টক অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট কুড়িগ্রাম “ডিসি সুলতানা পারভিন”

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : গতকাল বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম-ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে বিশাল এক জনসমাবেশে অভাবী ও মঙ্গা খ্যাত কুড়িগ্রাম জেলার ব্যাপক উন্নয়ন প্রসঙ্গে জেলাবাসীকে আশাবাদী করে তুলেন । এ সময় তিনি কুড়িগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চিলমারী বন্দর পুনরায় চালুসহ উত্তরাঞ্চলের ভাওয়াইয়া গানের প্রচার প্রসার এবং সংরক্ষণেও তাঁর সরকার এগিয়ে আসবে বলে উল্লেখ করেন ।

এছাড়াও কুড়িগ্রামের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে, বেকারত্ব দূরীকরণে, অভাবী, গৃহহীন মানুষের সার্বিক কল্যানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছেন।

গতকাল দেশের কয়েকটি জেলাতেই বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের শুভ উদ্বোধন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী । ময়মনসিংহের গফরগাঁও, মুন্সিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, রংপুর ও লামণিরহাটে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ”কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস” ট্রেন উদ্ভোধন পর্বটি ছিল দীর্ঘ, প্রাণবন্ত, অর্থবহ এবং আলোচিত। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের কথা ভাল লেগেছে বলে উল্লেখ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আবেগ উচ্ছসিত আগ্রহে এই অনুষ্ঠান থেকে ঐতিহ্যময় আব্বাস উদ্দিনের ভাওয়াইয়া গান শুনেছেন, ওকি গাড়িয়াল ভাই, হাকাও গাড়ী তুই চিলমারীর বন্দরের দিকে।

উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠান শেষে সমগ্র জেলায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভিন ”টক অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট” এ পরিণত হন। কুড়িগ্রাম জেলার হাটে, ঘাটে, মাঠে, রাজনৈতিক অঙ্গনে, চায়ের দোকানে এমনকি টেলিভিশন লাইভ প্রোগ্রামের কারণে গৃহিনীদের নিকট ডিসি সুলতানা পারভিন ছিলেন আলোচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় উঠেছে চৌকষ, মেধাবী, পরিশ্রমী এবং সাদামাটা এই জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিনের উপস্থাপনা ও কুড়িগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৌশলী আলাপচারিতা।

‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে’র উদ্বোধনকালে মন্ত্রী,সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, জেলাপরিষদ চেয়ারম্যান, সকল পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা, আওয়ামীলীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাধারণ জনতা সহ জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভিন।

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার সর্বস্তরের জনতা ও বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ”কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল সফল। কুড়িগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নিকট উপস্থাপিত জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভিনের মাধ্যমে উপস্থাপিত প্রস্তাবনা সমূহ কুড়িগ্রামের প্রাণের দাবী।

কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডল বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যানে, এলাকার উন্নয়নের জন্যে। গতকাল আমাদের কাজ সহজ করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিন। সূচনা বক্তব্যে মাননীয় রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন মহোদয় খুব চমৎকার ভাবে কুড়িগ্রামের মানুষের অনুভূতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট উপস্থাপন করতে পেরেছেন। তবে জেলা প্রশাসক স্বল্প সময়ে কুড়িগ্রামের প্রাণের দাবিগুলো অসম্ভব চৌকষতার সঙ্গে, আবেগীয় ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করে বেশিরভাগ দাবি আদায়ে সক্ষম হয়েছেন। জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিন এর আরো অনেক সুনিপুন, নান্দনিক কাজ আমাদের সকলের কাছে দৃশ্যমান। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, কুড়িগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার জন্যে।

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সি: সহ-সভাপতি, কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কুড়িগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের বক্তব্য আলোচিত, প্ৰশংসিত। কুড়িগ্রামে দলমত নির্বিশেষে ডিসি সুলতানা পারভিন কাজ করেন, সে জন্যে তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।

কুড়িগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম টুকু বলেন, কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভিন একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। কুড়িগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধারের জন্যে তাঁর উদ্যোগ ব্যতিক্রমী। ভিডিও কনফারেন্স এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর উপস্থাপনায় কুড়িগ্রামের সকল মুক্তিযোদ্ধা গর্বিত।

কুড়িগ্রাম জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক, পিপি, এডঃ আব্রাহাম লিংকন বলেন, গতকালের ভিডিও কনফারেন্সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সকল প্রতিশ্রুতিকে কৃজ্ঞতার সাথে ধন্যবাদ জানাই। সেই সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিন শুধু তাঁর দক্ষতা ও প্রজ্ঞায় নয়, অনেক কারণে তিনি কুড়িগ্রামে ইতিহাস হয়ে থাকবেন। গতকাল ডিসি সুলতানা পারভিনের উপস্থাপনা কুড়িগ্রামের উন্নয়নকে বেগবান করবে তিনি জানান। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ লোবান বলেন, কুড়িগ্রামের মাটি ও মানুষের অনুভূতি ব্যক্ত করতে পেরেছেন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিন মহোদয়।

একুশটি দেশ নিয়ে গঠিত বিশ্ব ভাওয়াইয়া পর্ষদের সভাপতি ও ভাওয়াইয়া একাডেমি, রংপুরের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সম্পাদক খ.ম আলী সম্রাট বলেন, আমি স্যালুট করি ডিসি সুলতানা পারভিনকে। এদেশের সকল ভাওয়াইয়া শিল্পী ও ভাওয়াইয়া প্রেমীদের মনের কথা তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট তুলে ধরেছেন। আমাদের বুক ভরে গেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও রূপসী বাংলার স্বত্বাধিকারী জিল্লুর রহমান চৌধুরী টিটু এ প্রসঙ্গে বলেন, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। সেই সঙ্গে কুড়িগ্রামের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছোট করতে চাইনা। গতকাল থেকে আজ সমগ্র জেলায় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সর্বস্তরের জনতা যে আলোচনা করছে, এটা অকল্পনীয় ও অভাবনীয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত, প্রশংসিত জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভিন।

সরকারী মীর ইসমাঈল হোসেন কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা নাজমুন নাহার বিউটি বলেন, আমাদের ডিসি সুলতানা পারভিন কুড়িগ্রাম ও কুড়িগ্রামের মানুষকে গতকাল অনেক সম্মানের জায়গায় তুলে ধরতে পেরেছেন। একজন নারী উদ্যোক্তা ও গৃহিনী হিসাবে জুলিয়া জুলকারনাইন রত্না বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিন একজন মহিলা হয়ে ধারাবাহিক ভাবে তাঁর সাফল্যে আমরা নারী সমাজ গর্বিতা।

এছাড়াও ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা ঢাকাস্থ কুড়িগ্রাম সমিতির মহাসচিব সাইদুল আবেদিন ডলার বলেন, সকল সাফল্যের মূল একটি বিষয় টিমওয়ার্ক ও কানেক্টিভিটি। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মহোদয়ের এই কোয়ালিটি আছে বিধায় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খুব চমৎকার ভাবে কুড়িগ্রামের মূল দাবিকে উপস্থাপন ও আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছেন।

কুড়িগ্রাম জেলার সিনিয়র সিটিজেন, পদস্থ এক সাবেক ব্যাংকার নুরুল হক বলেন, আমি গর্ববোধ করি, এমন মেধাবী ও অল রাউন্ডার একজন ডিসি কুড়িগ্রাম জেলার দায়িত্বে আছেন। ডিসির উপস্থাপনা, বাচনভঙ্গি, কৌশলী ও আবেগীয় আবেদনে লাভবান হবে কুড়িগ্রাম। আমরা তাঁর জন্যে প্রানভরে দোয়া করতে পারি।

কুড়িগ্রামে ” টক অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট” ডিসি সুলতানা পারভিনকে নিয়ে শুধু কুড়িগ্রামের নয়, এডমিন ক্যাডার সহ দেশের অনেক স্থানেই ব্যাপক আলোচনা পরিলক্ষিত হচ্ছে।