুষ ও পশুপাখি এবং আমন আবাদের জন্য প্রস্তুতকরা বীজতলার অবস্থা কাহিল। গত কয়েকদিনে ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের পানির ঢল কমে যাওয়ায় নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে সার্বিকভাবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও বানভাসীদের দুর্ভোগ কমেনি। কুড়িগ্রামের নদ-নদী তীরবর্তী বন্যা কবলিত মানুষের অনেক পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এখনও চরমে রয়েছে। বিভিন্ন উপজেলার অন্তত: সাড়ে ৪শতাধিক দুর্গম চর ও দ্বীপ চর গুলোতে এখন পর্যন্ত ত্রাণের জন্য হাহাকার অবস্থা। পানি কমলেও খাদ্যের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। যারা সরকারিভাবে ত্রাণ পেয়েছেন তাদেরও অনেকের তা শেষ হয়ে গেছে। আবার যারা এখনও ত্রাণেরই মুখ দেখেননি তাদের দুরবস্থার যেন শেষ নেই। এ অবস্থায় এসব পরিবার চাচ্ছেন খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি। বন্যা ও বৃষ্টির কারনে জেলার উলিপুরের-ভাটিতে চিলমারী রমনার মাঝামাঝি স্থানে লাইনের মাটি সরে যাওয়ায় ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে কুড়িগ্রাম চিলমারী রেল যোগাযোগ। ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের পানি আর কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে রেলপথ নাজুক হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে কুড়িগ্রাম-রমনাবাজার রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ট্রেন বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার ৪ উপজেলার মানুষ। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জেলার কুড়িগ্রাম স্টেশন থেকে চিলমারী উপজেলার রমনাবাজার পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার এলাকা ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, বন্যার পানি কমে বিভিন্ন এলাকায় ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগেও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন কমবেশি উপজেলা ও জেলা সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। হাতে কাজ না থাকায় এসব মানুষ এখন বেকায়দায় জীবন নির্বাহ করছে। পানিতে তলিয়ে থাকা আমনের চারাগুলো যেন ল্যাপ্টে গিয়ে নষ্ট হয়েছে। ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে দীর্ঘমেয়াদী বন্যা ও বৃষ্টিপাতের কারনে এবার গো-খাদ্য খড়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু নিয়ে মানুষ চরম বিপদে পড়েছে। আমন ধান উঠতে এখানে আরও তিন/চার মাস বাকি। বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে সবুজ ঘাস। অনেকে গবাদিপশুর খাদ্য যোগান দিতে পারছেন না। ফলে রংপুর-বদরগঞ্জ-বগুড়া এবং দিনাজপুর ও সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খড় আমদানি করছেন এখানকার খড় ব্যাবসায়ীরা। এগুলো দুই-তিন গুণ চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। প্রতিদিন রাজারহাট উপজেলার বাজার সংলগ্ন রেল লাইনের পার্শ্বে খড়ের হাটে প্রতি কেজি খড় ১৫-২০ টাকা দরে ক্রয় করতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। কয়েকদিনের মধ্যে খড়ের তীব্র সংকট ও মুল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে খামারিরা জানিয়েছেন। একই অবস্থা গো খাদ্য সংকট জেলার প্রতিটি উপজেলায়।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে বন্যার পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন। গত ৩দিনে জেলার ৯ উপজেলার বেশ কিছু আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে ঘর-বাড়ী, ফসলী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। বন্যার পর ভাঙ্গন যেন মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মত হয়ে দাড়িয়েছে নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষগুলোর কাছে। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, নদীর ভাঙ্গন চলছে রৌমারী, রাজিবপুর, রাজারহাট, চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। ভাঙ্গনে গৃহহারা পরিবার গুলো সবকিছু হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

অপরদিকে জেলা প্রশাসক অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত চাল ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তবে আরো বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে এবং সেগুলো আসামাত্রই জরুরী ভিত্তিতে বন্যার্তদের মাঝে দেয়া হবে।

অন্যদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন, জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করন, র‌্যালি ও আলোচনা সভা করা, ৩দিন ব্যাপি মৎস্য মেলার আয়োজন করা, মাছে ফরমালিন বিরোধী অভিযান চালা, মৎস্য বিষয়ক আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা, ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মৎস্য বিষয়ক আলোচনা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা এবং উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও মৎস্য সপ্তাহের মূল্যায়নসহ পুরুস্কার বিতরণ করা হয়েছে। গত ১৭ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই মঙ্গলবার পর্যন্ত উক্ত কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয়েছে। #