দিনাজপুর-পার্বতীপুর-ঢাকায় আন্তঃনগর ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়


মোঃ মোক্তারুজ্জামান মোক্তার : পশ্চিম যোনের পার্বতীপুর কেন্দ্রিক ঢাকাগ্মাী সব আন্ত ঃনগর ট্রেনগুলি উল্লাপাড়ার ট্রেন দুর্ঘটনার পর থেকে অস্বাভাবিক বিলম্বে যাতায়াত করছে। এদিকে ৭৯৭ আপ/৭৯৮ ডাউন আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাগামী যাত্রা গতকাল রবিবার বাতিল করা হয়েছে। উল্লেখিত ট্রেন ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম যাওয়ার পথে পার্বতীপুর রেল জংশন স্টেশনে পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় ভোর ৪ টা কিন্তু ওই ট্রেনটি ঢাকা থেকে পার্বতীপুর এসে পৌঁছে রবিবার ৪টা ৫০ মিনিটে ১২ ঘন্টারও বেশি বিলম্বে । একইভাবে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন পার্বতীপুর এসে পৌঁছে সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটের যায়গায় রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টায়। নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন পার্বতীপুর থেকে ঢাকা গেছে প্রায় ৫ ঘন্টা বিলম্বে। এ ট্রেনটি চিলাহাটি থেকে ছেড়ে এসে প্রতিদিন রাত ১১টা ১০ মিনিটে ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে যায় পার্বতীপুর থেকে। পঞ্চগড় থেকে পার্বতীপুর হয়ে ঢাকাগামী দ্রুতযান ও একতা এক্সপ্রেস ট্রেন বিলম্বে চরাচল করলেও তা সহনীয় পর্যায়ে বলে পার্বতীপুর রেল কর্তৃপক্ষ জানান। পঞ্চগড়-পার্বতীপুর-ঢাকার মধ্যে যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে ৩টি। এগুলো হচ্ছে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন, একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেন। কিন্তু ট্রেনের র‌্যাক রয়েছে ৪টি। এ কারণে বিলম্ব মেকাপ করা সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে চিলাহাটি-পার্বতীপুর-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী নীলসাগর ট্রেনের একটিমাত্র র‌্যাক হওয়ায় বন্ধের পরদিন ছাড়া এ ট্রেনের বিলম্ব মেকাপ করা সম্ভব হয়না।

এদিকে, ট্রেনগুলো অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে রেলের পশ্চিম যোনের পার্বতীপুর রেল জংশন স্টেশনের একটি সূত্র জানায়, লোকবল সংকটের কারণে ট্রেনগুলো বিলম্ব হচ্ছে এবং দূর্ঘটনার কারণও অনেকটা লোকবল সংকটের জন্য। এই সূত্রটি জানায়, বাংলাদেশ রেলে মোট স্টেশন আছে ৪৪৬টি। এর মধ্যে চালু আছে ৩৫৪টি। ১১২টি স্টেশন এখনও বন্ধ আছে। রেলওয়ে স্টেশন সমূহে স্টেশন মাষ্টার(এসএম) পদ আছে ১২০৫টি। কর্মরত আছেন ৭৫৬জন মাষ্টার। শুন্য পদ ৪৪৯টি। গার্ড (পরিচালক) পদে ঘাটতি রয়েছে ১৩১টি। গার্ড , এলএম, এএলএম ও স্টেশন মাষ্টার এই তিন পদে মঞ্জুরীকৃত পদসংখ্যা ৩৪৯৩ কিন্তু কর্মরত আছেন ২২৭৪জন। লোকবল ঘাটতি রয়েছে ১২১৯জন। লোকবল ঘাটতির কারণে প্রতিটি স্টেশনে, ট্রেনে কর্মরত ষ্টাফদেরকে মাত্রাতিরিক্ত সময় ডিউটি করতে হয়। এ কারণে দূর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে গেছে। রেলের একাধিক সূত্রে বলা হয়েছে একথা।

এদিকে দূর্ঘটনা ও ট্রেন বিলম্বের কারণ সম্পর্কে জানতে চেয়ে পশ্চিম রেলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, লালমনিরহাট রেল বিভাগের ডিআরএম ও ডিটিএস এর কাছে একাধিকবার মোবাইল করলেও এই তিন কর্মকর্তা মোবাইল রিসিভ না করায় তাদের ভাষ্য নেয়া সম্ভব হয়নি।