ফুটবল যাদুকর সামাদের স্মৃতি বিলুপ্তির পথে

অনলাইন ডেস্ক : পার্বতীপুরে ফুটবলের ঐতিহ্যমন্ডিত ও গৌরবোজ্জল ইতিহাস যাদুকর সামাদ। তিনি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ফুটবলার ছিলেন। যাকে বলা হয় ফুটবল কিংবদন্তীর মহান নায়ক। বিস্ময়কর ক্রীড়াকৌশলী এবং উন্নতমানের খেলা জন্য ফুটবলের যাদুকর উপাধিতে ভূষিত হন। তার তেইশ বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে এমন সব বিস্ময়কর ও অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে যা ক্রীড়াঙ্গনে উজ্জল দৃষ্ঠান্ত হয়ে আছে।
ভারতের পশ্চিম বাংলার পুর্ণিয়া জেলায় ১৮৯৫ সালে যাদুকর সামাদের জন্ম হয়। তাঁর পুরো নাম সৈয়দ আব্দুস সামাদ। ১৯১২ সালে কোলকাতার মেইন টাউন ক্লাবে প্রথম ফুটবল খেলা শুরু করে তখন তার বয়স ১২ বছর। ১৯১৮ সালে এরিয়েন্স ক্লাবের সদস্য হন এবং ১৯১৯-২০ মধ্যে তাজহাট ক্লাবের পরিচালক নিযুক্ত হন। ১৯২১-১৯৩১ সাল পর্যন্ত ই,বি,আর টিমে খেলেন। ১৯২৪ সালে প্রথম ভারতীয় দলে খেতে জাভা (ইন্দোনেশিয়া) যান। স্মরনযোগ্য এটাই ভারতীয় দলের প্রথম বিদেশ যাত্রা। ১৯২৬ সালে পুনরায় জাভা যান। একই বছর সামাদ মোহামেডান স্পোটিং টীমের পক্ষে খেলে চুড়ান্ত কাপ বিজয়ী হন। ১৯৩২ সালে অল ইন্ডিয়া ফুটবল এসোসিয়েশনের পক্ষে খেলতে তিনি শ্রীলংকা যান।
১৯৩৩ সালে মোহামেডান স্পোটিং -এ যোগ দেন। সে বর্ছ উন্নতমানের খেলার জন্য “হিরোস আব দি গেমস” সম্মানে ভূষিত হন। তার পরের বছরগুলো মোহামেডানের স্বার্ণযুগ। কারন পরপর ৫ বছর আইএফ -এর শীল্ড ও লীগ বিজয়ী হবার গৌরব এ সময় অর্জন করে মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব।
১৯৪৭ সালে দেশে বিভাগের পর যাদুকর সামাদ ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় স্থায়ী বসবাস করেন। পার্বতীপুরে সাহেব পাড়া কলোনীতে টি-১৪৭ নম্বর বাসায় থাকতেন। তিনি পার্বতীপুরে রেলওয়ে প্লাটফরম ইন্সপেক্টর পদে চাকুরী করেন। চাকরি থেকে অবসর নেন ১৯৫৭ সালে। এ সময় কিছুদিন ঢাকা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রন বোর্ডের হয়ে কোচের দায়িত্ব পালন করেন।
ফুটবল যাদুকর সামাদ ১৯৬৪ সালে ২ ফেব্রুয়ারী পার্বতীপুরে সাহেব পাড়া কলোনীতে টি-১৪৭ নম্বর বাসাতেই মৃত্যু বরন করেন। তিনি আজ নেই কিন্তু তারই স্মৃতি জীবিত রাখার জন্য পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুর কবরস্থানে সমাহিত করার দীর্ঘ ২৫ বছর অবহেলিত অরক্ষিত থাকার পর ১৯৮৯ সালে সাবেক এখানে রয়েছে সামাদ রেলওয়ে মিলনায়তন যা ১৯৪৯ সালে ফুটবল যাদুকর সামাদের নামে উৎসর্গ করা হয়েছিল। রয়েছে তার বসবাসকৃত রেলের বাসাসহ বেশকিছু স্মৃতি চিহ্ন। কিন্তুু প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে তার স্মৃতি চিহ্নগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে।
সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে ফুটবল প্রেমী ও এলাকাবাসীর দাবী পার্বতীপুরে ফুটবলে ঐতিহ্যমন্ডিত ও গৌরবোজ্জল ইতিহাস ফুটবলার কিংবদন্তীর মহান নায়ক সামাদ স্মৃতি চিহ্ন গুলোকে রক্ষনাবেক্ষন এবং তাঁর বাড়ীটি যাদুঘর হিসেবে তৈরী করলে পরবর্তী প্রজন্মের ফুটবলের প্রতি প্রেরনা হয়ে জেগে উঠবে। #