সৈয়দপুরের তৈরী তৈজসপত্র ভারত ও ভুটানে রপ্তানী

জয়নাল আবেদীন হিরো, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
অষ্টম বাণিজ্য শহর সৈয়দপুর। শিল্প-বাণিজ্যের এ শহর দেশের বাজার জয় করে ভুটানের পর এবার ভারত জয় করেছে সৈয়দপুরে তৈরি গৃহস্থালী তৈজসপত্র। শিল্প পরিবার নোয়া গ্রুপের রয়েল্যাক্স মেটাল ইন্ডাষ্ট্রিতে তৈরি প্রেসার কুকার, ননস্টিক, ফ্রাইপ্যান, স্টীল ও অ্যালুমিনিয়াম তৈজসপত্র এখন রপ্তানি হচ্ছে ভারতে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি মহানগরে খোলা হয়েছে ওইসব পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্র হতে জানা যায়, প্রতিবেশি দেশ ভুটানের বাজারে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে নোয়া গ্রুপের পণ্য। চলতি বছরের শুরু থেকে ভারতেও রপ্তানি হচ্ছে এখানকার উৎপাদিত পণ্য। পশ্চিমবঙ্গের ট্রানজিট শহর শিলিগুঁড়ির সেবক রোডে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে স্থাপন করা হয়েছে নোয়া পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র।

ভারতে নোয়া পণ্যের রপ্তানীর প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে ওই শিল্প পরিবারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজকুমার পোদ্দার জানান, ইতোপূর্বে ভারতীয় তৈজসপত্র বাংলাদেশের বাজার ছেয়ে যায়। পরে আমরা আমাদের চিন্তার প্রসার ঘটায় কিভাবে আমাদের দেশের পন্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়। এরই ফলশ্রুতিতে তৈজসপত্র তৈরিতে আমরা সক্ষমতা অর্জন করেছি। দেশের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এখন উন্নতমানের প্রেসার কুকার, ননস্টিক, ফ্রাইপ্যান ও অন্যান্য তৈজসপত্র তৈরি করছে। তিনি আরো বলেন, গত ১০ বছর ধরে কোলকাতা ও দিল্লীতে আয়োজিত বাণিজ্য মেলায় নোয়া গ্রুপ অংশ নেয়। সেখানেও আমাদের পন্য কিনতে ভারতীয় ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। ভারতীয় গৃহিনীরা আমাদেরকে স্বাগত জানিয়েছেন। ফলে তাদের বাজারে প্রবেশ করা সহজতর হয়েছে।

পোদ্দার আরও জানান, এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন শুধু গার্মেন্টস নয় অন্যান্য পণ্যও রপ্তানি করতে চাই আমরা। প্রধানমন্ত্রীর ওই কথায় আমরা উৎসাহ পেয়েছিলাম। নোয়া চলতি বছরের শুরু থেকে একটি করে চালান পাঠিয়েছে ভারতে। এ যাবত প্রতিষ্ঠানটি ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। দিন দিন চাহিদা বাড়ছে তাই রপ্তানিও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদি। সরেজমিনে সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় কারখানায় ঘুরে দেখা যায় ১২টি ইউনিটে চলছে কর্মযজ্ঞ। তৈরি হচ্ছে প্রেসার কুকার, অ্যালুমিনিয়াম হাড়ি-পাতিল, ননস্টিক, ফ্রাইপ্যান, গ্যাসের চুলা ইত্যাদি। এসব তৈজসপত্র তৈরীতে কোম্পানিতে ৮০০ শ্রমিক-কর্মচারি কাজ করছেন। তার মধ্যে এর অর্ধেকেই নারী।

রয়েল্যাক্স মেটাল ইন্ডাষ্ট্রির সহকারি মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মাহমুদ চৌধুরী জানান, বর্তমানে আমাদের প্রতিদিন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৬০০ প্রেসার কুকার, ৫০০ ননস্টিক ফ্রাইপ্যান, এক হাজার তৈজসপত্র। এছাড়াও বিপুল পরিমান অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনও বাড়ানো সম্ভব। তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চীন থেকে নিম্নমানের তৈজসপত্র আমদানি করে ভারতীয় হাওকিন ও প্রেষ্ট্রিজ প্রেসার কুকারের স্টীকার লাগিয়ে বাজারজাত করছেন। এতে করে দেশীয় শিল্প হুমকীর মুখে। প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতা সাধারণ। অবৈধ এসব পণ্যের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি।

অপরদিকে, বিয়েবাড়ি উৎসবে খাবার জন্য চাই প্লেট, খাদ্য বহনে চাই বক্স। পরিস্কার পরিচ্ছনতার ঝামেলা এড়াতে ওয়ানটাইম প্লেট ও বক্সের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীতে গড়ে ওঠেছে হাইজানিক কেয়ার প্রডাক্ট ইন্ডাষ্ট্রিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানকার তৈরি ওয়ানটাইম প্লেট ও বক্স বাজার জাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।

নোয়া রয়েলেক্স মেটাল ইন্ডাষ্ট্রির পণ্য নোয়া প্রেসার কুকার, ফ্রাইপ্যান, গ্যাসের চুলা দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানে পাঠানো হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানের সহযোগি প্রতিষ্ঠান হাইজানিক কেয়ার প্রডাক্ট ইন্ডাষ্ট্রিজ।

এ প্রতিষ্ঠানটি গত মার্চ’১৯ থেকে ওয়ানটাইম প্লেট ও বক্স তৈরির কাজ শুরু করেছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার প্লেট ও বক্স তৈরি করে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের মালিক রাজকুমার পোদ্দার জানান, এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে ওয়ানটাইম প্লেট ও বক্স এবং গ্লাস তৈরির মেশিনপত্র চায়না থেকে আমদানি করা হয়। এতে প্রায় ১৯ কোটি খরচ পড়ে। সেখান থেকে কয়েকজন বিদেশি এক্সপার্ট এসে মেশিনপত্র পরিচালনার কলাকৌশল শিখিয়েছেন এবং তারা এখনও রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব তৈরির কাঁচামাল জিপিপিএইচ ভারত থেকে আমদানি করে আনতে হয়। ফলে পণ্য উৎপাদনে খরচ বাড়ছে। তবুও চাহিদার কথা বিবেচনা করে প্রতিপিস প্লেট ও বক্স এক টাকা ৮০ পয়সা থেকে ২ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে পাইকারদের কাছে। খুচরা দোকানীরা এসব আড়াই টাকা থেকে ৩ টাকায় বিক্রি করে থাকেন।

তিনি আরো বলেন, রংপুর ও দিনাজপুরের মধ্যবর্তী স্থানে সৈয়দপুরে কারখানাটি অবস্থানের কারণে অতিদ্রুত এর উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বাজার দখল করে নেয়। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদনে মাঝে মধ্যে বিঘœ ঘটে কারখানায়।