পার্বতীপুরে উচ্ছেদের নামে দুর্নীতি রেল কানুনগোর, উচ্ছেদকৃত ভুমি কার?

নিজস্ব প্রতিবেদক : রেলওয়ের জায়গা উদ্ধারের নামে বুলডোজার দিয়ে টার্মিনাল বাজারের দোকানপাট ও উত্তরে আবাসিক এলাকার ঘরবাড়ী উচ্ছেদ করার নামে গুড়িয়ে দেয়া হয়।

প্রকাশ থাকে যে অত্র এলাকায় রেল কতৃপক্ষের কোন সিএস ও এসএ খতিয়ান রেকর্ডভূক্ত কোন সম্পত্তি নাই এবং এযাবৎ তাদের দখলেও কোন সম্পত্তি নাই। তারা এল এ কেস নং ২/১৯৩৮-৩৯ মুলে অধিগ্ররন ও ২৪ জুলাই ১৯৪৬ সালের একখানা গেজেট ( যা গেজেট অব কলিকাতা) নামে সবাই জানেন,তা বৃট্রিশ আর্মিরা ২য় বিশ্বযুদ্ধ কালীন সিএস রেকর্ডভূক্ত মুল জমির মালিকদের কাছ থেকে রিকুইজিশন করেছিলেন ৬মাসের জন্য যা বারিয়ে আরও ৬মাসে নিয়ে ছিল । যুদ্ধ পরবর্তি মুল মালিকগনকে তা ফেরৎ দেয়া অদ্যাবধি হয় নাই, পরবর্তিতে যুদ্ধবিধস্হ দেশে ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধ, নন বেঙ্গলিদের অসহযোগিতার কারনে গুলপাড়া বিহারী বস্তিসহ অত্র এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং পরবর্তিতে ১৯৬৯ এর গন আন্দোলন এবং ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের করনে অত্র এলাকা বারে বারে ঝুকির সন্মূখিন হওয়ায় ও আইয়ুবি শাসনের কারনে মুল মালিক জায়গার পুর্ণ দখল পায় নাই।স্বাধীনতা পরবর্তি দেশ হানাদার মুক্ত হলে মুল মালিকের ওয়ারিশগন নিজ জমি দখলে নিয়ে বসবাস করাসহ কেনাবেচা করার সুত্রেই অত্র এলাকায় মালিকানা গড়ে উঠে এবং এলাকার নাম পরিবর্তন হয়। এসব কারনে ৬২র এসএস কিছু ভুমি রেকর্ড করতে পারেন নাই। কিন্তু মালিকানার ভিত্তিতে সিএস, এসএ, সাব কবলা দলিল, মুলে রেলের বিরুদ্ধে আদালতে বহু মামলা, শোকজ নোটিশ ও নিষেধ দাগা রয়েছে,উচ্ছেদ অভিযানকালিন সময়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ বিষয় গুলির তোয়াক্কা না করে বিমাতা সুলভ আচরন করে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা করেছেন,আসলে রেল কানুনগো জিয়াউল হক বহুভাবে অবৈধভাবে গরীব মলিকদের কাছ থেকে উৎকোচ নেয়ার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে কতৃপক্ষে কাছে ভুল তথ্য প্রদান করে এই উচ্ছেদ অবিচার করেছেন। যা নিরপেক্ষ ও জরুরী তদন্ত হওয়া উচিৎ বলে এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্হ গোষ্টি মনে করেন।

এ প্রসংগে আরো জানা যায় রেল কতৃপক্ষের বৃট্রিশ আর্মির গেজেট ছাড়া অন্য কোন কাগজ ও দখল নাই, তাদের কোনপ্রকার সিএস ও এসএ রেকর্ড নাই। প্রকাশ থাকে যে ১৯৬২ সালে রেল কতৃপক্ষের পার্বতীপুরে আরোও অনেক হাজার একর সম্পত্তি রয়েছে যা তাদের নিজস্ব এবং এসএ রেকর্ডভুক্ত, অথচ তাদের কোন কাগজ না থাকায় টার্মিনালের সম্পত্তি ৬২র এসএ রেকর্ডভুক্ত করতে অদ্যাবধি সফল হন নাই,বরং রেল কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে শত শত মামলা চলছে যা বিচারাধীন রয়েছে এবং বিএস রেকর্ডে কোন সমাধান না হওয়ার জরিপ ( সেটেল্টম্যান্ট) অফিসে কাজের কোন অগ্রগতি নাই,নোটীশ পেয়েও রেল কতৃপক্ষ কাগজ না থাকার কারনে সেখানে মাসের পর মাস হাজিরা দিচ্ছেন না।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন একই সময়ে রেলের অবৈধ স্হাপনা হিসেবে চিহ্নিত মেইন শহরে
রেলওয়ের এক্লাস, বিক্লাস যা সিএস, এসএ, খতিয়ানভুক্ত বৈধ জমিতে অবৈধ স্হাপনা যুগ যুগ ধরে থাকলেও হঠাৎ মাঝপথে অসৎ রেল কানুনগো জিয়াউল হক ও উচ্ছেদ অভিযান প্রধান সহকারী সচিব জনাব নুরুজ্জামান সাহেব ব্যাপক অর্থের মাধ্যমে রাজী করায়ে মাঝপথে রেলের উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদিত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করে যা এলাকায় ব্যাপকভাবে সকলের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ? আর এই সবে পুর্ন সহযোগীতা করে লাভবান হয়েছেন স্হানীয় কিছু অবৈধ দখলদার, বিষয়টি তদন্তে জিজ্ঞাসা করলে জানা সম্ভবপর হবে।
আরও জানাযায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে যে নোটিস বা প্রচার করা হয় তার কোন স্বারক বা স্বাক্ষর নাই, কোন নোটিস সময়ের ৩/৪ ঘন্টা আগে করা হয়। রেল কানুনগো জিয়াউল হক বেশি ভাগ সময় রাতে অফিস করতে দেখা যায়।

গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর রেলের পাকশী বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান দেড় শতাধিক র‌্যাব-পুলিশ-জিআরপি-আরএনবি সদস্যের উপস্থিতিতে চারটি এক্সকাভেটরের সাহায্যে উচ্ছেদ অভিযানটি সিডিউল মতাবেক না করে রেল কানুনগো জিয়াউল হক এর দিক নির্দেশনায় পরিচালনা করেন।

রেল ভুমির স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছেদ অভিযান শুরুর পর প্রতি বর্গফুট বাণিজ্যিক জমির ইজারা হার কমানোর দাবি কমালে বৈধভাবেই ইজারা নেবেন জমি। উচ্ছেদ অভিযানের পর প্রায় চার হাজার ব্যক্তি ইজারার জন্য আবেদন করেছেন বলে পাকশী রেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

তাই সকলের কাছে প্রশ্ন রেল মন্ত্রি মহোদয় বিষয়গুলি আমলে নিয়ে জড়িত খারাপ দায়ীত্বপ্রাপ্ত ও অবৈধ কাজে জড়িত কর্মকর্তাদের শাস্তি প্রদানসহ অর্থ বানিজ্য বন্ধ করতে কতটা সহায় হবেন, সেটাই দেখার বিষয়?

তাই সৎ,সাহসি ও উত্তর বংগের অহংকার মাননীয় রেল মন্ত্রি মহোদয়ের কাছে পার্বতীপুরবাসী ও ক্ষতিগ্রস্হ জনগন আশু প্রার্থনা করছেন। #