ঢাকা – টু – দার্জিলিং  সরাসরি ট্রেন যাবে ১৫ মাস পর


অনলাইন ডেস্ক : ট্রেনে যাওয়া যাবে ভারতের দার্জিলিং। বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার চিলাহাটি হয়ে রেললাইন যাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার হলদিবাড়ী স্টেশন পর্যন্ত। প্রায় ৫২ বছর পর ঢাকা-দার্জিলিং রেল যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশের চিলাহাটি অংশে রেললাইন নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ অংশে রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর এই রেললাইন নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। রেল রুটটি চালু হলে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ট্রেনে করে দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাওয়া যাবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি রেলঘুন্টি এলাকার তিনটি রেল সংযোগ লাইনের জন্য মাটি ফেলে লেবেল করে রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। উভয় দেশের ১১ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার রেললাইনের মধ্যে বাংলাদেশ অংশের প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার রেললাইন পড়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের হয়ে এই রেললাইন নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল। রেলপথটি নির্মাণের কাজ ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মো. জয়দুল ইসলাম জানান, ১৮৭০ সালে অর্থাৎ ১৪৯ বছর আগে ব্রিটিশরা সৈয়দপুর শহরে ১১০ একর জমির ওপর রেলওয়ে কারখানা প্রতিষ্ঠা করে। এই দেশের সম্পদ আহরণ ও যোগাযোগের স্বার্থে তারা দেশের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে কারখানা নির্মাণ করে এবং এই রেলপথ সৃষ্টি করে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পরও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নীলফামারীর চিলাহাটি ও হলদিবাড়ীর মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ ছিল। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ভারতের হলদিবাড়ীর সঙ্গে পাকিস্তানের রেল যোগাযোগ ছিল। দার্জিলিং মেইল ট্রেনটি তখনও এই পথে দর্শনা হয়ে যাতায়াত করতো। চিলাহাটি-হলদিবাড়ীর ট্রেন যোগাযোগের কথা এখনও মানুষের মুখে মুখে রয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের সময় এই পরিত্যক্ত রেলপথটি আবার চালুর উদ্যোগ ও পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে ৮ মে থেকে সপ্তাহব্যাপী নীলফামারীর চিলাহাটির অংশে এবং ২০১৭ সালের গোড়ার দিকে ভারতের অংশের জরিপ কাজ হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে দীর্ঘ পাঁচ দশক বন্ধ থাকা চিলাহাটি-হলদিবাড়ী পরিত্যক্ত রেলপথ পুনরায় স্থাপন হতে যাচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রকল্পের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। যা ২০১৮ সালের একনেকের সভায় বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাড়ে সাত কিলোমিটার রেলপথ, ছয়টি ব্রিজ ও চিলাহাটি রেলস্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানের স্টেশনে রূপান্তরে কাজ করা হবে।

এদিকে খুলনার মোংলা, ঢাকা ও রাজশাহী থেকে সরাসরি ব্রডগেজের রেলপথ চালু রয়েছে নীলফামারী চিলাহাটি স্টেশন পর্যন্ত। ঢাকা থেকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি এখন সরাসরি চিলাহাটি পর্যন্ত যায়। নতুন রেলপথ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে ভারতের হলদিবাড়ী হয়ে জলপাইগুড়ি নিউজলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ির সঙ্গে ফের সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হবে। সেই সঙ্গে ঢাকা নিউজলপাইগুড়ি (শিলিগুড়ি) ট্রেন চলাচল করবে সরাসরি।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার আল ফাত্তা মো. মাসুদুর রহমান জানান, ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চিলাহাটি-হলদিবাড়ীর রেল সংযোগের কাজ শুরু হয়েছে। এটি নির্ধারিত সময় ২০২১ সালের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছি।

অন্যদিকে বাংলাদেশের অংশের কাজ মাত্র শুরু হলেও হলদিবাড়ীর অংশ চার দশমিক ৩৪ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপনের কাজ ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর শুরু হয়ে ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভারতের হলদিবাড়ী রেলস্টেশনটিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার কাজ। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পে ৩১ কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে। ভারতের অংশের নতুন স্থাপিত রেললাইনে বাংলাদেশের চিলাহাটি ডাঙাপাড়া সীমান্ত বিপি ৭৮২/২ এস নম্বর পিলার পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে রেলের ইঞ্জিনও চালানো হয়েছে। #